ভারতে সাবেক টেলি-যোগাযোগমন্ত্রী সুখরামের পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

ভারতে নরসিমা রাও ক্যাবিনেটের টেলি-যোগাযোগমন্ত্রী সুখরামকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

নিজের বয়স এবং অসুস্থতার দোহাই দিয়ে সশ্রম কারাদণ্ডের ‘কঠিন’ সাজা থেকে রেহাই চেয়েছিলেন সুখরাম। কিন্তু দিল্লির বিশেষ আদালতের বিচারক আর পি পাণ্ডে সেই আবেদন নাকচ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করলেন দেড় দশকের পুরনো টেলিকম দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হিমাচল প্রদেশের অশীতিপর কংগ্রেস নেতাকে।
১৯৯৬ সালের টেলিকম কেলেঙ্কারির মামলায় গতকাল দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন নরসিমা রাও ক্যাবিনেটের টেলি-যোগাযোগমন্ত্রী সুখরামকে। কিন্তু ৮৫ বছরের এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এদিন নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে দিল্লির বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক আর পি পাণ্ডের কাছে তাঁর প্রতি ‘নরম’ মনোভাব দেখানোর আবেদন জানান। যদিও সিবিআই-এর তরফে সুখরামের এই আবেদনের বিরোধিতা করে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ‘অপরাধ প্রবণ’ বলে চিহ্নিত করা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০২ সালে অন্য একটি দুর্নীতি মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডের সাজা হয়েছিল তিন বার লোকসভা ও পাঁচ বার বিধানসভা ভোটে জয়ী এই নেতার।
১৯৯৬ সালে নরসিংহ রাও ক্যাবিনেটের টেলি-যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালীন ‘হরিয়ানা টেলিকম লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ম ভেঙে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সাড়ে তিন লাখ কন্ডাক্টর কিলোমিটার পলিথিন ইনসুলেটেড জেলি ফিল্‍ড কেব্‍ল- সরবরাহের বরাত পাইয়ে দিয়েছিলেন সুখরাম। আর বিনা টেন্ডারে এই ৩০ কোটি টাকার বরাত বণ্টনের বিনিময়ে তিনি নিজে ৩ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। সিবিআই তল্লশি চালিয়ে সুখরামের বাড়ি থেকে ওই টাকা উদ্ধারও করে। এর পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয় তাঁকে। দুর্নীতির দায়ে সিবিআই সুখরাম এবং হরিয়ানা টেলিফোন লিমিটেডের কর্ণধার দেবেন্দ্র সিং চৌধুরিকে গ্রেফতার করে। তবে বিচার চলাকালীন মারা যান দেবেন্দ্র সিং চৌধুরি।

এদিকে ফের সামনে চলে এল এনডিএ জমানায় টেলিকম ক্ষেত্রে বেনিয়মের অভিযোগ। প্রমোদ মহাজন টেলিকম মন্ত্রী থাকাকালীন স্পেকট্রাম বন্টনে অনিয়ম নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই নতুন এফআইআর করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। দুটি টেলিকম সংস্থার পাশাপাশি এফআইআর করা হয়েছে প্রাক্তন টেলিকম সচিব শ্যামল ঘোষ এবং বিএসএনএলের প্রাক্তন অধিকর্তা জে আর গুপ্তার বিরুদ্ধে। মুম্বইয়ে ভোডাফোন এবং গুরগাঁওতে এয়ারটেল সংস্থার দফতরেও তল্লাসি অভিযান চালিয়েছে সিবিআই। শ্যামল ঘোষ ও জে আর গুপ্তার বাড়িতেও তল্লাসি চালানো হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, সিবিআইকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এনডিএ জমানাকে জড়ানোর চক্রান্ত করেছে ইউপিএ।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/শফিকুল ইসলাম/কলকাতা

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আটক

নোয়াখালীতে ভুয়া ডাক্তার আটক

মুজাহিদুল ইসলাম  সোহেল, নোয়াখালী প্রতিনিধি  :: নোয়াখালীতে আবুল কাশেম (৩২) নামে ভুয়া ডাক্তারকে ...