মৌলভীবাজার জেলার সকল সরকারি চিকিৎসক অনির্দ্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছে: বিপাকে রোগিরা

সজল দেব,মৌলভীবাজার

দায়িত্বে ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে এক চিকিৎসকে সাজা প্রদান করায় আটককৃত চিকিৎসকের নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে মৌলভীবাজারের সব সরকারি হাসপাতাল ও হেলথ কমপ্লেক্সে শুক্রবার সকাল থেকে অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট আহবান করে কর্মবিরতি পালন করছেন জেলার সরকারি চিকিৎসকরা । ফলে রোগিদের ভোগানি- চরম আকার ধারন করেছে।

সরকারি দায়িত্ব পালনে ফাঁকি দিয়ে মেডিকেল অফিসার মাহমুদুল আহমেদ নামে এক চিকিৎসক গত বৃহস্পতিবার দূপুরে মৌলভীবাজার শহরের দি ল্যাব এইড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে রোগীদেরকে ব্যবস’াপত্র দিচ্ছিলেন। এই অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল কুদ্দুছ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে চিকিৎসক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আসাদুর রহমানকে এক মাসের সাজা প্রদান করেন। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে  চিকিৎসকে শাসি- প্রদান করায় চিকিৎসকরা এই ধর্মঘটের আহবান করেন বলে জানা গেছে। এতে গরীব অসহায় জটিল রোগে আক্রান- রোগিরা বেশী বিপাকে পড়েছেন।

জানা যায়, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়ন হেলথ কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল আহমেদ গত বৃহস্পতিবার তার কর্মস’লে না গিয়ে মৌলভীবাজার শহরের শ্রীমঙ্গল সড়কের দি ল্যাব এইড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগীদের ব্যবস’াপত্র দিচ্ছিলেন। ভ্রাম্যমান আদালত তা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে সরকারি কাজে ফাঁকি দেওয়া অভিযোগে তাকে ও সংশ্লিষ্ট ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ম্যানেজারকে এক মাসের সাজা দেন। এরপর মডেল থানা পুলিশ চিকিৎসককে হাতকড়া লাগিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করে। ওই দিন সন্ধ্যায় বিএমএ মৌলভীবাজার জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এক জরুরী সভায় বসে অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য সরকারি হাসপাতাল ও হেলথ কমপ্লেক্সে ধর্মঘটের আহবান করেন। শুক্রবার সকাল থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়। তবে জরুরী বিভাগে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে বলে জানান বিএমএ কর্তৃপক্ষ।

ব্যাপারে তিনি জেলা প্রশাসককে ফোনে বলেছেন কোন আইনের বলে সাজা প্রাপ্ত চিকিৎসকের মুক্তির ব্যবস’া করা যায় কিনা তা ভেবে দেখার জন্য। অন্যদিকে রোগিদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে কেমন করে ধর্মঘট প্রত্যাহার করানো যায় তা নিয়ে চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা করছেন বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান কেউ যাতে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করতে না পারে সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করবে।

জেলা প্রশাসক মোস-াফিজুর রহমান বলেন, হাসপাতালে সাধারন মানুষের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে ভ্রাম্যমান আদালতের এ ধরনের অভিযান পরিচালনা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। চিকিৎসকরা জনসেবায় নিবেদিত আমার বিশ্বাস তারা রোগিদের দূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তারা দ্রুত ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন। এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন মহোদয়ের সাথে কথা বলবেন বলে তিনি জানান।সর্ব শেষ তথ্যে জানা গেছে শুক্রবার রাত৮টার দিকে সাজা প্রাপ্ত ডাক্তার মাহমুদুল আহমদ অতিরিক্তি জেলা ম্যাজিষ্ট্যট আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মহিলা ও শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন

নতুন মহিলা ও শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার :: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ...