ভোজ্য তেলে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

চলতি বছরের মধ্যে প্রায় দশ কোটি শিশু, কিশোর এবং গর্ভবতী নারীকে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ ভোজ্য তেলের আওতায় আনা হবে। �বাংলাদেশের ভোজ্য তেলে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধকরণ� শীর্ষক জাতীয় কর্মসূচির আওতায় এ কাজ বাস্তবায়ন করবে সরকার।

দেশের শিশু-কিশোর ও গর্ভবতী মহিলাদের ভিটামিন-এ ঘাটতিজনিত রোগবালাই দূর করার লক্ষ্যে সরকার ইউনিসেফের সহায়তায় ভোজ্য তেলে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং গ্লোবাল অ্যালাইয়েন্স ফর ইম্প্রুড নিউট্রেশন-এর সহায়তায় শিল্প মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে �বাংলাদেশের ভোজ্য তেলে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধকরণ� শীর্ষক জাতীয় কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়�য়া এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্পসমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সুস্থ-সবল জনগোষ্ঠির প্রয়োজন। সরকার ভোজ্য তেলে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ করে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠিকে ভিটামিন-এ ঘাটতিজনিত রোগবালাই থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিএসটিআই�র সহায়তায় কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির মাধ্যমে ভোজ্য তেলে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে গৃহিত �বাংলাদেশের ভোজ্য তেলে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধকরণ� শীর্ষক জাতীয় কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভিটামিন এ ঘাটতির ফলে বাংলাদেশের শিশু-কিশোর ও নারীরা রাতকানাসহ বিভিন্ন রোগের শিকার। বিশেষ করে, গ্রামীণ গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মহিলাদের ভিটামিন-এ�র অভাবের ফলে শিশুরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারানো, অন্ধত্বসহ মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি চারজন প্রাক স্কুলগামী শিশুর মধ্যে অন্তত একজন ভিটামিন-এ ঘাটতিজনিত রোগে ভুগছে বলে বক্তারা জানান। বাংলাদেশের শতকরা ২ দশমিক ৭ ভাগ গর্ভবতী মহিলা ও ২ দশমিক ৪ ভাগ দুগ্ধদানকারী মহিলা রাতাকানা রোগে ভুগছে বলে উল্লেখ করে তারা ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এর প্রতিরোধে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ ভোজ্য তেলের ব্যাপক প্রসারের সুপারিশ করেন।

জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল ভোজ্য পাম অয়েল ও সয়াবিন তেল রিফাইনারিতে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধকরণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের ৭ টি রিফাইনারি ভিটামিন-এ সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। ভিটামিন-এ সমৃদ্ধকরণের ফলে প্রতি ৫ লিটার ভোজ্য তেলে মাত্র ১ টাকা খরচ হবে। এ সামান্য খরচের জন্য রিফাইনারি মালিকরা তেলের মূল্য না বাড়ানোর নিশ্চয়তা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সরকারের সাথে রিফাইনারি শিল্প উদ্যোক্তাদের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ তেল সনাক্ত করার জন্য ভোজ্য তেলের প্যাকেট বা বোতলে সুনির্দিষ্ট লোগো থাকবে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এ লোগো উন্মুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি ইন্সটিটিউট এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোঃ এখলাছুর রহমান, বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি প্যাসক্যাল ভিলেনিউভ, গ্লোবাল অ্যালাইয়েন্স ফর ইম্প্রুড নিউট্রেশ- এর নির্বাহি পরিচালক মার্ক ভ্যান অ্যামিরিনজেন, ইউনিসেফের পুষ্টি বিভাগীয় কর্মকর্তা ডা. আইরিন আক্তার চৌধুরী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের �ফর্টিফিকেশন অফ এডিবল অয়েল ইন বাংলাদেশ� শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক মির্জা মোঃ মহিউদ্দিন বক্তব্য রাখেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গরম পানি পানে ১০ উপকার

নিউজ ডেস্ক :: পানি পানে অনেক উপকার তা আমরা সবাই জানি। তবে ...