মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ: জেলেদের মুখে হাসি, সাধারণ মানুষের নাগালে

মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ: সাধারণ মানুষের নাগালেজহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর হাসি ফুটেছে মেঘনা পাড়ের জেলেদের মুখে। নদীতে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ। ইলিশ ধরাকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীর গোটা উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার জেলে পরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন আড়তদারসহ মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

মাছ ঘাট গুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অসংখ্য নারী পুরুষ দেখে মনে হয়, যেন এক জনস্রোত। যে জনস্রোত মূলত ইলিশ কেনার জন্য। দাম কম হওয়ায় সব সময় ভিড় থাকে ক্রেতাদের, তাই জেলার বৃহত্তম মতিরহাট মাছ ঘাট ও আলেকজান্ডার মাছ ঘাটে জোয়ার-ভাটার তালে তালে ২৪ ঘন্টাই কেনাবেচা চলে ইলিশের।

ঘাটের ব্যবসায়ীরা জানান, কিছুটা দেরীতে হলেও নদীতে এখন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। এখন ৫‘শ গ্রাম সাইজের প্রতি হালি (৪টি) ইলিশের দাম ৬-৭‘শ টাকায়, ১কেজি সাইজের প্রতি হালি ২৫-২৮‘শ টাকায়, জাটকার কেজি ১৩০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অক্টোবর মাস থেকেই ২৪ দিনের জন্য ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। তাই এ সুযোগে যে যা পারছে ইলিশ কিনে মজুদ করছে। দাম নাগালে থাকায় ইলিশ কিনে খুশী সাধারণ মানুষ।

লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর, রামগতি ও রায়পুর উপজেলার মেঘনাপাড়ের সব কয়টি ঘাটে ইলিশ বেচা-কিনায় ক্রেতা-বিক্রেতার আগমনে মূখরিত থাকে ঘাট। সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট, কমলনগর উপজেলার মতিরহাট, বাত্তিরঘাট, কটরিয়া, লুধুয়া-ফলকন, রামগতি উপজেলার রামগতি ঘাট, টাংকীর ঘাট, আলেকজান্ডার সেন্টার খাল, রায়পুরের চরবংশী এবং চর আবাবিলের ঘাটে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হয়।

আবার লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছোট-বড় প্রায় ৩০টি মাছঘাটে জেলেরা মাছ বিক্রি করছেন। মেঘনা নদীর মাছের ওপর নির্ভরশীল জেলের সংখ্যা প্রায় এক লাখ হবে বলে দাবী জেলে সম্প্রদায়ের।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, মেঘনা উপকূলীয় লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের জেলেরা বর্তমানে ব্যস্ততার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কিছুদিন আগে নদীতে ইলিশের আকালের পর এখন জেলেরা নদীতে ইলিশ ধরা নিয়ে ব্যস্ত। জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় তাদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। ইলিশের ঘাটগুলোতে ইলিশ মাছ আহরণ ও বাজার জাতকরণের সাথে জড়িত মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের উপকূলের হাজার হাজার জেলে এবং ব্যবসায়ীরা ব্যস্ততার মধ্যে দিন পার করছেন। সেই সাথে বরফকল ও আড়তের শ্রমিকরাও অনেক ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

মজুচৌধুরীর হাট মাছ ঘাটের জেলে হারুণ মাঝির সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, নদীতে অহন মেলা মাছ, আল্লাহ হারাবছর এরম রাখলে আমাগো আর অভাব থাকবো না।

এখানকার আড়তদার ইয়াকুব আলী ব্যাপারী জানান, মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় আনন্দের কমতি নেই। এভাবে চলতে থাকলে সবার ভাগ্য বদলে যাবে। বর্তমানে মাছের দর উঠা-নামা করছে। মৎস ব্যবসায়ী ও জেলেদের আশা, নদীতে এভাবে ইলিশ ধরা পড়লে লাভের মুখ দেখতে পাবেন তারা।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মহিব উল্যা জানান, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা, জাটকা সংরক্ষণ ও জেলেদের পূণবার্সনসহ মৎস্য অধিদফতরের বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের কারনে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। জাটকা আহরণ পুরোপুরি বন্ধ করা গেলে ইলিশের সেই সোনালী দিন আবার ফিরে আসবে।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ষ্টাফ রিপোর্টার ::  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতের অব্যাহত সাহায্য এবং ...