বান্দরবানে মুল্যবান প্রজাতির কাঠ পাচারের মহোৎসব

বান্দরবান  : পবিত্র ইদ উল ফিতরের টানা বন্ধের সুযোগে এবারও নির্বিঘ্নে পাচার হয়ে গেছে অন্তত ২০ হাজার ঘনফুট সরকারি বনের কাঠ বান্দরবান জেলা থেকে। অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরোক্ষ সহায়তায় ১১টি বন রেন্‌জ থেকেই এসব কাঠ অবৈধভাবে পাচার হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে,বান্দরবান জেলার টংকাবতি,তারাছা,রম্নমা,পাইন্দু,রোয়াংছড়ি,পাইক্ষং,নোয়াপতং, হ্ণারা,ক্যাসালং,সেকদু ও থানছি বনরেন্‌জ গুলোর সরকারি বনাঞ্চল থেকে ইদের ১০দিন আগে কর্তন করা মুল্যবান প্রজাতির গাছ ইতিমধ্যেই পাচার হয়ে গেছে যায়। বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় বিশেষ করে আরও,ডিআরওদের পরোড়্গ সহায়তায় চোরাই কাঠ পাচারকারী চক্র নানাস্থানে মজুদকৃত হাজার হাজার ঘনফুট  কাঠ পাচার করে, এ কাঠ পাচার তৎপরতা দিব্যি চলছে।

কাপ্তাই পাল্পউড বনবিভাগ,বান্দরবান বনবিভাগ ও বান্দরবান পাল্পউড বনবিভাগের আওতাভ্থক্ত ওই ১১টি বন রেন্‌জের পরিপক্ক ও অপরিপক্ক সেগুন,গামারিসহ মুল্যবান গাছ নিধন করা হয় শত শত বহিরাগত ও রোহিংগা শ্রমিক দিয়ে ধামা দা ও হাতল করাতের সাহায্যে। সরকারি বনাঞ্চল থেকে কাঠ কেটে স্থানীয় ভাবে রোয়াংছড়ি উপজেলা সদরের নানাস্থান,রুমা সদর ও পলিকা পাড়ায়,নোয়াপতং,টংকাবতিসহ কয়েকটি ভেতর এলাকায় মজুদ করে রাখা হয়েছিল। ইদের বন্ধের সময় নানাকুশলে ভ্থয়া কাগজপত্র দেখিয়ে কিংবা রাতের আঁধারেই জেলার বাইরে পাচার করা হয় এসব চোরাই কাঠ।

বান্দরবান সদরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়,রোয়াংছড়ি,রুমা ও কাপ্তাই উপজেলার পাহাড়ে পাহাড়েই গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য চোরাই পথ,বিশেষ করে টংকাবতি-বারআউলিয়া,প্রান্তিকলেক-টংকাবতি-সরই-কিয়াজুপাড়া-গজালিয়াপথ,রোয়াংছড়ি উপজেলার রুমা-রোয়াংছড়ির নোয়াপাড়া,কচ্ছপতলি-লিরাগাও পথ,বাকিছাড়া-বিক্রিছড়া-কৈয়াপাড়া পথ,ফারুকপাড়া-কিৎসিমনিপাড়া-সুয়ালক হেডম্যান পাড়াপথ,গোয়ালিয়াখোলা-রেইচা পথ,মাঝেরপাড়া-কেবিসড়কসহ নানাপথেই রাতে মিনি ট্রাক,চাঁদের গাড়িযোগে মজুদ করে রাখা কাঠগুলো পাচার হয়। ক্ষেত্রে বিশেষে সাংগু নদী ও স্থানীয় পাহাড়ি ঝিরিপথেও নানাস্থানে মজুদকরা কাঠসমুহ পাচার করা হয়েছে।

জানা গেছে, বন বিভাগের অধীনে সাংগু নদীর রুমা,কৈক্ষংঝিরি,বলিপাড়া,বেতছাড়,ঘেরাউ এবং তারাছায় বনচেক পোষ্ট থাকলেও সেগুলোতে প্রতিফুট অবৈধ কাঠের জন্যে ১০০ থেকে ১৫০ টাকাহারে‘নজরানা’দিয়েই অবৈধকাঠের ডিপোগুলোতে মজুদ করা হয় বিপুল পরিমাণ কাঠ। পরবর্তীতে সেখান থেকেই মজুদকরা অবৈধ কাঠসমুহ নানাকুশলে জেলার বাইরে পাচার হয়ে যায়। বন বিভাগের ওইসব রেন্‌জের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জেলা সদরে ভাড়া বাসাসহ বিভাগীয় বন অফিস এলাকায় সরকারি বাসায় কথিত লিয়াঁজো অফিস বানিয়ে ‘ঘুষ বাণিজ্য’ দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। এ অবস্থা ওপেন সিক্রেট যেন।

এসব বিষয়ে যোাগাযোগ করা হলে বন কর্মকর্তারা বলেন, বৈধকাগজপত্র প্রদর্শন করেই নদীপথ বা সড়কপথে কাঠগুলো পরিবহণ করা হয় এবং অভিযোগ পেলে সময়ে সময়ে বিশেষ অভিযানও চালানো হয় অবৈধ কাঠ ধরতে।

এনামুল হক কাশেমী/

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সেলুলয়েড পর্দায় শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবন নিয়ে প্রথমবারের মতো নির্মিত ...