ম্যাডাম, তোষামোদি আর দাসত্বে কোন তফাৎ নেই

ম্যাডাম, তোষামোদি আর দাসত্বে কোন তফাৎ নেই

INDIA-BANGLADESH-POLITICS-DIPLOMACY

রবীন্দ্র নাথ পাল :: আমাদের প্রায় সব টিভি চ্যানেলে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার হয় ফেয়ার এন্ড লাভলীর। বাবা ও মেয়ের সেই সংলাপে সমান-সমান হবার প্রত্যয় দেখা যায় মেয়ের কণ্ঠে। আসলে সমান সমান না হলে বন্ধুত্ব হয় না। সম্পর্কে উচু-নীচু হলে পারিবারিক অশান্তি নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা।

তারপরও সমাজে অসম প্রেম-বিয়ে, ভালবাসা বন্ধুত্ব হচ্ছে এবং সে বন্ধুত্ব টিকে আছে, সে বিয়েও টিকে আছে। সব ক্ষেত্রেই যে সমান সমান হতে হবে এমন কথা নেই। তার পরও সমান-সমান হলে কিছুটা ভাল।

আমাদের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনেক সময় এমন কথা বলেন, যা শুনলে কিছুটা অবাক হতে হয়।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু-দিনের জন্য বাংলাদেশ সফর করেছেন। বেগম জিয়া প্রটোকলে না পড়লেও অনেক দেন দরবার করে মোদীর সাথে একান্তে স্বাক্ষাৎ করে কথা বলেছেন। বৈঠক আন্তরিক পরিবেশে সন্তোষ জনক আলোচনা হয়েছে বলে ভারতীয় একটি দৈনিকে স্বাক্ষাৎকার ও দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া।

মোদীর সাথে বৈঠকের পর পরই ভারতীয় সাংবাদিক সৌরভ সান্নালের সাথে একান্ত স্বাক্ষাৎকারে বেগম জিয়া বলেন, ২০১৩ সনে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সাথে দেখা করার বিষয়টি তাকে হত্যার হুমকীর কারণে বাতিল করেন। তার বিরোধীরা জামায়াতকে ফাঁসাতে এ পরিকল্পনা করেছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। এটা অনেকটা আষাঢ়ে গল্পের মত।

বেগম জিয়া তার দেয়া স্বাক্ষাৎকারে বলেন, মোদীর সাথে আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আমি খুবই সন্তুষ্ট। আমার ধারণা বেগম জিয়া মোদীজির কাছে শুধু নালিশই করেননি, একান্তে অনেক কথাই বলেছেন, যা আমজনতার জানার অধিকার নেই। আমার বিশ্বাস বেগম জিয়া যাই বলুন দেশের মঙ্গলের জন্যই বলেছেন।

সম্প্রতি ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবিদের সাথে বৈঠকে বলেছেন সমানে সমানে বন্ধুত্ব হয়, তা না হলে হয় দাসত্ব। ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার আগে উপযুক্ত ফি নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছেন তিনি।

বেগম জিয়া যে সমানে সমানে বন্ধুত্ব, নয়তো দাসত্ব বলে যে কথা বলেছেন, তা মহাজোট সরকারের সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরে ২২টি সমঝোতা ও চুক্তিকে ইঙ্গিত করেই বলেছেন নিঃসন্দেহে। আমরা কোন অসম চুক্তি চাই না। সরকার এমন কোন চুক্তি বা সমঝোতা করুক যেখানে আমাদের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশী হয় তা কেউ চাইবে না।

ভারতের সাথে বন্ধুত্বের জন্য বেগম জিয়ার দল বিএনপি ভারতে ব্যাপক লবিং করে মোদীর সাথে তার স্বাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন। মোদীর সাথে বেগম জিয়ার বৈঠক এমন অনিশ্চয়তা ছিল যে সফরের আগের দিন ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব জয়শংকর সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা দেন। ভারতের সাথে বন্ধুত্বের জন্যই বেগম জিয়া লবিং করে শেষ মূহুর্তে স্বাক্ষাৎ পান। ভারত বিশাল দেশ, আয়তনে, লোক সংখ্যা, প্রবৃদ্বি, শিল্পায়ন, বিশ্ব রাজনীতিতে মুরোলীপনা থেকে শুরু করে সবদিক থেকে আমাদের চেয়ে বড় এবং উন্নত নিঃসন্দেহে।

যদি ভারতের সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করতে হয়, তবে এসব মাথায় রেখেই সরকারী দল, বিরোধী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে এগিয়ে যেতে হবে। হামভরা ভাব নিয়ে আমি কি হনুরে ভাবলে বেগম জিয়ার দল এত তোষামোদী করে নরেন্দ্র মোদীর সাথে দেখা পেতেন না। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীকে যেমন ঠুনকো অজুহাতে দেখা করা থেকে বিরত ছিলেন, মোদীর বেলায় ও তা ঘটতো। নরেন্দ্র মোদীর সাথে বেগম জিয়ার স্বাক্ষাৎ এ মোদী যে ৩টি প্রশ্ন করেছিলেন, এতেই বেগম জিয়ার বোধদয় হবার কথা।

কিন্তু বিশ্ব পরিমান্ডলে ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য মাথা ব্যথার কারণ। সুপার পাওয়ার ভারত এ অঞ্চলে শক্তির নিয়ামক তার প্রমাণ মিয়ানমারে ঢুঁকে জঙ্গী ঘাটিতে হামলা করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। সুতরাং বেগম জিয়া সমানে সমানে হয় বন্ধুত্ব, তা না হলে দাসত্ব।

এখন প্রশ্ন বেগম জিয়ার কি মোদীকে তার সমতুল্য মনে করে বন্ধুত্বের দাবীতে স্বাক্ষাৎ করেছেন, নাকি তোষামোদ করে মোদীজির সাথে ১০/২০ মিনিটের স্বাক্ষাৎ করে বুঝে ফেলেছেন, মোদী কি বলতে চেয়েছেন। সমান হবার জন্য সব ধরণের যোগ্যতা লাগে। অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থার পরামর্শে চললে কি হাল হয়, ওয়ান ইলেভেনের পর তার চেয়ে বেশী কেউ ভাল বুঝবেন না-এটাই কি সত্য না।

২১/৬/১৫

লেখক: বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আজকের বাংলাদেশ, ময়মনসিংহ,  মোবাইল-০১৭১৩৮১৯২৯৪

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এএইচএম নোমান

সত্তর’র ভয়াল ১২ নভেম্বর: ধ্বংস থেকে সৃষ্টি

এএইচএম নোমান :: ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর গভীর রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা ...