রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ, আগুন, ভাঙচুর

ঢাকা: ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের শেষদিন বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল, যানবাহনে আগুন, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এ সব ঘটনায় পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন আহত হয়েছে।
ভোর থেকে রাজধানীর মগবাজার, আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টার, তেজগাঁও,  মিরপুর, দারুস ছালাম, যাত্রাবাড়ী, দয়াগঞ্জ, দক্ষিণখান, শ্যামপুর, কদমতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
সকাল সাড়ে ৭টায় মুগদা পাড়ায় একটি গ্যারেজে থাকা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় দূর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস যাওয়ার আগেই ভ্যানের পিছন অংশ পুড়ে যায়। পরে আগুন নেভানো হয়।
সকাল সাড়ে ৮টায় বাড্ডার প্রগতি স্বরণী এলাকায় পুলিশের গাড়িতে হামলা করে অবরোধকারীরা। এ সময় পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লোকমান ও গাড়িচালক কনস্টেবল আজিজ আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় প্রগতি স্বরণী এলাকায় হঠাৎ লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা করে একদল যুবক। তারা পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ সদস্যরা নিরাপদে বের হয়ে গেলেও কনস্টেবল ও গাড়ি চালক আজিজকে আঘাত করে অবরোধকারীরা। পরে এএসআই লোকমানের ওপর হামলা করে তারা। খবর পেয়ে র‌্যাব ও পুলিশের অতিরিক্ত টিম ঘটনাস্থলে আসে।
সেখান থেকে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করে পুলিশ। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও রাজাজবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুপুর ১২টায় নয়াবাজার এলাকায় ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করে। এ সময় সেখানে ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এরআগে একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় অবরোধকারীরা। খবর পেয়ে বংশাল থানা পুলিশ অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে।
তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বাবু বাজার ব্রিজের গোড়ায় সকাল সাড়ে ১১টায় ৪টি, লক্ষ্মীবাজার মহিলা কলেজ রোডে বেলা ১২টার দিকে ৩টি ও সিদ্দিক বাজারে ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) আবুল হাসান জানান, দুপুরের দিকে অবরোধ সমর্থনে এক দল মানুষ ঝটিকা মিছিল বের করে পিকআপ ভ্যানে আগুন দেয় এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ফাঁকা গুলি করে।
তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরো জানান, বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটিস্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
দুপুর ১২টায় মিটফোর্ড এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় অবরোধ সমর্থকরা। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।
এরআগে ধোলাইখাল এলাকায় মিছিল করার চেষ্টার সময় কোতোয়ালি থানা যুবদল সম্পাদক আজিজুল হক রিয়াজ ও ৭২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সস্পাদক  নান্নু মিয়াকে আটক করে পুলিশ।
এ ছাড়া নারিন্দা এলাকা থেকে দুইজনকে আটক করা হয়।
এরআগে সূত্রপুরে ককটেল বিস্ফোরণে সূত্রাপুর থানার এক এএসআই আহত হয়েছে।
সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান জানান, রায়সায় বাজার মোড়ে তল্লাশির সময় একটি ব্যাগে থাকা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এএসআই শাহে আলম আহত হয়। কোনো অবরোধকারী এ ককটেল ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুপুর ১টায় শান্তিনগর মোড়ে অবরোধকারীরা একটি অটোরিকশায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় সেখানে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৮ থেকে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে।
তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
একই সময় হোটেল ওয়েস্টিনের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার :: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবপুর উপজেলার শিবনগর গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি ...