ব্রেকিং নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রেকে ভয় দেখিয়ে কেউ নিরাপদে থাকতে পারবে না: ওবামা

বাংলা প্রেসওয়াশিংটন থেকে:

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রেকে ভয় দেখিয়ে কেউ নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে থাকতে পারবে না। তারা যেখানেই থাক, সেখান থেকে বের করে এনে উপযুক্ত শাস্তি দিব।

নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ওবামা এসব কথা বলেন ।

ওবামা আরও বলেন এ যুদ্ধ হবে আরও নির্মম ও কঠিন।  জিহাদি বলে পরিচয় দেওয়া আইএসের যোদ্ধাদের নির্মূল করতে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালাবেন বলে জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে ইরাকে সেনা অভিযানও জোরদার করবেন তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি বিদেশের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যুদ্ধ শুরু করার পরিকল্পনা ও কৌশলের কথা তুলে ধরেন।

চার দফা কৌশল পরিকল্পনার মধ্যে ইরাকি সেনাবাহিনীকে সরাসরি সামরিক সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া আইএসের হামলায় যেসব বেসামরিক মানুষজন ঘরছাড়া হয়েছে তাদের জন্য আরো মানবিক সহায়তা বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি। ইসলামিক স্টেটকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন এই সংগঠনকে পরাস্ত করার জন্য একটি জোট গঠন করা হবে।

এই কর্মকৌশল কার্যকর করতে একটি জোট গঠনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া ও ইরাকে ইসলামিক স্টেটকে প্রতিহত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রম নিয়ে এগুচ্ছে বলে ওবামার বক্তৃতায় মনে হয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা ইতিমধ্যেই দখল করে নিয়েছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট।

সিরিয়ার শহর রাকায় তারা একধরনের সরকারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে বলে জানা যাচ্ছে। সেখানকার প্রশাসন কার্যক্রম চালানো সহ নতুন কর্মকর্তাও নিয়োগ দিচ্ছে জঙ্গি সংগঠনটি। মার্কিন দুই সাংবাদিক সহ বিরোধী পক্ষের মানুষজনকে শিরোচ্ছেদ করে হত্যার মতো কার্যক্রমের জন্য ব্যাপক নিন্দিত হয়েছে ইসলামিক স্টেট। আইএসকে রুখতে প্রথম ধাপের অভিযানের অংশ হিসেবে ইরাকে জঙ্গি অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

গত মাসে ইরাকে আইএসের অবস্থানে অন্তত ১৪৫ বার বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং মার্কিন কূটনীতিক, গোয়েন্দা, সামরিক সদস্য ও স্থাপনা রক্ষায় ওই হামলা চালানো হয়। এটা বেশ কাজেও দিয়েছে। ইরাকের পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে অনেকটাই পিছু হটেছে আইএস।

যুক্তরাষ্ট্র আইএসবিরোধী দ্বিতীয় ধাপের অভিযান শুরু হবে ইরাকে সরকার গঠনের পর পরই। চলতি সপ্তাহেই দেশটিতে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকার গঠিত হলে ইরাকি বাহিনী, কুর্দি যোদ্ধা ও উপজাতি কিছু গোষ্ঠীর প্রতি মার্কিন সামরিক সহায়তা বাড়ানো হবে। সেই সহায়তা হবে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করে। আইএসবিরোধী তৃতীয় ও সর্বশেষ ধাপের অভিযান হবে সবচেয়ে কঠিন। এই অভিযান রাজনৈতিকভাবেও বিতর্কিত হবে।

এই ধাপে সিরিয়ার অভ্যন্তরে আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। আইএসবিরোধী তিন ধাপের অভিযান কমপক্ষে তিন বছর চলবে।

ভাষনদান কালে ওবামাকে বেশ গম্ভীর দেখা যায়। তিনি বলেন, সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি কোনো দ্বিধা করব না।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

স্টাফ রিপোর্টার :: রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ...