মেঘনার ভাংগন রোধ: শংকা ও বাস্তবতা

লেখক: সারোয়ার মিরন

মেঘনার করাল গ্রাস থেকে রামগতি ও কমলনগরকে রক্ষাকল্পে একনেকের সভায় ১৯৮কোটি ২লক্ষ টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে এ মাসের শুরুতে। দুই বছরেরও অধিক সময় ধরে দোদুল্যমান থাকা এ প্রকল্পটি অবশেষে আলোর মুখ দেখলো।

মেঘনার তীব্র ভাংগনের শিকার রামগতি ও কমলনগরের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের মনেও আশার প্রদীপ জ্বলেছে। আল্লাহর অশেষ কৃপায় পাঁচ হাজারেরও বেশি ভাংগন হুমকির মুখে থাকা পরিবার গুলোর দীর্ঘ দিনের মনো বাসনা পুর্ন হতে যাচ্ছে।

প্রকল্পটি দীর্ঘ দিন যাবত বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের টেবিলে বাক্স বন্দি হয়ে থাকলেও দেখভাল করার মতো কেউ ছিলো না। অবশেষে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবদুল্লাহ এটি দেখভাল করার দায়িত্ব নেন। একই সাথে সাপ্তাহ তিনেকের ব্যবধানে দুজন পুর্ন মন্ত্রী এবং একজন প্রতি মন্ত্রীকে রামগতিতে সফর করান।

উল্লিখিত তিন পক্ষের সমন্বয় এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একনেকের সভায় ভাংগন রোধের প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। এজন্য মোঃ আবদুল্লাহ, যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল হক মাহমুদকে রামগতি কমলনগরের সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

সুত্র মতে, প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে জুলাই’১৪ আর শেষ হবে জুন’১৯-এ। তার মানে পাঁচ বছরের দীর্ঘ সময় ধরে চলমান থাকবে এ প্রকল্পের কাজ। সাধারন ভাবে ধরে নিতে পারি টেন্ডার, অর্থ বরাদ্ধসহ প্রসাশনিক কাজ গুলো সম্পন্ন করতে মাস দুয়েকের মতো সময় লেগে যাবে। কাজ হবে বেশ কয়েকটি পর্যায়ে। এখন হবে প্রথম পর্যায়ের কাজ। চলবে পাঁচ বছর ধরে।

এখানে বলে রাখা ভালো, ইতিপুর্বে মাননীয় পানি সম্পদ মন্ত্রীর সফর ও তাতক্ষনিক ভাবে আলেকজান্ডার টু সোনাপুর আঞ্চলিক মহা সড়ক এবং রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জরুরী ভিত্তিতে রক্ষার জন্য বরাদ্ধ দেয়া ৫০লক্ষ টাকার কাজটির অভিজ্ঞতা কিন্তু সুখকর নয়। সংসদ সদস্য মোঃ আবদুল্লাহ কাজটি করিয়েছেন নিজ দলীয় স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে। এরই মধ্য ঐ কাজে ৭০শতাংশ টাকার লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক পত্র পত্রিকা এ বিষয়ে নিউজও করেছে।

সুতরাও আসন্ন প্রায় দুইশত কোটি টাকার কাজ নিয়েও আমরা শংকিত। পুর্নাঙ্গ কাজ সঠিক ভাবে হবে তো? নাকি পানি উন্নয়ন বোর্ড এর সহায়তায় আবারো লুটপাটের পসরা খুলবে কতিপয় নেতারা??

এ অঞ্চলের সংসদ সদস্য শিল্পপতি মোঃ আবদুল্লাহ’র কাছে আমাদের একমাত্র চাওয়া আসন্ন কাজটি যেন সরাসরি তিনি তত্ত্ববধান করেন। কঠোর হস্তে যেন দুর্নীতি রুখে দেন। সরাসরি তত্ত্বাবধান সম্ভব না হলে আন্তর্জাতিক কোন ঠিকাদারকে দিয়ে প্রকল্পের কাজটি করান। কেননা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে ইতিপুর্বে করা কাজের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এমপি মহোদয় নিজে কাজটি তদারকি করলেই তবেই পুর্নাঙ্গ কাজটি সঠিক ভাবে সম্পন্ন করা হবে বলে বিশ্বাস করি। অন্যথায় কোনভাবেই সম্ভব হবেনা।

আবার বাহিরের কাউকে দিয়ে কাজ করালে স্থানীয় কিংবা জেলা পর্যায়ের কোন নেতা বা প্রতিষ্ঠান যেন ঠিকাদারের কাছে মাসোয়ারা বা উপটৌকন না চাইতে পারে সেদিকেও মাননীয় সংসদ সদস্যের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এছাড়াও সঠিক স্থানে এবং আপদকালীন ঝুঁকিপুর্ন স্থান প্রাধান্য দিয়ে কাজটি করানোর দায়িত্বটাও তিনি নেবেন।

এ ব্যাপারে কোনরুপ স্বজনপ্রীতি বা এলাকাপ্রীতি না করার বিষয়ে সজাগ হবেন বলে মনে করি। খুব খুশি হবো যদি সম্ভব হয় কাজটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দিয়ে করানোর সমুহ চেষ্টা করেন তিনি।

রামগতি কমলনগরের প্রতিটি নাগরিক, সাংবাধিক, অনলাইন এক্টিভিস্ট, নাগরিক সমাজ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সকলের কাছে একান্ত আহবান, বিগত দিন গুলোতে ভাংগন কাজ বিষয়ে যেমন আপনারা সচেতন ছিলেন বড় এ কাজটির শেষ হওয়া পর্যন্ত সচেতন ও সজাগ থাকবেন। এ কাজ এবং বিপুল বরাদ্ধ আমাদের জীবন মরন। সুতরাও ধূলিকনা পরিমান দুর্নীতি হলেও সবাই একসাথে সোচ্চার হবেন। সব সময় চোখ কান খোলা রাখবেন। নিয়মিত খোঁজ খবর রাখবেন। মনে রাখবেন এ বরাদ্ধই প্রথম এবং শেষ।

নদী ভাংগন রোধ বিষয়ে আন্দোলনরত সংগঠন গুলোর উদ্দেশ্য আহবান থাকবে, বরাদ্ধ পাওয়া মানে আন্দোলন শেষ নয় বরং শুরু। পরিপুর্ন এবং দুর্নীতিমুক্ত শতভাগ কাজ আদায় করা পর্যন্তই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আর যে সব সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে মেঘনার ভাংগন দুর্দশা নিয়ে কলম চালিয়ে যাচ্ছেন সবাই প্রকল্পের কাজ ঘিরেও অব্যাহত রাখবেন।

এতোদিনের সংগ্রাম ছিলো বরাদ্ধ পাওয়া নিয়ে। এখন বড় ধরনের বরাদ্ধ হলো। সময় এবার কাজ কড়ায়গন্ডায় বুঝে নেবার। শীঘ্রই বরাদ্ধ পাওয়া অর্থের কাজ ও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হোক এটাই রামগতি কমলনগরের তিন লক্ষাধিক মানুষের একান্ত চাওয়া। রামগতি কমলনগর বাঁচলে, আমরাও বাঁচবো।

 

লেখক: সারোয়ার মিরন, ওয়ার্ডঃ ৯, রামগতি পৌরসভা, লক্ষ্মীপুর। মোবাইলঃ ০১৮১৯ ০২১৯১৪

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Tahmina Shilpi 01

আশ্রয় নয় নির্ভরতা চাই

আশ্রয় নয় নির্ভরতা চাই। না মানে ঠিক নির্ভরতা নয়, ভরসা চাই। না, ...