বান্ধবীর সাথে রাত কাটাতে গিয়ে অস্ত্র খোয়ালেন এসআই

বান্ধবীর সাথে রাত কাটাতে গিয়ে সরকারী অস্ত্র খোয়ালেন এক এসআই   কলিট তালুকদার, পাবনা প্রতিনিধি  ::  কথিত বান্ধবীর সাথে রাত কাটাতে গিয়ে ৮ রাউন্ড গুলি ভতি সরকারী পিস্তল খোয়ালেন পাবনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হোসেন। ঘটনার ৮ দিন পরেও অস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে কথিত বান্ধবীসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এদিকে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও গুলিভর্তি রিভলবার হারানোর দায়ে জাহিদ হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানাগেছে, গত ২৭ অক্টোবর ডিউটি শেষে এসআই জাহিদুল ইসলাম রাত ৯ টার দিকে তার পূর্ব পরিচিত বান্ধবী ফরিদা ইয়াসমিনকে সাথে করে পাবনা শহরের শালগাড়িয়া টিবি হাসপাতালের পিছনের একটি বাসায় রাত যাপন করে। কথিত বান্ধবী ফরিদা ইয়াসমিন সিরাজগঞ্জ শহরের জানপুর ব্যংক পাড়ার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। রাত যাপনকালে রাতের কোন এক সময় এসআই জাহিদুল ইসলামের নামে ইসুকৃত ৮ রাউন্ড গুলি ভর্তি পিস্তলটি হারিয়ে যায়।

ঘটনার ২ দিন পর ২৯ অক্টোবর বুধবার থানায় অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক। এদিকে মামলা দায়েরের পর যে বাড়িতে কতিত বান্ধবিকে নিয়ে এস আই জাহিত রাত যাপন করে ওই বাড়ি ওয়ালার ছেলে কাজী সালাউদ্দিন সুজন ও কথিত বান্ধবীকে আটক করে থানায় ২ দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়।

গ্রেফতারকৃত কাজী সালাউদ্দিন সুজনের মা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত সাজেদা খাতুন রিনা বলেন, একই বিভাগে চাকুরী করার সুবাদে সিরাজগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত ফরিদা ইয়াসমিনের সাথে ৫ বছর পূর্বে আমার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে মাঝে মধ্যে আমার সাথে তার ফোনালাপ হতো। গত ২৭ অক্টোবর সোমবার সকালে ফরিদা আমাকে জানায়, ব্যংকে কর্মরত তার স্বামী জাহিদ হোসেন পাবনায় বদলী হয়েছে।

বাসা খুঁজতে আমার বাসায় এক রাত অবস্থান করার অনুমতি চায়। এতে আমি রাজি হলে ফরিদা সন্ধ্যা ৭ টার দিকে একাকী আমার বাসায় আসে। স্বামীর কথা জিজ্ঞাসা করতেই সে বলে,  প্রথম আসছে তাই কিছু ফলমূল নিয়ে আসছে সে। এরপর রাত ৯ টার দিকে এক ভদ্রলোক আমার বাসায় আসে এবং ফরিদা তাকে তার স্বামী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। এর পূর্বে কখনো তার স্বামীর সাথে আমার পরিচয় হয়নি।

হঠাৎ সকালে ওই ঘরে চেচা মেচীর শব্দ শুনে দড়জায় নক করলে দরজা খুলে দেয় এবং ফরিদার স্বামী জানায় তার সাথে থাকা পিস্তল হারিয়ে গেছে। পিস্তলের কথা জিজ্ঞেস করতেই সে তার আসল পরিচয় দেয় এবং বলে ফরিদা তার স্ত্রী নয় বান্ধবী। পরে থানা থেকে সাদা পোষাকে কয়েকজন লোক পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমার ছেলেকে নিয়ে যায়।

আমার ছেলেকে বিনা অপরাধে ২ দিন পুলিশী হেফাজতে রেখে নির্যাতন শেষে জেল হাজতে প্রেরন করেন। বিষয়টি সংবাদকর্মীদের জানালে আমার ছেলেকে গুম করার হুমকী দেয় থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এসআই জাহিদুল ইসলাম তার ব্যবহৃত সরকারী পিস্তল হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে কথিত বান্ধবীকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অন্যের বাড়িতে রাত কাটানোর বিষয়ে কথা বলতেই তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ব্যাপারে পাবনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী হানিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,  হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

পাবনার পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন,  এসআই জাহিদকে দায়িত্বহীনতার অপরাধে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইনজেকশন দেয়া গরু চিনবেন যেভাবে

ষ্টাফ রিপোর্টার ::ঈদুল আজহার আর মাত্র ক’দিন বাকি। ঈদুল আজহা মূলত মহান ...