মোটা হলে কত বছর আয়ু কমে?

মোটা হলেইউনাইটেড নিউজ ডেস্ক ::  ভুঁড়ি বের হওয়ায় বাইরে গেলেই মানুষের ঠাট্টা-মশকরা। কেউ পরামর্শ দেয় নিয়মিত ব্যায়াম করুন। কেউ বলে খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিন। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়ামও যেন রুখতে পারছে না আপনার মোটাতাজা হওয়ার গতি। চিন্তায় আপনার ঘুম হারাম। আপনার জন্য আছে আরও একটি দুঃসংবাদ।

আপনি যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মোটা বা ওজনদার মানুষ হন, কিংবা অতিকায় মোটা হন তাহলে গড় আয়ু কমে যেতে পারে ৮ বছর পর্যন্ত। এ ছাড়া আপনি বঞ্চিত হতে পারেন কমপক্ষে ১৯ বছরের সুস্থ জীবন থেকে।
গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটা মানুষের ১৯ বছর সুস্থ জীবন থেকে বঞ্চিত থাকার কারণ হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো নানা ব্যাধি।
প্রতিবেদনে এতসব অসুবিধা থেকে রেহাই পেতে মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ ও নিয়মিত ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে একটি গাণিতিক মডেলে চালানো এই গবেষণা মুটিয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা রোগীদের যথাযথ পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন দিতে চিকিৎসকদের সহায়তাকরবে। এমনটাই আশা করছেন গবেষক দলের সদস্যরা।

তাদের মতে, বিশেষ করে যারা তরুণ বয়সেই অস্বাভাবিকভাবে মুটিয়ে যান তাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ সবচেয়ে বেশি। গবেষকদের সদস্য কানাডার মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইপিডেমিওলজির (মহামারিতত্ত্ব) অধ্যাপক স্টিভেন গ্রোভার বলেন, ‘মানুষের গঠন আকৃতিটা পরিষ্কার।

কোনো তরুণের ওজন যত বাড়বে, সেটা তার স্বাস্থ্যে ততটাই বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তাদের সামনে অনেক বছর। সে সময়টায় মুটিয়ে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাবে তাদের নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হতে পারে।’

অধ্যাপক স্টিভেন গ্রোভারের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল তাদের গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ স্বাস্থ্য প্রকল্প ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন একজামিনেশন সার্ভে থেকে তথ্য নিয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় বিভিন্ন ওজনের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের অকালমৃত্যু ও অসুস্থতার ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়।

এ কাজে কয়েক বছরে তারা পর্যবেক্ষণ করেছে কয়েক হাজার মানুষকে। এক্ষেত্রে তারা বেশি ওজনদার ও মোটা মানুষদের সঙ্গে স্বাভাবিক ওজনের মানুষদের গড় আয়ুও তুলনা করেছে। তারা হিসাব করে বের করেছে প্রত্যেক মানুষ গড়ে কত বছর পর্যন্ত সুস্থ থাকতে পারে। সুস্থ বলতে এখানে প্রধানত বোঝানো হয়েছে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত থাকাকে।

কারণ মূলত, স্থূলতা বা মুটিয়ে যাওয়ার সঙ্গে রয়েছে এ দুটি রোগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এ ক্ষেত্রে হিসাবে আনা হয়েছে শুধু ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী মানুষদের।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নারীদের। ২০ থেকে ৩৯ বছরের অতিকায় নারীরা থাকেন সুস্থ জীবন কমার বড় ঝুঁকিতে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম ঝুঁকি ৬০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী মোটা পুরুষদের। প্রকৃত পক্ষে তাদের মতো বয়সে সুস্থ না থাকাটাই স্বাভাবিক।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ থেকে ২০১০ সালের জরিপের তথ্য কাজে লাগানো হয়েছে এ গবেষণায়। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি জরিপ চালিয়েছে ৪ হাজার শ্বেতাঙ্গ মানুষের ওপর। যাদের ব্লাড সুগার ও স্বাস্থ্যগত খুঁটিনাটি তথ্য সবকিছুই ছিল জানা।

তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটিতে মোটা মানুষদের সাবধান করে বলা হয়েছে, এ সতর্কতাকে তাদের দেখতে হবে অতি রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে। কারণ গবেষণায় মাত্র হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস মুটিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ দুটি রোগের ওপরই আলোকপাত করা হয়েছে। যদিও ক্রনিক স্থূলতা বা অতিকায় হওয়ার সঙ্গে ক্যান্সার, শ্বাসরোগ এবং লিভার ও কিডনি রোগেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মহিলা ও শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন

নতুন মহিলা ও শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার :: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ...