বিশ্ব মা দিবস: পরিপ্রেক্ষিত আমাদের মায়েদের অবস্থাসূচক

2_136164মা খুব ছোট্ট একটা শব্দ, কিন্তু এর প্রসারতা, গভীরতা এবং মমত্ববোধ অনেক, অনেক এবং অনেক। এক কথায়, মা শব্দটির মর্ম অনেক অনেক বিস্তৃত, শুধু বিস্তৃতই নয়, অনেক মধুরও। মায়ের স্পর্শ পরম আদরের, অপরিসীম ভালোবাসার। মায়ের কোল সবচেয়ে নিরাপদ। প্রশ্ন হলো- বিশ্ব সমাজে, রাষ্ট্রে, পরিবারে, কর্মস্থলে এবং পথে-প্রান্তরে আমাদের মায়েদের অবস্থান কোথায়? আমরা কি মায়েদের অধিকারের সুরক্ষা দিতে পারছি?
বিগত এক বছর ধরে আমাদের মায়েদের অবস্থাসূচক ১৩০তম অবস্থানে থিতু হয়ে আছে। অর্থাৎ গত বছরও এ একই অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, পোশাক তৈরি ও খাদ্যশস্য উৎপাদনে অনেক অগ্রগতি সাধন করলেও বিশ্বে মায়েদের অবস্থাসূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নাজুক ও অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে। মায়েদের পরিস্থিতি নিয়ে ১৬৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এ বছর ১৩০তম। আন্তর্জাতিক মা দিবসকে সামনে রেখে ৫ মে ২০১৫ সেভ দ্য চিলড্রেনের ‘ওয়ার্ল্ডস মাদারস রিপোর্ট ২০১৫’ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তালিকায় শীর্ষ পাঁচটি অবস্থানই দখল করে বিশ্বে তাক লাগিয়ে দিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নরওয়ে (প্রথম), ফিনল্যান্ড (দ্বিতীয়), আইসল্যান্ড (তৃতীয়), ডেনমার্ক (চতুর্থ) ও সুইডেন (পঞ্চম)। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর ভূমিকায় বিশ্বের অন্য দেশগুলোও মায়েদের অবস্থাসূচক উন্নয়নে এগিয়ে আসবে, অনুপ্রাণিত হবে। বার্ষিক এ প্রতিবেদনে সেভ দ্য চিলড্রেন বলেছে, মায়েদের অবস্থা নির্ণয়ে মা এবং শিশুর স্বাস্থ্য এবং মায়ের শিক্ষাগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান- এ চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সূচকটি তৈরি করা হয়েছে। উল্লিখিত সব বিষয়ে শক্ত অবস্থানে থাকায় তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে নরওয়ে। দেশটির বার্ষিক মাথাপিছু আয় ৯০ হাজার মার্কিন ডলার এবং দেশটির পার্লামেন্টে ৪০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব রয়েছে নারীদের।
তালিকার সর্বনিম্ন সোমালিয়া। নিচের দিক থেকে অন্য চারটি দেশ যথাক্রমে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, মালি ও নাইজার। উল্লিখিত প্রতিবেদনে আরও বল হয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত, কম্বোডিয়া, ঘানা, কেনিয়া, মাদাগাস্কার, নাইজেরিয়া, পেরু, রুয়ান্ডা, ভিয়েতনাম ও জিম্বাবুয়েতে ধনী এবং দরিদ্র শিশুদের বেঁচে থাকার হারে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এসব দেশে ধনী শিশুদের তুলনায় দরিদ্র শিশুদের মৃত্যুর আশঙ্কা তিন থেকে পাঁচগুণ বেশি।
গত বছর তালিকায় ১৩৭তম অবস্থানে থাকা ভারত এ বছর তিন ধাপ পিছিয়ে ১৪০তম স্থানে নেমে এসেছে। এটা অবশ্য উদ্বেগের যে, শিক্ষাদীক্ষা এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অগ্রগণ্য ভারতে কেন মায়েদের অবস্থাসূচকে অবনতি হচ্ছে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে যখন আলোচনা করি তখন বলতে হয়, আমাদের মা ও মেয়েরা শিক্ষাদীক্ষাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী এবং করছেও, তারপরও কেন কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে না? স্পষ্টত কারণ দুইটি। প্রথমত, সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক সঙ্কট ও অধিকার সচেতনতার অভাব বা সম্পত্তিতে (পৈতৃক সম্পত্তিতে) সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারা।
মা দিবসের অন্যতম দাবি, মাকে কাছে পাওয়া বা মায়ের কাছাকাছি যাওয়া, হোক না যত দূরেই অবস্থান ছেলেমেয়েদের, নাড়ির টান বলে একটা কথা আছে- সেই অনুভূতি একমাত্র মা-ই অনুভব করার দাবি রাখে। তাই এ দিবসের প্রাপ্তি প্রত্যেক মায়ের কাছেই স্মরণীয়, বরণীয়। প্রতি বছরই সারা বিশ্বে মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য এ দিবসটি পালন করা হয়। তবে ইউরোপ ও আমেরিকার অধিকাংশ দেশসহ উপমহাদেশের দেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস পালিত হলেও মিসরীয় সাংবাদিক মোস্তফা আমিনের উদ্যোগে সমগ্র আরব বিশ্বে সাধারণত প্রতি বছর ২১ মার্চ মা দিবস পালিত হয়। সে যাই হোক, মা দিবসের আনুষ্ঠানিকতার ইতিহাস যেমন প্রাচীন তেমনি চমকপ্রদ। মা দিবসের পেছনের ইতিহাস খুঁজতে গেলে গ্রিক ও রোমানদের ইতিহাসে ফিরে যেতে হয়। প্রাচীনকালে মাতৃদেবীদের উদ্দেশে গ্রিকদের বার্ষিক বসন্তকালীন উৎসবের নিবেদন ছিল মা দিবসের উদ্ভবের গোড়াপত্তনের ইতিকথা। গ্রিক উপকথার ক্রোনাসের স্ত্রী রিয়াকে (Rhea) সম্মান জানাতে গ্রিকরা এ উপলক্ষটিকে উদযাপন করত নানা আয়োজনে। এর আগ পর্যন্ত নারীর সম্মানে বা মায়ের সম্মানে এককভাবে এমন কোনো উৎসবের আয়োজন ছিল না। যে কোনো মায়ের জন্য এমন আয়োজন ছিল বিরল সম্মানের।
হিলারিয়া নামক এক বসন্ত উৎসব উদযাপন করত আদি রোমানরা। এ উৎসব নিবেদন করা হতো মাতৃদেবী সিবেলেকে। খ্রিস্টপূর্ব ২৫০ বছর আগে এ উৎসব আরম্ভ হয় বলে জানা যায়। এ উৎসব উদযাপন প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের খেলাধুলাসহ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত থাকত। কালক্রমে এ উৎসব আয়োজনে নানা ধরনের উচ্ছৃঙ্খল কার্যকলাপের সম্পৃক্তি ঘটলে জনমনে অসন্তোষ দেখা দেয়। ফলে সিবেলেকের অনুসারীরা রোম থেকে বিতাড়িত হয়।
আদি খ্রিস্টানরা তাদের লেন্ট (Lent) উৎসব (যিশুর উপবাস স্মরণে বিশেষ উপবাসব্রত) এর চতুর্থ রোববার মাতা মেরির সম্মানে এক ধরনের মা দিবস উদযাপন করত। পরে ইংল্যান্ডে প্রসূতিদের সম্মানে এ উৎসব সম্প্রসারিত হয়, যা পারিবারিক জীবনে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং আনন্দের উপলক্ষ হয়ে আবির্ভূত হয়, বিনোদনের জোগান দেয়। এর নাম দেয়া হয় মাদারিং সানডে।
ষোড়শ শতকের দিকে ইংল্যান্ডে মাদারিং সানডে নামের এ উৎসব বার্ষিক ভিত্তিতে পালন করা হতো। বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবী কর্মজীবী নাগরিক এ দিনটিকে তাদের মায়েদের সঙ্গে সাক্ষাতের উপলক্ষ হিসেবে বেছে নিত। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে এসে এক সময় উৎসবটি হারিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা এ উৎসবটি প্রকারান্তরে পুনরুজ্জীবিত করেন। এরপর থেকে এটি সর্বজনীন দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এক কথায়, বিশ্বব্যাপী বর্ণিল রূপ লাভ করে।
এতক্ষণ তো বললাম মা দিবসের আদ্যকথা। এখন ফিরে যাব মা প্রসঙ্গে। যাকে নিয়ে এমন দিবসের আয়োজন। মা হওয়া আনন্দের, বেদনার, কষ্টের, যন্ত্রণার, সুখের- এত কিছুর মাঝেও যে বিষয়টা সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দেয় তা দায়িত্ব, দায়িত্ববোধ এবং দায়িত্ব পালন, সন্তান যথাযথ মানুষ করার চিন্তা, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন। পুরো প্রক্রিয়াটা একটা অব্যাহত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব মা এড়াতে পারেন না। পুরো বিষয়টাকে ঘিরে সন্তানসম্ভবা একজন নারীর বাড়তি চিন্তা, বাড়তি আনন্দ, বাড়তি চাপ অনুভবে এবং বাস্তবে। এ চাপ সামলানো ধনাঢ্য পরিবারের নারীর পক্ষে যত সহজ, মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত একজন দরিদ্র মেহনতি মায়ের পক্ষে তত সহজ নয়।
সময়ের গতির সঙ্গে এটা জীবনেরও গতি। সুতরাং গতিময় জীবনে এ গতিকে আনন্দময় করে তোলা, সুখকর করে তোলা নিজ নিজ পরিবারের, সমাজের, রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাদের সমাজের একটা বিরাট অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। প্রশ্ন হলো, আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র কি দরিদ্র মায়েদের এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে? অন্তত দরিদ্র মেহনতি মায়েদের মাতৃত্বকালীন চাহিদা কি পূরণ করতে পারছে? দাবি কি মেটাতে পারছে? না পারার কারণে মা ও শিশুর অকাল মৃত্যু, অপুষ্টি আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে বিরাজ করছে। যেভাবেই হোক এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে। আশার কথা হলো, এমনতর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১৫ অনুচ্ছেদের (গ) দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকারের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকেরই বিশ্রাম ও অবসর বিনোদনের অধিকার রয়েছে। কার্যসময়ের যুক্তিসঙ্গত সীমা ও বেতনসহ সাময়িক ছুটি এ অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। ১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর গৃহীত জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে আরও বিশদভাবে এ অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এ সনদে স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩১ নম্বর অনুচ্ছেদেও সব ধরনের বৈষম্য থেকে শিশু ও অন্যদের নিরাপত্তা বিধানের সাধারণ নীতিমালার উল্লেখ রয়েছে। মা ও শিশুর বিশেষভাবে যত্ন ও সহায়তা করা সব রাষ্ট্র বা সরকারের দায়িত্ব।
মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ একেক দেশে একেক রকম। বিশ্বব্যাপী মায়েদের অবস্থা সূচকে শীর্ষ পর্যায়ে থাকা দেশ সুইডেনের একজন প্রসূতি মা দুই বছর মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করতে পারেন। আবার মা-বাবা ছুটি ভাগ করেও নিতে পারেন এক বছর এক বছর করে। বাংলাদেশে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস অনুমোদিত। এটা স্পষ্টত সরকারি নির্দেশ হলেও সব প্রতিষ্ঠানে সেটা মানা হয় না। এই ছুটি তো প্রযোজ্য শুধু চাকরিজীবী মায়ের জন্য, কিন্তু যারা দিনমজুরি করে খায়, ছুটি চাওয়ার কোনো জায়গা নেই, একদিন কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না, সেসব মেহনতি মায়েদের কি কোনো ভাতা বা বিশ্রাম দরকার নেই?
এ প্রসঙ্গে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করতে হয়, ২০০৫ সালের বিশ্ব মা দিবসের কর্মসূচি উপলক্ষে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর-র্ড্প এর দরিদ্র মায়েদের জন্য ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা’র উদ্ভাবন। এ উদ্ভাবন ক্রমে প্রসারিত হচ্ছে, একটি বাস্তবসম্মত স্বপ্নময় জগৎ তৈরি করছে ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা’ কর্মসূচি। ধাপে ধাপে এ কর্মসূচিতে সরকারের সম্পৃক্ততা ঘটেছে ২০০৭-০৮ অর্থবছরের বাজেটে দেশের দরিদ্র মাদের মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান কার্যক্রম অন্তর্ভুক্তকরণের মধ্য দিয়ে। সরকারের মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির মাধ্যমে এ ভাতা প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে। গর্ভকালীন থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত ৩৫০ টাকা হারে একজন দরিদ্র মা এক শিশুর জন্য এ ভাতা পাচ্ছেন। গরিব পরিবারের মেহনতি মায়ের জন্য স্বল্পতম হলেও মাতৃত্বকালীন ভাতা একটি কার্যকর এবং উৎসাহব্যঞ্জক উদ্যোগ। নিঃসন্দেহে এ উদ্যোগ দরিদ্র মায়েদের সংসারের বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। প্রতি বছরই সারা বিশ্বের মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য এ দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটি পালন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। আমাদের দাবি- এসব আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন থেকে যেন দরিদ্র মায়েদের মৌলিক চাহিদা মেটানোর আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ উঠে আসে।
আন্তর্জাতিক করপোরেট জগৎ মা দিবসের উৎসবকে কেন্দ্র করে আর্থিক বিনিয়োগে উৎসাহী হয়ে ব্যবসায়-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ছে। ব্যবসা- বাণিজ্যে গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করছে। প্রচার প্রসার বাড়াচ্ছে, ফলে মা দিবস এখন আর শুধু সামাজিক উৎসব নয়, এটি একটি বৃহৎ আর্থসামাজিক বাণিজ্যিক উপলক্ষও হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা ধরনের পুষ্পস্তবক, কার্ড, গিফ্্ট বক্স, অলঙ্কার, সুগন্ধীসামগ্রী মায়ের উদ্দেশে  নিবেদিত বাণী, বিশেষ ধরনের খাবার, পার্টি, গান, চিত্রাঙ্কন, ফটোফ্রেম, ডায়েরি, ভ্যানিটি ব্যাগ, চকোলেট, কেক, সাজসজ্জার সামগ্রী, সুসজ্জিত মোমবাতি, মগ, পোশাক, ওয়ালমেট, বিছানার চাদর, টেবিল ক্লথ, পোস্টার, ছড়া, কবিতা, গল্প, নাটক, গান, শোভাযাত্রা- কী নেই এ দিবসকেন্দ্রিক বাণিজ্যে? টাকার অঙ্কে হিসাব একেবারে উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার তো বটেই। ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি আত্মার অনুভূতিকে ছাপিয়ে এ দিবস আজ আনুষ্ঠানিকতা ও আর দশটি সামাজিক ও লৌকিকতার উপলক্ষে পরিণত হতে চলেছে বলে অভিযোগ উঠছে।
তবু আমরা প্রতীক্ষায় আছি, তরুণ সমাজের বাণিজ্যপ্রীতি ও সমাজের আর্থসামাজিক অবস্থান আমাদের মায়েদের অবস্থাসূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে পরিবারের কেন্দ্রবিন্দুতে। পরিবর্তনের এমনতর ধারা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থাসূচকেও। যেসব সূচক দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক দিকনির্দেশ করে। সুতরাং মা দিবসকে ঘিরে অনুষ্ঠিত প্রতিটি পদক্ষেপই হোক অর্থবহ এবং আনন্দময়।
শাওয়াল খান : শিক্ষাবিদ, অনুবাদক
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রহিমা আক্তার মৌ

‘জল ও জীবন’

রহিমা আক্তার মৌ :: আমাদের প্রাণপ্রিয় নগরী ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। অপ্রিয় ...