যে শ্রমের মূল্য শুধু ভালোবাসা

ছবিঃ প্রতিকী 

প্রতিকী ছবি

এম শরীফ আহমেদ :: শ্রমের মূল্যায়নের কথা উঠলেই আমরা কর্মক্ষেত্রের ৮ ঘণ্টা বেতন মাফিক কাজকেই বুঝি।হতে পারে তা দৈনিক হিসাবে বা মাসিক। অনেক সময় ত্রিমাসিক, বছরব্যাপীও এ হিসাব-নিকাশ হয়ে থাকে।তবে শতাব্দীও  যুগ-যুগান্তর পেরিয়েছে। কিন্তু সেই প্রচলিত ধারায় এখনো যে শ্রমটি বিরাজমান।

বর্তমান সময়েও বহাল ও জায়গা করে আছে তা হলো গৃহিণীদের সংসারপ্রেম। সম্পর্ক বা ভালোবাসার বিনিময়েই যে শ্রমের মূল্য।অথচ নেই যে পেশায় এক দিনেরও ছুটি।একটু অবসর বা পেনশনের নেই কোনো ব্যবস্থা।তবুও তারা একমনে তা করে যাচ্ছেন।এবং বলতে দ্বিধা নেই, এরা আসছেন বলেই এখনো পারিবারিক প্রথা প্রচলিত আছে।আছে ঘরে ফেরার সুখ।

আর এ নিয়েই কথা হয় মাত্র কয়েকজন গৃহিণীর সাথে।গৃহিণী নুরনাহার বেগম।পাঁচ সন্তানের মা।স্বামী সরকারি কর্মকর্তা ও পল্লী চিকিৎসক।নুরনাহার জানান,তাদের দাম্পত্য জীবনের বয়স এবার ২৫ পেরিয়ে যাবে।এই দীর্ঘ পথ চলায় তাকে এক হাতেই সামলাতে হয়েছে সংসার।স্বামীর অনুপস্থিতিতে বাজার করা,ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা,ঘর গৃহস্থালীর কাজ সব একার দায়িত্বেই দিতে হয়েছে সামাল।দুই হাতেই ঘরে-বাইরে যাবতীয় কাজ সারতে হয়।প্রাপ্তিতা এটুকু যে,৫ সন্তানই যথাযথ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে যাচ্ছে। তারা দেশ ও জাতির মঙ্গল বয়ে আনবে।

তাসলিমা বেগম। দুই সন্তানের মা। স্বামী প্রবাসী। দু-চার বছর পরপর ১ মাসের জন্য দেশে আসেন। প্রতি মাসে সংসার খরচ বাবদ পাঠান টাকা।কিন্তু তাসলিমার নিজস্ব যে একটা খরচ কতে পারে।স্বামী এ ব্যাপারে থাকেন নিরুত্তাপ।

তাসলিমা জানান, এ নিয়ে অনেক বাগি,তণ্ডা হয়েছে। স্বামী কৌশলে বারবারই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। উত্তরে শুধু শুনতে হয়েছে, তোমার সংসার, তোমার ছেলেমেয়ে।তোমার হাত দিয়েই তো সব খরচ করো। এখান থেকে নিজের জন্য কিছু বের করে নিও।

তাসলিমা আফসোস করে বলেন, তবুও বলে না আলাদাভাবে কিছু নিও।সন্তানরা বড় হচ্ছে। বাড়ছে ওদের খরচের পরিসর ও; দায়িত্ব,ব্যস্ততা। তিনি শুধু গোনা টাকা, মাঝে মধ্যে ফোনে কথা বলে দায়িত্ব সম্পন্ন করেন। সময় বের করে নিজে যে একটা কিছু করব তাও পারছি কই! সব দিক মিলিয়ে নিজেকেই দিতে হচ্ছে ছাড়।সে হোক আর্থিক, মানসিক শারীরিক সব বিষয়েই। শুধু পারিবারিক সুখ,সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের চিন্তা মাথায় রেখে সকাল ৬টা থেকে মধ্যরাত অবদি নিরলস পরিশ্রম করে যাওয়া এই মা।

এ বিষয়ে ভোলার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও উপস্থাপক তালহা তালুকদার (বাঁধন) এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, খেয়াল করলে দেখা যায় যে প্রায়ই ইলেট্রনিক ও নিউজ মিডিয়ায় এ বিষয়টি ওঠে আসছে।গৃহিণীদের গৃহকর্মের মূল্যবোধে সে গান তুলছে পুরুষরাও। কারণ এদের মা,বোন, মেয়েও তো একজন নারী, যাদের প্রতি সমবেদনা আছে।আছে অকৃত্রিম ভালোবাসা, দায়িত্ববোধও।আসল কথা হচ্ছে, দিন দিনই এ দায়িত্ববোধের প্রতি মানুষ সচেতন হচ্ছেন।স্ত্রীর কাজে হাত লাগাচ্ছেন।তাকে বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। মাস শেষে সংসার খরচের পাশাপাশি হাতে দিচ্ছেন পছন্দনীয় উপহার, কিছু টাকা।বছরে একবার কেউ কেউ যান পারিবারিক সফরেও যা গৃহিণীদের মানসিকভাবে যেমন ভালো রাখে নিত্যদিনের একঘেঁয়েমি ঘুচিয়ে চলার পথকে আনন্দদায়ক করে।

লেখক: তরুণ লেখক ও সাংবাদিক, ভোলা। journalistshorif@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

হুমায়ূন আহমেদ?

কতটা অতীত হুমায়ূন আহমেদ?

আরিফ চৌধুরী শুভ :: প্রতিটি ভোরে সূর্য ওঠে স্বপ্ন নিয়ে। প্রতিটি দিনে ...