ব-দ্বীপ মহাপরিকল্পনা অনুমোদন: মানুষের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে দ্বার উন্মোচন

ব-দ্বীপ মহাপরিকল্পনা

মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান :: গত ৪ আগষ্ট ২০১৮ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) সভায় আগামী ১০০ বছরে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পানির নিরাপত্তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্যে ব-দ্বীপ বা ডেল্টা প্লান পরিকল্পনা পাস করা হয়। এই ঐতিহাসিক পরিকল্পনাটি গত সাড়ে তিনটি বছর তিলে তিলে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়েছেন সরকারের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ।

বেসরকারী সংস্থা ‘ডর্‌প’ এর পক্ষ থেকে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল এই প্রক্রিয়ার চুড়ান্ত পরামর্শ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করার। পরিকল্পনা কমিশন এর সদস্য এবং সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম ২০৩০ সাল নাগাদ ৮০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ লাখ কোটি টাকারও বেশী বরাদ্দের এই পরিকল্পনা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে উপস্থাপন করেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা মহাপরিকল্পনাটি অনুমোদন দেন।

ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দলিল। এই পরিকল্পনা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত, কারিগরি ও আর্থসামাজিক দলিল। প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ, ইচ্ছা ও নির্দেশে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনা তৈরী করা হয়। এই মহাপরিকল্পনা উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওর ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকা, পার্বত্য চট্রগ্রাম, নদীবিধৌত অঞ্চল ও নগর এলাকাভিত্তিক ছয়টি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়ন করা হবে।

এই এলাকাগুলোতে ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র দূর করা সহ ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নতি করা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদা অর্জন করায় এই পরিকল্পনা বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের অবশ্যই ডেল্টা প্লানকে সফলভাবে পরিচালিত করতে হবে।

সর্বোপরি এই মহাপরিকল্পনা যার হাত দিয়ে ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় রূপ পায় তিনি পরিকল্পনা কমিশন এর সদস্য সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলমকে ডর্‌প এর পক্ষ থেকে অভিনন্দন। এছাড়া “সমৃদ্ধ বাংলাদেশ” গঠনে যারঁ নির্দেশনা এবং পরিকল্পনায় এই ডেল্টা প্লান বাস্তবায়ন রূপ পেয়েছে এবং অনুমোদন করেছেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিনীত শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

ভালো পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নই মানুষের জীবনমানে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রায় ৪ কোটি মানুষ এখনো দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গঙ্গা-বক্ষ্মপুত্র-মেঘনা বেসিনের দেশ বাংলাদেশ ৫৭টি আন্ত:দেশীয় নদীর সাথে সংযুক্ত এই রকম ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে ব-দ্বীপ মহাপরিকল্পনা একটি সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা। এই পরিকল্পনা মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে যথাযথ বাস্তব সুফল বয়ে নিয়ে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

 

লেখক: গবেষণা পরিচালক, ডর্‌প।   research@dorpbd.org

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

স্তন ক্যানসারের লক্ষণগুলো কী?

স্তন ক্যানসার একটি আতঙ্কের নাম। তবে প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা নিলে স্তন ক্যানসার ...