যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেপ্তার না করলে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হতো না: আইজিপি

আইজিপিখোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি :: শরীয়তপুর জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনার উদ্বোধন উপলক্ষে সুধী সমাবেশে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, বিপিএম, পিপিএম রোববার (২১ জানুয়ারী) বিকাল ৩টায় শরীয়তপুর পুলিশ লাইন্স মাঠে বলেছেন, ‘সময়মত যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেপ্তার না করতে পারলে তাদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হতো না। আপরাধীরা সৌদি আরব পালিয়ে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত।’ যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা পুলিশের একটা অন্যতম সাফল্য।

এ সময় তিনি আরও বরেন, ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারী চাকুরীতে যোগদান করে অদ্যবধি পদোন্নতির জন্য কোন সুপারিশ করিনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে দায়িত্ব পালন করেছি। আমাকে আইজিপি বানানোর জন্য উপরে মহান আল্লাহ এবং জমিনে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান রয়েছে। আইজিপি পদের জন্য অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। আমি বিচলিত হইনি বা প্রধানমন্ত্রীকে সুপারিশও করিনি। তবে আত্মবিশ্বাস ছিল একমাত্র আমিই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করি। আইজিপি পদে আমিই পদন্নতি পাব।

তিনি বলেন, আইজিপি হওয়ার পরে ৩ বছর ১ মাস দায়িত্ব পালন করেছি। হলি অর্টিজনে জঙ্গি হামলার পর বিদেশী বায়াররা দেশ ছেড়ে চলে যায়। পুলিশের ৬০টি জঙ্গি বিরোধী অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গি নির্মূল করাও পুলিশের আরও একটি সফলতা। আজ বিদেশীরা দেশে আসা শুরু করেছে। পুনরায় অর্থনিতী চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে, ব্যাবসায়ীরা শান্তিপুর্ণ ব্যাবসা করছে, স্কুল কলেছের ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাভাবিক পড়াশুনা করছে। এ সাফল্যও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর।

তিনি আরও বলেন, সুযোগ থাকলে মানুষের জন্য কিছু করতে হয়। আমার সুযোগ ছিল তাই এলাকাবাসী ও দেশবাসীর জন্য কিছু করতে পেরেছি।
দুপুর দেড়টায় তিনি সহকারী পুলিশ সুপার গোসাইরহাট সার্কেল ও নড়িয়া সার্কেল বাস ভবন কাম অফিস, নারী পুলিশ ব্র্যাক, সদর উপজেলার সন্তোষপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, চিকন্দী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র উদ্বোধণ করেন। এর পূর্বে সকাল ১১ টায় গোসাইরহাট উপজেলার হাটুরিয়া পুশিল তদন্ত কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।

পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে আরও বক্তব রাখেন, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, শরীয়তপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, শরীয়তপুর পৌর মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট সুলতান মাহমুদ সীমন, জাজিরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের মহাসচিব আলাউদ্দিন মিয়া, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি নুর মোহাম্মদ কোতোয়াল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আ. রাজ্জাক সরদার, নড়িয়া পৌর মেয়র শহীদুল ইসলাম বাবু রাড়ী প্রমূখ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শতকোটি টাকার মালিক সেই মুচি জসিমকে গ্রেপ্তার

ষ্টাফ রিপোর্টার :: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, মৌচাকসহ আশপাশের এক আতঙ্কের নাম ...