যায় দিন ভালো আর আসে দিন খারাপ

বোরহান উদ্দিন বোরহান উদ্দিন :: আচ্ছা, আমাদের দেশে ১৪-১৯ বছরের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা কি বড় কোন শিল্পপতি, সিনেমা তৈরির কারিগর, বিশেষ কোন বিষয়ে দক্ষ (সেটা হতে পারে সফটওয়্যার কিংবা গেমিং বিষয়ে), মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ ইত্যাদি ইত্যাদি হতে পারবে বা হতে পারছে কি? আমাদের দেশের এই বয়সের ছেলে-মেয়েরা কোন একটা বিষয়েও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারে নাই? আমি নিজেও পারি নাই। প্রশ্ন, তাহলে এরা পারে না কেন কিংবা পারে টা কি?

উত্তর আপনার জানা, ১৪-১৯ বছর বয়সে তারা এসএসসি এবং এইচএসসি পাশ করে অনেক কিছু অর্জনের ভাব নিয়ে বসে থাকে। আর বাবা-মাদের তো গর্বের শেষ নাই, তাদের সন্তান জিপিএ ৫ পেয়েছে। এটা দেখে আমার দাদি মার একটা কথা মনে পড়ে যায়, যখন মোবাইল ফোন নতুন নতুন বাজারে আসে তখন আমি কিনতে চাইলাম। দাম অনেক বেশি তাই বাড়ি এসে দাদিকে বলি; দাদি বলে, “দেখিস এক দিন মোবাইল রাস্তাঘাটে বিক্রয় হবে” তাই হচ্ছে। আমি এসএসসি, এইচএসসি এবং বিবিএ কিংবা এমবিএ পাশদের বলছি, শিক্ষার হার বাড়ছে কিন্তু মান বাড়ছে না এবং সেই হারে কর্মক্ষেত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তাই তোমাদের শুরু টা করতে হবে ১৪-১৯ থেকে। অভিভাবকদেরও তাদের ছেলে-মেয়েদের ইচ্ছার প্রাধান্য দিতে হবে।

বহিঃ বিশ্বে ১৪-১৯ বছর বয়সে বড় বড় গায়ক বা অভিনেতা কিংবা সিনেমা তৈরির কারিগর-চিত্র বা ফটো শিল্পী। যাদের এ বয়সে ছবি প্রদর্শিত হয়; অর্জন করে সম্মান আর গৌরব। অনেকে এই বয়সেই হাইস্কুল কম্পলিট করে ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ পায়। অনেকে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে পুরোদমে ব্যবসায়ী। এই বয়েসেই তারা মাসে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করে।

আর আমাদের দেশে কি হচ্ছে? আমাদের দেশের তারা শিক্ষা জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কারণ শিক্ষাই জাতীর মেরুদন্ড। এই বয়সে সব পরীক্ষায় সব সাবজেক্টে সৃজনশীল পরীক্ষা দিয়ে থাকে। আর হয়ে গেলো সৃজনশীল ম্যান। আরে বাবা সৃজনশীল কি এতই সোজা? বই পড়ে আর মুখাস্থ বিদ্য দিয়ে সৃজনশীল হওয়া এত সহজ নয়। যত টা সহজ মনে হয়। আমার কাছে মনে এই সৃজনশীল ইস্যুতে ঘরে ঘরে যেদিন আগুন জ্বলাবে, সেদিন আর কিছু থাকেনা।

অবশ্য সৃজনশীল নামে প্রতি বছর হাজার শিক্ষার্থী বের হচ্ছে আর জীবনে কোন গতি না পেয়ে হতাশ হয়ে জঙ্গির খাতায় নাম লিখছে। এমন কি ভালো ফলাফল করতে না পেরে আত্নহত্যা করছে। এই কথা শুনা বা দৃশ্য দেখার জন্য কি বাবা-মা তার বুকের মানিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঁঠায়। না হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষাই নিলো কিন্তু প্রকৃত মানুষ হয় কয় জন। আমরা এমনো দেখি অনেক বড় মাপের শিক্ষিত ব্যক্তি তার বাবা-মা কে বৃদ্ধাশ্রমে রাখে আসলো। শিক্ষার তো কমতি ছিলো না, তাবে নৈতিক শিক্ষা কমতির দায় কে নিবে?

লাইনে আসি, আমাদের দেশে এই বয়সে কিছু করার চিন্তা মানে ভিনগ্রহে বাস করা মত। ধরেন, কেউ পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করবে। ব্যাংকে গেলে তাকে কত কি জামানতনামা দিতে হবে তার তালিকা নাই। পারলে ওনারা তার জীবন টা জামানত রাখে। সরকারের কথা নাই বা বলাম। নিজের পরিবারের সবাইও তার হাল ছেড়ে দেয়। স্কুলের শিক্ষক বলে তুই গোল্লা চলে যাচ্ছিস; আগামীকাল তোর বাবা-মাকে আসতে বলিস। ওই শিক্ষার্থী হয়তো পড়াশুনাই ভালো না। কিন্তু অন্য দিক তার ভীষণ  ভালো। সেটা কি আমরা খুঁজে বের করতে পারলাম; না কি তাকে টিসি দিলাম। “থ্রি ইডিয়ট’স” “আমার বন্ধু রাসেদ” কিংবা “দিপু নাম্বার টু” এই মুভি গুলা থেকে চাইলে অনেক কিছু শিক্ষা নেওয়া যায়। এই বয়সে শুধু ফেসবুকিং আর সিগারেট ফুঁকে তারপর এক বয়সে এসে হতাশ হয়ে নেশার জগতে প্রবেশ করে লাইফটা নষ্ট করে দেয়। এমন টা আমরা কখনো আশা করি না। এই বয়সে মানুষের জন্য কিছু করার উৎসাহ দিতে হবে। মানবতার জন্য কাজ বা মানুষের জন্য কাজ করলে নিজের মধ্যে খুশি মিলে।

“যাই দিন ভালো আর এসে দিন খারাপ” তোমার যা ইচ্ছে তা এই বয়স থেকে শুরু কর। তাহলে তুমি ২৭ বছর বয়সে নাম করা বিজনেস ম্যান হবে। আর যদি ২৭ শে শুরু করলে ৪২ বছরে সফল উদ্যোক্তা। বাবা-মাদের বলছি, আপনার সন্তান ভবিষ্যৎ কি হতে চায়, তা তার হাতে ছেড়ে দিন। তা না হলে একদিন এর মূল্য আপনাদেরও দিতে হবে।

আর গণমাধ্যমেকে বলছি, প্রতি বছর বছর ফলাফল লাল কালি দিয়ে না লেখি, কেউ যদি নতুন কিছু তৈরি করে তারটা মোটা আর লাল কালি দিয়ে হোড লাইন করুন। এই জাতী আপনাদের কাছ থেকে সামনের দিকে পথ দেখবার কিছু রাস্তা আশা করে।

 

 

 

লেখক: সমাজ উন্নয়ন কর্মী ও সংগঠক।  borhan.2012@yahoo.com

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘এবি’

‘এবি’র বিদায়

স্টাফ রিপোর্টার :: ‘সেই তুমি, কেন এতো অচেনা হলে’, ‘চলো বদলে যাই’, ...