বিধ্বস্ত প্লেনে ২৬ বাংলাদেশি নিহত: স্বজনরা নেপাল পৌঁছেছেন

ইউএস-বাংলার জিএম (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম

ইউএস-বাংলার জিএম (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার :: নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার বিএস২১১ ফ্লাইটের ৩৬ বাংলাদেশি আরোহীর মধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জিএম (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, পাইলট, কো-পাইলট, কেবিন ক্রুসহ মোট ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সেখানকার তিনটি হাসপাতালে জীবিত ১০ জনের চিকিৎসা চলছে। এদের মধ্যে কেউ গুরুতর আহত আছেন, কেউ হালকা আঘাত পেয়েছেন।

কামরুল ইসলাম আরও বলেন, আনুষ্ঠানিকতা শেষে যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ দেশে আনা হবে।

জীবিতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহন করবে ইউএস-বাংলা। ক্ষতিগ্রস্তরা ইন্স্যুরেন্স সুবিধা ছাড়াও ক্ষতিপূরণ পাবেন। বর্তমানে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরেই ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ঠিক হবে।

প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ জানতে ব্ল্যাক বক্সের তথ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থাকে (আইসিএও) দিয়ে তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্লেনের যাত্রীদের ৪৬ জন স্বজন নেপাল পৌঁছেছেন। পোস্টমর্টেরসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ইউএস-বাংলার জিএম (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলও নেপাল গেছেন। তারা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন হাসপাতালে যাবেন। এরপর সব প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাংলাদেশ-নেপাল সরকার একাজে সম্পৃক্ত আছে।

কামরুল বলেন, যেহেতু বার্ন ইস্যু রয়েছে, তাই মরদেহ চিহ্নিত করতে বেশকিছু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে।

ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া পাইলট-এটিসি’র কথোপকথনের বিষয়ে আপনারা নিশ্চিত কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ককপিটের তথ্য ছাড়া এটা নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় নেই। আমরা প্রথম থেকেই সন্দেহের কথা বলছি। আমরা চাই আন্তর্জাতিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয় বের হয়ে এসে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হোক। এ তদন্তের জন্য কতদিন লাগতে পারে, তা বলা যাচ্ছে না।

কামরুল ইসলাম আরও বলেন, আহত-নিহতদের চিকিৎসার সব ব্যয় ইউএস-বাংলা বহন করছে।

উল্লেখ্য, সোমবার (১২ মার্চ) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পার্বত্য শহর কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস২১১ ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হয়।

ঢাকা থেকে যাওয়া ৭৮ আসনের উড়োজাহাজটিতে চার ক্রুসহ মোট ৭১ আরোহী ছিলেন। এতে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় নেপাল পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে ফ্লাইটটির পাইলট আবিদ সুলতান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ এ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মেয়েকে বিষ খাইয়ে মায়েরও আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার :: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে বিষ খাইয়ে ...