বাবা-মায়ের খোঁজে শরীয়তপুরে সুরাইয়া

বাবা-মায়ের খোঁজে শরীয়তপুরে সুরাইয়াখোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি :: মেয়েটির নাম সুমাইয়া আক্তার সুরাইয়া। সুরাইয়া ১৮ তে পাঁ দিয়েছে। ১২ বছর পূর্বে (২০০৬ সালে) রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকা থেকে হারিয়ে যায় সে। তখন সুরাইয়ার বয়স ছিল ৬ বছর। সেই থেকে বাবা-মা, ভাই-বোন ও পরিবারকে খুঁজে বেড়াচ্ছে সুমাইয়া।

সুরাইয়া তার বাবার মুখে শুনেছে তার জন্ম জেলা শরীয়তপুর। তাই হারিয়ে যাওয়ার ১২ বছর পরেও শরীয়তপুরের পালং মডেল থানায় এসে পিতা-মাতার খোঁজ চায় সে। এ বিষয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ একটা সাধারণ ডাইরী নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

আজ (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পালং থানায় সুরাইয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, সুমাইয়ার পিতা সুলাইমান মিয়া ও মাতা জুলেখা বেগম। বাবা সুলাইমান মিরপুর-১ এলাকায় ডেকোরেটরের ব্যবসা করত। ৬ ভাই-বোনের মধ্যে সুরাইয়া চতুর্থ। বড় বোন সুমী (কলেজে পড়ত) পর্যায়ক্রমে ভাই জুয়েল, বোন সোনিয়া, সুমাইয়া আক্তার সুরাইয়া (হারিয়ে যাওয়া মেয়েটি) বোন স্মৃতি ও ভাই ফাহিম। সুরাইয়া মিরপুরের সীদ্ধান্ত হাই স্কুলে প্রথম শ্রেণীত পড়া অবস্থয় হারিয়ে যায়।

সদর ঘাট গিয়ে ভুল করে বরিশালের লঞ্চে মুলাদি যায় সুরাইয়া। মুলাদী লঞ্চ ঘাটের ইজারাদার তাকে মুলাদী থানায় নিয়ে সাধারণ ডাইরী করায়। হিজলার পত্তনিভাঙ্গা (ভুয়া বাড়িয়া) এলাকার দেলোয়ার হোসেন (বাদশা হাজারী) সুরাইয়াকে থানা থেকে জিম্মায় নেয়। সেই থেকে সুরাইয়া বাদশা হাজারীর বাড়িতে ১২ বছর ঝিয়ের কাজ করে। এর মধ্যে একাধিকবার পালিয়ে শরীয়তপুরে আশার চেষ্টা করে সুমাইয়া ব্যার্থ হয়।

পালং মডেল থানা ওসি তদন্ত হুমায়ুন কবির বলেন, মেয়েটি গতকাল শুক্রবার রাতে থানায় আসে। মেয়েটি শুধু তার পিতা-মাতার নাম বলতে পারে। কোন ঠিকানা বলতে পারে না। মেয়েটির কথা মতো সাধারণ ডাইরী নেয়া হয়েছে। মেয়েটির পিতা-মাতার খোঁজ পেলে তাদের কাছে সুরাইয়াকে বুঝিয়ে দেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

"রামগতি তোমায় ভালোবাসি"

‘রামগতি তোমায় ভালোবাসি’

সুলতান মাহমুদ আরিফ :: ভালোবাসা আর ভালোলাগার প্রিয় জায়গা রামগতির ভালোবাসাময় প্রিয় ...