ব্রেকিং নিউজ

রাজনৈতিক সহিংসতায় বগুড়ায় এক বছরে ১০৩ জন খুন

বগুড়া : আর মাত্র  এক দিন পর মহাকালের গর্ভে হারিয়ে  যাবে  ২০১৩  খ্রিস্টাব্দ। দিন পঞ্জিকার শেষ দিন।

পাতাটি উল্টে যাবে  রাত বারটার পর। হারিয়ে  যাবে একটি বছর ।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধাক সরকারের দাবি।

অন্য দিকে সংবিধান মেনে  নির্বাচন  ও যুদ্ধাপরাধের বিচার  সব কিছু মিলে  রাজনৈতিক সহিংসতা, হরতাল -অবরোধ চলতি বছর ছিল নানা কারণে আলোচিত।

এর মধ্যে দিয়েই এবছর বগুড়ায় ১০৩ টি  হত্যা কান্ড ঘটেছে।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, এর মধ্যে ১৫ জন খুন হয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতায়। আলোচিত বেশ কয়েকটি মামলার মুল আসামীরা গ্রেফতার হয় নি। রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে।

পুলিশের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, চলতি বছরে ১০৩ জনসহ গত চার বছরে বগুড়ায় খুন হয়েছে  চার শ’ ৫৫ জন। খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ রাজনীতিবীদ সবাই আতংকিত। বিশেষ করে চলতি  বছরে  কয়েকটি আলোচিত খুনের ঘটনায় খোদ সরকারি দলের নেতাকর্মীরাও  আতংকে রয়েছে। এসব খুনের মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে দলীয় নেতা কর্মীদের।

একের পর এক খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসীরাও  নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বগুড়ায় ২০০৯ সালে ৯৫ জন, ২০১০ সালে ৮২ জন ২০১১ সালে ৮৫ ও ২০১২ সালে ৯০ জন এবং ২০১৩ সালে ১০৩ জন  খুন হয়েছে। তবে দলীয় রাজনৈতিক নেতা কর্মী যারা খুন হয়েছে, পুলিশ বলছে এদের মধ্যে বেশীর ভাগ খুনের ঘটনায় এলাকায় আধিপত্য, টেন্ডার, ভাগবাটোয়ার, জায়গা দখল, বালু মহাল ইত্যাদি কারনে বেশী খুন হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে কোন কোন খুনের নেপথ্যে গড ফাদারদের হাত রয়েছে। পর্দার আড়াল থেকে তাদের গ্রীন সিগন্যালে কাজ হয়ে থাকে। গডফাদারা ড়্গমতাধর হওয়ায় তারা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে বগুড়ায় ভাড়াটিয়া কিলারগ্রম্নপ সক্রিয়। টাকার বিনিময়ে এসব কিলাররা খুন করে থাকে। বের্শীর ভাগ খুনিরা বয়সে কম।

সম্পতি ঘটে যাওয়া আলোচিত দু’টি  হত্যা গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক প্রভাষক জিয়া উদ্দিন জাকারিয়া ওরফে বাবু ও যুবদল নেতা ইমারান সেখ হত্যা মামলায় পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে পুলিশ বলছে রাজনৈতিক সংহিসতা নাশকতা ও অবরোধ হরতালের কারণে তারা আসামী গ্রেফতারে কিছুটা বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে।

নিহতদের পরিবার জানায়,খুনিদের অবস্থান পুলিশকে অবহিত করা হলেও কতিপয় অসাধু পুলিশের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের কাছে  খবরটি পৌছে যায়। এছাড়াও সন্ত্রাসীরা জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার  সন্ত্রাসী কাজে জড়িয়ে  পড়ছে।

সচতেন মহলের ধারনা রাজনৈতিক অস্থিরতা,ঘন ঘন হরতালসহ আইন শৃংখলা রক্ষার কাজে পুলিশ বেশী  ব্যসত্ম থাকায় সন্ত্রাসীরা এসুযোগে খুন জখমসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

রোববার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক পিপিএম বলেন, চলতি বছরে ১০৩ জন খুন হলেও এদের মধ্যে ১৫ জন  রাজনৈতিক সংহিসতায় খুন হয়েছে। (১৮ দলের হরতাল, অবরোধ,৩ মার্চসহ নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি) এছাড়াও দখল, ভাগবাটোয়ারা, নিজেদের মধ্যে কোন্দল, জায়গা নিয়ে বিরোধসহ নানা কারণে এসব খুনের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা জনগণের যান মাল রক্ষার্থে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছি।

তানসেন আলম/

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উত্তপ্ত ছিল দেশ

ঢাকা : বিদায় নিয়েছে ২০১৩ সাল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সদ্যবিদায় নেওয়া বছরটি ...