মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভাবনা বাতুলতা মাত্র

রবীন্দ্র নাথ পাল::

image_986_280388বিগত ৫ই জানুয়ারী’১৪ইং জাতীয় সংসদনির্বাচন বানচাল করতে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোট ব্যাপক হাঙ্গামা করে ব্যর্থ হবার পর ১৫ইংসনে জানুয়ারীতে আবারো লাগাতার হরতাল,বাসে আগুন, চোরাগুপ্তা হামলা,ট্রেনের ফিস প্লেট খুলে আতংক সৃষ্টি সহ হেন কোন কাজ নেই যা তারা করেনি। কিন্তু কাজের কিছুই হলোনা। নিহত হলো,দগ্ধ হলো শতশত সাধারন মানুষ। ৩ মাস লাগাতার হরতাল অবরোধ দিয়ে দলীয় কর্মীদের শত শত মামলায় জড়িয়ে রনে ভঙ্গ দিয়ে আন্দোলনে পিছুটান দেয় বিএনপি-জামায়াত জোট।

গত ৫ই জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশে ৩ দিনের সফরে এলে বেগম জিয়া নানাভাবে তদবির করে মোদীর সাক্ষাৎ পান। বেগম জিয়া ও মোদীর মধ্যে আলোচনার বিষয়বস্তু ইতিমধ্যে সংবাদপত্রের কল্যানে মোটামুটি সবাই জেনে গেছে। যে

উদ্দেশ্যে নিয়ে বেগম জিয়া মোদীর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, আপাতত তা ব্যার্থ বলেই মনে হচ্ছে। যেচে মোদীর সাথে বেগম জিয়া সাক্ষাৎ করায় তার রাজনৈতিক মিত্র জামায়াত বেশ ক্ষুব্ধ হলেও বিএনপি’র সঙ্গ ত্যাগ করেনি। মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের শীর্ষনেতারা বিচারের সন্মুখিন হলেও তাদের মিত্র বিএনপি মুখে কুলুপ এটেছে। শোনাযায়, বিএনপি’র একটি অংশ জামায়াতকে ছাড়ার জন্য বিএনপি চাপ দিচ্ছে। তারপরেও ভোটের হিসাব কষতে জামায়াতকে ছাড়তে রাজী নয় বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব। নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ ছাড়ার পর হঠাৎ করেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের একটি আভাস বিএনপি জোট দেশে চাউর করে।দলীয়

কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতেই বিএনপি জামায়াত জোটের এই কুট কৌশল। এনিয়ে বেশ ক’দিন রাজনৈতিক অঙ্গনে কথা চালাচালি হলেও হালে এ সংবাদ হালে পানি পায়নি। যার জন্য ইফতার রাজনীতিতে বেগম জিয়া বার বার নির্বাচন দাবী করছে। ছোটখাট হুমকী দিচ্ছে।।ঈদের দিন দলীয় নেতা কর্মী ও বিদেশী কুটনিতিক দের স্বাক্ষাৎ শেষে আবারো দল গুছিয়ে শানিত্মপুর্ন আন্দোলনের কর্মসুচী দেযার ঘোষনা দিয়েছেন বেগম জিয়া। এদিকে তার দলের বড়-ছোট নেতারা যে হামলা-মামলায় পর্যুদসত্ম হয়ে ঘরের কোনে পালিয়ে থাকছে, সেদিকে তার খেয়াল নেই। সুতরাং হুমকী ধামকী দিয়ে মহাজোটকে দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবী আদায় করা যাবে সে রকম সম্ভাবনা আপাতত নেই। রাজনীতিতে বিএনপি’র যতনা গ্রহণযোগ্যতা তার চেয়ে বেশী ভারত বিরোধিতা এ দেশের একটি গোষ্ঠীর কাছে বেশী গ্রহনযোগ্য। এদের পাকিসত্মান প্রীতি এতটাই যে ভারতের কোন ভাল কাজকেও তাদের নজরে আসে না।১৯৭১এ দীর্ঘ নয় মাসের

মুক্তিযুদ্ধ তাদের কাছে আজো গন্ডগোলের বছর। একটি মুক্তিযুদ্ধকে

ছাড়া গন্ডগোলের বছর বলে তারা যে এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না -এটাই সত্য।

সমপ্রতি মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে যে কথা হচ্ছে, আদতেও তা বাসত্মবে পরিণত হওয়ার কোন লক্ষন নেই। আর বিএনপি-জামায়াত জোটের যে রাজনৈতিক শক্তি আছে,তা দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচন আদায় করা সম্ভব হবে বলে মনে হয়না। কারণ বিএনপি নেতারাই বলাবলি করছে এই বিএনপি দিয়ে কিছু হবে না। জিয়ার বিএনপি

দরকার। এখন জামায়াতের সমর্থন পুষ্ট বিএনপি। আমি একথার সাথে একমত নই,এ কারনে যে জেনারেল জিয়াই এ দেশে জামায়াত মুসলিম লীগকে রাজনীতিতে এনেছে ৭৫ এ। কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজুর রহমান,আ:আলিমকে মন্ত্রী পরিষদে ঠাই দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে স্বাধীন দেশে রাজনীতিতে স্বাগতম জানিয়েছে।সংবিধান সংশোধন করেছে। সুতরাং আমরা যারা সাধারন মানুষ তারা এটুকু বুঝি হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে বিএনপি জামায়াত জোট মধ্যবর্তী নির্বাচন আদায় করার মত শক্তি ও সমর্থন তাদের আপাতত নেই। আর দাতা গোষ্ঠী বা আই এস আই বিএনপি-জামায়াতকে আপাতত নির্বাচন আদায় করার এবং ক্ষমতায় বসানোর শক্তি সঞ্চয় করতে পারবে বলে মনে হয়না। সুতরাং এ মুহুর্তে বিএনপি যদি দল গোছানোর কাজ এগিয়ে রাখে এবং সরকারের ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে সামনে এগুলে আগামী নির্বাচনে কিছুটা সুফল পেতে পারে। দেশের জনগন এখন ভারত জিকির বিশ্বাস করেনা। তেমনি বিশ্বাস করেনা আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে ফেনীর পর ভারত হয়ে যাবে। আর বাংলাদেশ সিকিম ভুটান হয়ে যাবে।

রবীন্দ্র নাথ পাল,বার্তা সম্পাদক,দৈনিক আজকের বাংলাদেশ

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আরিফ চৌধুরী শুভ

বই পড়ার মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৬০ পয়সা!

আরিফ চৌধুরী শুভ :: একুশ শতকের গ্রন্থাগার এখন আর কেবল জ্ঞানের সংগ্রহশালাই নয়, ...