মিষ্টির দামে কিনতে হচ্ছে কাগজের ঠোঙা মাটির পাত্র

মিষ্টির দামে কিনতে হচ্ছে কাগজের ঠোঙা মাটির পাত্র

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :: মিষ্টির দামে কিনতে হচ্ছে কাগজের ঠোঙা আর পোড়া মাটির পাত্র। মিষ্টি বা দই বিক্রির ক্ষেত্রে কাগজের ঠোঙা আর মাটির পাত্রের ব্যবহার দীর্ঘ কালে ধরে চলে আসছে। কিন’ কিছু সুচতুর ব্যবসায়ী পাত্রের ব্যবহারে এনেছেন ভিন্নতা।

আর প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি, কাশিমনগর, আগড়ঘাটা, গদাইপুর, নতুন হাট, গড়ইখালি, মৌখালি, কাটাখালি, বাঁকা, রাড়-লি, জিরো পয়েণ্ট ও পৌর সদর সহ আশেপাশে বিভিন্ন বাজার থেকে মিষ্টি ক্রয় করে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা। বেশি মুনাফার আশায় মিষ্টির প্যাকেট প্রয়োজনের তুলনায় অধিক কাগজ ব্যবহার করে ওজন বৃদ্ধি করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিষ্টি ক্রেতাকে ১টি প্যাকেট কিনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৬০ টাকা দিয়ে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় শতাধিক মিষ্টির দোকান রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দোকানে ২/৩ প্রকার মিষ্টি প্যাকেট রাখছেন। যার ওজন ১০০ গ্রাম থেকে শুরু করে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত। আর মিষ্টির দামে কিনতে হচ্ছে প্যাকেট। ভারী এ প্যাকেটে মিষ্টি বিক্রি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে সাধারণ ক্রেতাদের সাথে। আরো জানা যায়, ২/৩ প্রকারের প্যাকেট রাখায় ক্রেতা সহজে প্রতারণা ধরতে পারছেন না।

প্যাকেট তৈরি প্রতিষ্ঠান গুলোর সাথে গোপন চুক্তির মাধ্যমে প্যাকেট গুলো বানিয়ে নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। একজন ক্রেতা সাধারণত ১ কেজি মিষ্টি কিনে পাচ্ছেন ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম মিষ্টি। অন্য দিকে একজন ক্রেতা নিজের অজান্তে ১৫০/১৭০ থেকে ২৫০/৩০০ টাকা কেনা মিষ্টির সাথে একই দামে কিনে নিচ্ছে কাগজের তৈরি মিষ্টির প্যাকেট। ১ কেজি মিষ্টি ২০০ টাকা হলে ২০০ গ্রাম ওজনের ১টি মিষ্টি প্যাকেটের দাম পড়ে ৪০ টাকা। ২০০ টাকার মিষ্টির সাথে ১টি প্যাকেট ৪০ টাকায় কিনে প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতারা।

অন্যদিকে দোকান থেকে ১ কেজি দই কিনে পাচ্ছেন সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম দই। আবার একজন ক্রেতা নিজের সরল বিশ্বাসে ১৩০/১৫০ থেকে ২০০/২৫০ টাকা কেনা দইএর সাথে একই দামে কিনে নিচ্ছে পোড়া মাটির তৈরি দই রাখার পাত্র (পাতিল, টাটি-ঘট)। ১ কেজি দই ১৩০ টাকা হলে ৩০০ গ্রাম ওজনের ১টি পোড়া মাটির পাতিলের দাম পড়ে ৩৯ টাকা। ২০০ টাকার দই এর সাথে ১টি পোড়া মাটির পাত্র ৬০ টাকায় কিনছেন ক্রেতা। নাম না প্রকাশে শর্তে পাইকগাছা পৌর সদরের এক মিষ্টি ব্যবসায়ী এ প্রতারণার কথা স্বীকার করে বলেন, সব ব্যবসায়ী এক রকম নয়।

তবে একটু আর্ধটু সবাই করলেও সামান্য কিছু অতি লোভী মিষ্টি ব্যবসায়ীর কারণে সকল ব্যবসায়ী অভিযুক্ত হচ্ছে। পাইকগাছা জিরো পয়েন্টের মা মিষ্টান্ন ভান্ডার এর মালিক মো. ইউনুস মোড়ল জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে কম দামে নিম্নমানের মিষ্টি বিক্রির পাশাপাশি এমন প্রতারণা করে থাকে। বিশেষ করে বাস, ও পরিবহনের যাত্রীদের কাছে মিষ্টি বিক্রয়ের সময় এরকম প্রতারণা বেশি হয়। আমরা দীর্ঘদিন প্রায় ১০ বছর যাবত মিষ্টির ব্যবসা করে আসছি। আমাদের কোনো ক্রেতা আজ পর্যন্ত এমন প্রতারণার স্বীকার হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

গদাইপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. বাদশা মিয়া জানান, বাজার থেকে সাধারণ মানের ১ কেজি মিষ্টি কিনলে ২০ থেকে ২২ টি মিষ্টি পাওয়া যায়। তবে এক দিন ১ কেজি মিষ্টি কিনে বাড়ীতে গিয়ে দেখি ১৪ টি মিষ্টি রয়েছে। সন্দেহ বশত মিষ্টির প্যাকেট হাতে নিয়ে দেখি যে, মিষ্টি প্যাকেটের ওজন হবে ১ পোয়ার (প্রায় ৩০০ গ্রাম) বেশি। তিনি আরো জানান, প্রশাসন একটু ভূমিকা রাখলে এ প্রতারক ব্যবসায়ীদের প্রতারণা বন্ধ করা কঠিন ব্যাপার হবে না।

উপজেলার বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি বাজারের কয়েক জন ব্যবসায়ী জানান মিষ্টি বিক্রি করতে দেশে প্রায় সব জায়গায় কাগজের প্যাকেট ও মাটির পাত্র ব্যবহার হচ্ছে। তবে কিছু কিছু অতিলোভি ব্যবসায়ী এমন প্রতারণা করছেন বলে স্বীকার করেন। প্যাকেট তৈরীর কয়েকজন কারিগর জানান মিষ্ঠি ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ি প্যাকেট তৈরী করে সরবরাহ করি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা ১৮ ডিসেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার :: আগামী মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ...