ব্যস্তময় সময় পার করছেন ভোলার জেলেরা

ব্যস্তময় সময় পার করছেন ভোলার জেলেরাএম শরীফ আহমেদ, ভোলা থেকেঃ মৌসুমের শেষ দিকে এসে ভোলার মেঘনায় ইলিশের দেখা। ঘাটের বাতাসে তাজা ইলিশের ঘ্রাণ মেঘনা নদীর অথৈ পানিতে দাপিয়ে বেড়ানো ইলিশের দল উঠে এসেছে ঘাটে।

আড়ৎ হাঁকা হচ্ছে দর। দরদাম ঠিক হওয়ার পর ট্রাকে কিংবা লঞ্চে শহরের পথে ছুটে মেঘনার তরতাজা ইলিশ।এসব কাজে জেলে আর আড়ৎদারদের ব্যস্ততার কোনো শেষ নেই। এ মুহূর্তে জেলেরা সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

ভোর থেকে ভোররাত অবধি একই কাজ করে চলেছেন। ইলিশ ধরার অন্যতম প্রধান এলাকা ভোলার মেঘনার তীর লাগোয়া ঘাটগুলোতে এমন চিত্র নিত্যদিনের। ঢেউয়ে দুলতে দুলতে একের পর এক কিনারে ভিড়ছে ইলিশের ট্রলার। মাছ উঠে আসছে ট্রলার থেকে আড়ৎদারের বাক্সে।

ঘাটে ইলিশের ট্রলার ভিড়লে কারো কথা বলার ফুরসৎ থাকে না।বছরের মধ্যে এবারের শেষ মৌসুমে ইলিশ ধরার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাই সবার ব্যস্ততাও খানিকটা বেশি।

আশ্বিনের  পড়ন্ত বিকেল। ভোলার মনপুরা  ঘাটে লঞ্চে বোঝাই হচ্ছে ইলিশ।বরফকল থেকে কিছুক্ষণ আগে আসা বরফ ইলিশের ঝুড়িতে দেওয়ার জন্য ক্রাশ (গুঁড়ো) করা হচ্ছে। কিছু আগে নদী থেকে ইলিশ এসেছে।

বিকেলে ইলিশ ধরে ফেরা কিছু ট্রলার ঘাটে বাঁধা। রাতে নদীতে যাওয়ার প্রস্তুতি। কেউ জাল মেরামত করছে, কেউবা রান্নায় ব্যস্ত।কেউবা অলস বিকেলটা ট্রলারের ছাদের ওপরই ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছেন। যেন হাত পা বিস্তার করে আরও একটু শক্তি সঞ্চয় করে নেওয়া।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ধ্যা নামবে।ঘাটের এক পাশে সারি সারি কাঠের বাক্স। ট্রলারে আসা ইলিশ প্রথমে নামে এ বাক্সে।বাক্সের এক পাশে আড়ৎতের  টেবিলের ওপর রেজিস্টার খাতা নিয়ে হিসাবে ব্যস্ত আড়ৎদারেরা।এরাই জেলেদের মাছধরায় অর্থ বিনিয়োগ করে। এর নাম ‘দাদন’।

মানে মাছ ধরতে আগাম টাকা দেওয়া।দাদন নিয়ে জেলেরা ট্রলারে মাছ ধরতে যায় নদীতে। ঘাটে ইলিশ আসার সঙ্গে সঙ্গেই দাম হাঁকা শুরু হয়।দাম ঠিক হলেই মাছ চলে যায় আড়তদারের কাছে।

ইলিশ ধরার এ ভরা মৌসুমে উপকূলের মেঘনা তীরবর্তী এলাগুলোর দৃশ্যপট একই রকম কোনো ধরনের বাধাবিঘ্ন ছাড়াই জেলেরা ইলিশ ধরায় ব্যস্ত। এ সময়ে বেশি মাছ ধরে জেলেরা ঋণের ভার কিছুটা কমাতে চান।

সরেজমিনে দেখা যায়,জেলার রামনেওয়াজ ঘাট, দৌলতখাঘাট, তজুমুদ্দিন ঘাট, বাবুরহাটঘাট,সুলিজবাজার ঘাট, ড্রামখালিঘাট, উপহাসখালিঘাট, বকসিঘাট, ইলিশা ঘাট,  মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ইলিশ ধরা পড়ছে।

মনপুরা  হাজিচচর  খালের ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী আবুল কাসেম মেম্বার জানান, শেষ মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীরা আনন্দে রয়েছেন।

মৎস্য বিভাগ সূত্র বলছে, ইলিশের এ ভরা মৌসুমে জেলেদের সামনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা আসছে।১থেকে ২২ অক্টোবর  মেঘনায় ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। কারণ এ সময়ে মা-ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য সমুদ্র থেকে নদীতে উঠে আসে।

মাছ ধরায় বছরের বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা এলেও এবার বেশি ইলিশ পড়ায় সেই সময়ের কষ্ট জেলেদের মনে ই।ইলিশের ঘাটগুলো ঘুরেই বোঝা যায়, এবার শেষ মৌসুমে বেশি বেশি ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেরা দারুণ খুশি।

কথা বলতে বলতে সেই খুশির ঝিলিক ছড়িয়ে পড়ে ৪৫ বছর বয়সী জেলে নাগর মাঝির মুখে। মাত্র১২-১৩ বছর বয়স থেকে এখনও ইলিশ ধরছেন তিনি।মনপুরা হাজিরহাট ঘাটে  কথা বলার সময় আরও কয়েকজন জেলে সেখানে ভিড় জমায়।

তারা বলেন,আমরা কেউ দুপুর ১২টার দিকে নদীতে গিয়ে বিকাল ৩টায় আবার কেউ রাত ৭টা থেকে ৮টার দিকে নদীতে গিয়ে ভোরে ঘাটে ফিরি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শীর্ষ করদাতা হাকিমপুরী জর্দার কাউছ মিয়া

স্টাফ রিপোর্টার :: দেশের বাঘা বাঘা সব ব্যবসায়ীকে ঠেলে আবারও শীর্ষ করদাতা ...