ব্রেকিং নিউজ ❯
Home / জাতীয় / মানবতাবিরোধী অপরাধ : কিশোরগঞ্জের ২ ‘রাজাকারের’ মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধ : কিশোরগঞ্জের ২ ‘রাজাকারের’ মৃত্যুদণ্ড

কিশোরগঞ্জের সৈয়দ মো. হুসাইন ও মোসলেম প্রধানের বিরুদ্ধে একাত্তরের  মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ বুধবার বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন।
এই দুই আসামির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, অপহরণ ও নির্যাতনের ৬ অভিযোগ রয়েছে।
মোসলেম প্রধান গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকলেও মো. হোসেন পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত ৭ মার্চ ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।
আদালত মামলাটি সিএভি রাখার পর প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেছিলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে মোসলেম প্রধানকে তিনটি ও সৈয়দ হোসেনকে ৬টি অভিযোগেই অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই মামলায় আমরা ধর্ষণ ও ধর্মান্তকরণকে গণহত্যার সমতুল্য হিসেবে ঘোষণার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আর্জি জানিয়েছি। সে জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সংঘটিত বিভিন্ন বিচারের নজির তুলে ধরেছি।’
এই দু’জন রাজাকার ছিলেন না দাবি করে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, মোসলেম প্রধান একজন কৃষক এবং সৈয়দ মো. হোসেন পুলিশে কর্মরত ছিলেন। আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। এ জন্য আমরা আদালতে তাদের খালাস চেয়েছি।
২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হুসাইনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়। ওই অভিযোগ তদন্তকালে মোসলেম প্রধানের নাম আসে। ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ২০১৫ সালের ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কামারহাটি গ্রাম থেকে মোসলেমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর দু’জনের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে মোট ৪৭ জনকে।
গত বছরের ৯ মে মাবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করলে বিচার শুরু হয়।
সৈয়দ মোসলেহ উদ্দিন ও সৈয়দা ফাতেমা বানুর ছেলে মো. হুসাইনের জন্ম ১৯৫১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। তার স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাছিহাতা হলেও তার সর্বশেষ বর্তমান ঠিকানা ছিল ঢাকার খিলক্ষেতের পিংক সিটির ৬ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বাড়ি। তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কিশোরগঞ্জের হয়বতনগরে থাকতেন বলে প্রসিকিউশনের তথ্য।
হুসাইন কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ থেকে ১৯৬৯ সালে এসএসসি ও ১৯৭৫ সালে বিএ পাস করেন।  মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মতাদর্শ গ্রহণ করেন।
ওই সময় নিকলী থানা এলাকায় ‘রাজাকার দারোগা’ হিসেবে পরিচিত হুসাইন কিশোরগঞ্জ মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেন বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। তিনি ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সৈয়দ মো. হাসান ওরফে হাছেন আলীর ছোটভাই।
১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের নিকলি থানার কামারহাটি গ্রামে মোসলেমের জন্ম। তার বাবা লাভু শেখ ও মা রেজিয়া আখতার। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই; তবে অক্ষরজ্ঞান আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিকলি ইউনিয়নের রাজাকার কমান্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেন বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ।
মোসলেম পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।
ছয় অভিযোগ
>> মামলার প্রথম অভিযোগে বলা হয়, একাত্তর সালের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিকলীর দামপাড়া গ্রাম ও নিকলী থানা ভবন, সদরের মহাশশ্মান এলাকায় আসামী হোসেন ছয় নারীকে ধর্ষণ, সুধীর সূত্রধরসহ ৩৫ জনকে হত্যা ও বাদল বর্মনসহ চার জনকে নির্যাতন করে।
>> দ্বিতীয় অভিযোগটি দু’জনের বিরুদ্ধেই। এই অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ২ সেপ্টম্বর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে সৈয়দ হোসেন ও মোসলেম প্রধানের নেতৃত্বে নিকলী বাজার ও থানা কম্পাউন্ড এলাকায় কাশেম আলীসহ চারজনকে আটক ও নির্যাতন করা হয়।
>> তৃতীয় অভিযোগে নিকলীর গুরুই গ্রামের পূর্বপাড়ায় ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ফুল মিয়াসহ ২৬ জনকে হত্যা এবং আড়াইশ বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগের উল্লেখ আছে।
>> চতুর্থ অভিযোগটি হোসেনের বিরুদ্ধে। এতে বলা হয়েছে, একাত্তর সালের ২১ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিকলীর নানশ্রী গ্রামে তোফাজ্জল খান জিতুসহ সাতজনকে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়।
>> পঞ্চম অভিযোগ হোসেন ও মোসলেম দু’জনের বিরুদ্ধেই। এ অভিযোগ অনুযায়ী, একাত্তর সালের ১০ অক্টোবর নিকলী সদরের পূর্বগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুল মালেককে তার নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়।
>> ষষ্ঠ অভিযোগে উল্লেখ আছে, ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সাতটা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল জাহান ও মো. সেলিমকে হত্যা করে তাদের মৃতদেহ রাজাকার হোসেন কিশোরগঞ্জ পৌরসদর, প্যারাভাঙা ও শোলাকিয়ায় রিকশা দিয়ে ঘুরানো ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল জাহানের মাকে তার ছেলের রক্ত দেখিয়ে বীভৎসতার প্রমাণ রেখেছিলেন।
http://www.unitednews24.com/wp-content/uploads/2016/08/Untitled-1-copy-1.jpg

About sanjit-un24

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সনজিত কর্মকার। ২০১০ সালে মার্চ মাসে ছোট্ট একটি পরিসরে ইউনাইটেড নিউজ ২৪.কম যাত্রা শুরু করে। আজ ৭ বছর অতিবাহিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*