ব্রেকিং নিউজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় শিবিরের দখলে!

রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এখন অনেকটাই শিবিরের নিয়ন্ত্রনে।

অল্পো কিছু দিনের মধ্যেই তারা পুরো ক্যাম্পাস দখল করে ফেলবে বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে।

রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম তৌহিদ আল হোসেন তুহিন এবং সাংগাঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সাদ্দাম শিবিরের হামলায় আহত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নিস্ক্রিয় হয়ে পড়লে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

তবে প্রশাসনের ব্যাপক নজরদাড়িতে এবং শিবিরকে ছাড় না দেওয়ার নীতির কারণে প্রকাশ্য কোন কর্মসূচি দিতে পারছে না শিবিরের নেতা-কর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে শিবিরের বিপুল পরিমাণ নেতা-কর্মী অবস্থান করছে। ইতিমধ্যেই হল গুলোর এক তৃতীয়াংশ তারা তাদের দখলে নিয়ে নিয়েছে। নিয়ন্ত্রিত হল কক্ষগুলোতে গোপনে তারা তাদের সাংগাঠনিক কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে। হলের প্রায় প্রতিটি কড়্গের দরজায় বিভিন্ন স্থানেও কুরআন ও হাদিস সংবলিত বিভিন্ন ধরনের স্টিকার লাগিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে তারা তাদের ব্যানার লাগিয়েছে। বিভিন্ন ভবনের দেয়ালগুলোতে ছাত্রলীগকে হুমকি মুলক বিভিন্ন লেখালেখি করেছে।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তারা কখনো সংঘবদ্ধভাবে আবার কখনো এককভাইে ঘুরাফেরা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দোকানীর সাথে শিবির পরিচয় দিয়ে তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছে।

শুধু তাইনয়, দোকান গুলোতে কোন ছাত্রলীগ নেতা ফ্রি খাচ্ছে কিনা, আর যারা খাচ্ছে তারা কারা, ইতিপূর্বেও কে কে ফ্রি খেয়েছে তাদের তলিকা তৈরি করছে।

এছাড়াও ছাত্রলীগের হাতে কোন দোকানদার হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে কিনা, কিংবা কোন ছাত্রলীগ নেতার হাতে নির্যাতিত হচ্ছে কিনা তাও তারা পর্যাবেক্ষণ করছে।

তবে এসব শিবিরের প্রতি দোকানদারের কাছ থেকে নৈতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা বলে জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকান মালিক। হলে হলে গিয়েও তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করছে। তাদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিারও আশ্বাস দিচ্ছে তারা। এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যই তাদের সব কাজ বলে তাদেরকে জানান শিবির নেতারা।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ছাত্রলীগের কোন কোন নেতা-কর্মী এখনো হলে আছে তাদের খোজ খবর রাখছে শিবিরেরই একটা অংশ। যারা এখনো শিবির হিসেবে পরিচয় পায়নি। আর ছাত্রলীগ নেতাদের গোপন তথ্যগুলো দিচ্ছে ছাত্রলীগেরই একটা অংশ যারা শিবিরের সাথে লিয়াজু করে চলছে।

এরা শিবির নেতা-কর্মীদেরও হলে উঠতে সাহায্য করছে। তবে পুলিশি হয়রানি এড়াতে শিবিরের একটা অংশ কেন্দ্রীয় নির্দেশে এখনো হলের বাহিরে অবস্থান করছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। নির্দেশনা পেলে তারাও হলে উঠে যাবে বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিবির এক নেতা।

শিবিরের একটি সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার মেসে থাকলে বিভিন্ন সময় পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়াও হলের বাহিরে অবস্থান করলে সংগঠনের ডাকে সময়মতো সাড়া প্রদান করা সম্ভব হয়ে উঠে না। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিস্ক্রিয়তায় সাধারণ শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে তারা হলে অবস্থান নিয়েছে।

শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে তারা আপাতত প্রকাশ্যে বের হচ্ছেন না। তবে হলে থেকেই সক্রিয়ভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এখন হলে গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে তাদের আর বেগ পেতে হচ্ছে না। হল থেকে রাজশাহী শহরে গিয়েও হরতালসহ নানা সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করে নিরাপদে হলে ফিরছেন তারা।

অপরদিকে, ক্যাম্পাস এখন প্রায় ছাত্রলীগ শুন্য হয়ে পড়েছে। গত ২২ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল হাসান তুহিন ও ৮ অক্টোবর সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সাদ্দামের ওপর হামলা হওয়ার পর পরই নিজেদের নিরাপত্তার তাগিদে ছাত্রলীগের বেশিরভাগ নেতা-কর্মীরা হল ছেড়েছেন।

চলে যাওয়া নেতারা হলেন শের-ই বাংলা ফজলুল হক হলে অবস্থানকারী রাবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম হিমু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সালেহ তুষার ও উপ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন শিমুল, শাহ মখদুম হলের সভাপতি খলিলুর রহমান মামুন ও সাধারণ সম্পাদক হাসান শাহারিয়ার। অন্যান্য হলগুলোতেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছেন না। গত ২৯ আগষ্ট ঈদ ও পুজার ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খুললেও অনেক ছাত্রলীগ নেতা  এখন পর্যনত্ম ক্যাম্পাসে ফেরেনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম হিমু বলেন, বর্তমান অবস্থাটা ভাল নয়। শিবির কখন জঙ্গি হামলা চালায় কে জানে। তবে হলের বাহিরে থেকেও সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালানো যায়। ছাত্রলীগ এর আগেও সেই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা আশা করছি শিবিরের সব পরিকল্পনা নস্বাৎ করে দিয়ে আমারা ক্যাম্পাসে পূর্বের পরিবেশ ফিরিয়ে আনবো।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা দলীয় নেতা-কর্মীদের নিস্ক্রিয়তার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে আগের চেয়ে এখন বেশি সক্রিয়। শিবিরকে প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. তারিকুল হাসান হলে শিবির থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে তাদের (শিবির) কিছু র্সোস হলে অবস্থান করছে। তারা শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়াতে রাতের অন্ধকারে হলে বিভিন্ন ধরনে স্টিকার লাগাচ্ছে। তবে হল কর্তৃপড়্গকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আব্দুস সোবহান বলেন, ছদ্মবেশে শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে থাকতেই পারে। তবে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অনেক সচেতন রয়েছে। আমরা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখছি।

এস.এইচ.এম তরিকুল ইসলাম/

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইনজেকশন দেয়া গরু চিনবেন যেভাবে

ষ্টাফ রিপোর্টার ::ঈদুল আজহার আর মাত্র ক’দিন বাকি। ঈদুল আজহা মূলত মহান ...