বিচার বিভাগে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবী ইমরান এইচ সরকারের

ইমরান এইচ সরকারষ্টাফ রিপোর্টার :: আজ ২ মার্চ বিকেলে যুদ্ধাপরাধী, আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলীর সর্বোচ্চ শাস্তির রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখার দাবিতে শাহবাগে গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে গণজাগরণ মঞ্চ।

বিকেলে গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।

এ সময় ইমরান এইচ সরকার বলেন, “মীর কাসেম আলী শুধু যুদ্ধাপরাধই করেনি, স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতিকে পুনর্বাসনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। ইসলামী ব্যাংকসহ নানা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে যুদ্ধাপরাধীদের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দাঁড় করিয়েছে, যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রসংঘ তথা ছাত্রশিবিরের পুনর্বাসনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।আমরা প্রত্যাশা করছি, মীর কাসেম আলীর মত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতির কবর রচিত হবে।”

তিনি বলেন, “এই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী যদি তার অর্থবিত্তের প্রভাব খাটিয়ে ছাড় পেয়ে যায়, তবে সরকার, বিচারবিভাগসহ আমরা কেউই এর দায় এড়াতে পারবো না। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কাউকেই ক্ষমা করবে না। মীর কাসেম আলী ট্রাইব্যুনাল শুরুর পর থেকে লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার যে চেষ্টা চালিয়েছে, তা আজও অব্যাহত আছে। তার প্রতিফলন আমরা বিভিন্ন বক্তব্যে দেখতে পাই”।

তিনি আরো বলেন, “যে ট্রাইব্যুনালের পরীক্ষিত বিচারপতিরা মীর কাসেমের ফাঁসির রায় দিয়েছেন, তাদেরই সহকর্মী নজরুল ইসলাম অর্থের বিনিময়ে রাষ্ট্রের বিপক্ষে মামলা লড়েন। যেভাবে মীর কাসেম আলীরা অর্থের বিনিময়ে টবি ক্যাডম্যানদের মতো লবিস্টদের কিনেছে, সেভাবে আজকে তারা নজরুল ইসলামের মতো বিচারপতিদের কিনছে।”

জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ইমরান এইচ সরকার বলেন, “মীর কাসেম আলীরা যতো অর্থই ঢালুক, যত ষড়যন্ত্রই করুক, এরা যেন কোনোভাবে ছাড় না পায় সেজন্য বাংলাদেশের জনগণকে সবসময় সজাগ এবং সতর্ক থাকতে হবে। আগামী ৮ মার্চ ট্রাইব্যুনালে দেয়া মীর কাসেমের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় আপিল বিভাগেও বহাল থাকবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ইতোমধ্যে চারজন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির রায় কার্যকর হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, পঞ্চম ও ষষ্ঠ যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মীর কাসেম আলী ও মতিউর রহমান নিজামীর সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর হবে।”

তিনি বলেন, “যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রশ্নে পূর্বেও বাংলাদেশের জনগণ কোনো আপোষ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। মীর কাসেমের রায় নিয়ে কোনোরকম আপোষ করা হলে তা হবে মুক্তিযুদ্ধের পরিপন্থী, ন্যায়বিচারের পরিপন্থী”।

নায়বিচার নিয়ে মানুষের মনে আশংকা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে ইমরান এইচ সরকার বলেন, “যখন হাইকোর্টের বিচারপতিকে টাকা দিয়ে কেনা যায়, তখন মানুষের মনে আশংকা সৃষ্টি হয়, ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে কিনা। বিচার বিভাগের দায়িত্ব মীর কাসেমদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে মানুষের আশংকা দূর করা।”

পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করি, যুদ্ধাপরাধীরা যতোই লবিস্ট নিয়োগ করুক, বাংলার মাটিতে এদের ঠাঁই নাই, এটা ৮ মার্চ প্রমাণিত হবে। আজকের মতো আগামী ৪ ও ৬ মার্চ একইভাবে আমরা গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো এবং ৮ মার্চ, সকাল ৮টা থেকে আপিল বিভাগে মীর কাসেমের রায় ঘোষণা পর্যন্ত শাহবাগে থাকবে গণজাগরণ মঞ্চ। আমরা আশা করছি, এই স্বাধীনতার মাসেই আলবদর মীর কাসেম আলীর সর্বোচ্চ শাস্তির রায় কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হবে।”

গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন জনার্দন দত্ত নান্টু, তাহমীন সুলতানা স্বাতী, শম্পা বসু, জীবনানন্দ জয়ন্ত, ভাস্কর রাসা প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আজ হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন

স্টাফ রিপোর্টার :: গল্পের জাদুকর তিনি। এই গল্প দিয়েই তিনি মানুষের মনকে ...