বিশ্বাসই হয়নি সোহাগের

shohagষ্টাফ রিপোর্টার :: সোফায় গা এলিয়ে টিভি দেখছিলেন। বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণার খবরে হঠাৎই শিরদাঁড়া সোজা করে বসলেন তিনি। মাস দুয়েক ধরে যে দুঃস্বপ্নের দরিয়ায় হাবুডুবু খাচ্ছেন, সেখান থেকে আবার ভেসে ওঠার উপলক্ষ যে এটি! অ্যাকশনের ত্রুটি শোধরানোর প্রক্রিয়া শেষ প্রায়, আবার জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের স্বপ্নে তাই বাড়াবাড়ি কোথায়!

কিন্তু সোহাগ গাজীর চিন্তার সঙ্গে মেলেনি নির্বাচকদের ভাবনারেখা। ২০১৫ বিশ্বকাপের জন্য ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দলে তাই নেই এই অফ স্পিনারের নাম। ‘টিভিতে প্রথমবার দেখেও আমার ঠিক বিশ্বাস হয়নি। এত কষ্ট করার পরও অন্তত ৩০ জনের দলেও আমি থাকব না! দ্বিতীয়বার খবরটি দেখার পর বুঝলাম যে, আমার গত কিছুদিনের পরিশ্রমের মূল্য রইল না’- বিধ্বস্ত সোহাগ বলছিলেন কাল।

তাঁর অমন বিধ্বস্ত হওয়ার কারণটা অনুমেয়। জাতীয় দলে অভিষেকে ক্রিস গেইলের মতো বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানের বারুদ ভিজিয়ে যে শুরু, এর ধারাবাহিকতা পরের এক-দেড় বছরে। এমনকি এক টেস্টে হ্যাটট্রিক-সেঞ্চুরি কীর্তির যুগলবন্দিও মুঠোবন্দি করেছিলেন সোহাগ। ২০১৪ সালে এসে ফর্মে কিছুটা ভাটার টান ছিল ঠিকই। তার পরও বোলিং অ্যাকশনের ত্রুটি ধরা পড়বে, অনুমোদিত ১৫ ডিগ্রির চেয়ে বাহু বেশি বেঁকে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হবেন- এমন দুঃসময়ের চোরাবালিতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিশ্চয়ই করেননি তিনি।

এর পর থেকেই সোহাগের প্রত্যাবর্তনের লড়াই। সে লড়াইয়ে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন বলে দাবি করলেন তিনি, ‘রুয়ানের (কালপাগে) সঙ্গে আমি অ্যাকশন ঠিক করার জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছি।

ও দুই ঘণ্টা আমাকে নিয়ে কাজ করলে আমি নিজে করেছি আরো বাড়তি দুই ঘণ্টা। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচও তো খেললাম। রুয়ান বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে যে আমি আবার বায়োমেকানিক্স পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বিশ্বকাপ সামনে রেখে এত কষ্ট করলাম, অথচ…।

‘ বলতে গিয়ে থেমে যান সোহাগ। তাঁর মন আরো খারাপ করিয়ে দেয়, একই সমস্যার ভেতর দিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও সাঈদ আজমলের পাকিস্তান প্রাথমিক দলে থাকা, ‘আমাকে যদি সাঈদ আজমলের মতো রাখা হতো, তাহলে একটা সান্ত্বনা থাকত। এরপর ফর্মের কারণে ১৫ জনে আসতে না পারলেও নিজেকে বোঝাতে পারতাম। তবে ক্রিকেটে ফিরে আমি পারফর্ম কিন্তু খারাপ করিনি। এক ম্যাচে ৫ উইকেট পেলাম। সর্বশেষ ম্যাচেও পেয়েছি তিনটি।’

তবু নির্বাচকদের মন গলেনি। আর সোহাগের মন খারাপ হলেও একেবারে সব শেষ বলে ভাবছেন না। বরং অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন জাতীয় দলের অগ্রজের কাছ থেকে, ‘বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছে ছিল খুব। তবে সেটি না হলেও সামনে অনেক ক্রিকেট আছে। মাশরাফি ভাইও গত বিশ্বকাপে নানা কারণে খেলতে পারেননি। এবার খেলছেন তো! আমিও তাই বিশ্বাস করি, পরিশ্রম চালিয়ে গেলে সামনের বিশ্বকাপ নিশ্চয়ই খেলব।’

হতাশার হাবুডুবু খাওয়া সোহাগ গাজী এখন তাকিয়ে ওই সামনের দিকেই।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সুপার ফোরে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ ::  আবুধাবির শেখ জায়েদ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের কাছে বিশাল ...