বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সুইডিশ পার্লামেন্টে আলোচনা

বেক্তিগতভাবে সুইডেনের মূলধারার  রাজনীতির  সাথে  আমার  সম্পর্ক  দীর্ঘদিন। একসময় স্টকহলম সিটি কাউন্সিল ও ডিস্ট্রিক কাউন্সিলে  নির্বাচিত কাউন্সিলারের দায়িত্ত পালন করেছি। ২০১০ নির্বাচনে জাতীয় সংসদে প্রতিদন্দিতাও করেছিলাম। এসকল কারণে সুইডিশ রাজনীতিবিদদের সাথে আমার একটা ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। তাছাড়া সুইডিশ পোস্টাল ট্রেড ইউনিয়নে একটি শাখার নির্বাচিত সভাপতি  হিসেবে গত সাত বত্‌সর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছি। যেহেতু আমি জন্মগত সূত্রে একজন বাংলাদেশী সে কারণে বাংলাদেশের বিষয়ে কিছু একটা হলে পরিচিত সুইডিশ রাজনীতিবিদরা যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তারা জানতে আগ্রহী হন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা।

গত ২৭ নভেম্বর সুইডিশ পার্লামেন্টে আমার ডাক পড়লো। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জেনস হলম এম পি ও ইয়াকব জনসন এম পি র সাথে একান্ত পরিবেশে আলোচনা হলো। পার্লামেন্টের রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ খাওয়ার নিমন্ত্রণ করলেন জেনস হলম।  আমি এই সময় এই দুইজন সুইডিশ রাজনীতিবিদদের কাছে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরি। জেনস হল্মের সাথে আমার পরিচয় দীর্ঘদিনের। তিনি একসময় ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। পরিবেশ  সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি একজন অবিজ্ঞতা সম্পন্ন বেক্তি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবেশ  সন্মেলনে তিনি সবসময় সুইডেনের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। বাংলাদেশের পরিবেশ সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি খুব চিন্তিত। বললেন দুই একবার কথা হয়েছে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সাথে। সমপ্রতি পোলান্ডে হয়ে যাওয়া সন্মেলোনেও তিনি যোগদান করেছিলেন।

আমাদের আলোচনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব থেকে শুরু করে এপর্যন্ত চলে আসা রাজনীতির উত্থান পতন নিয়ে অনেক কিছুই আলোচনা হলো। বর্তমান সরকার কর্তৃক  যুদ্ধপরাধীদের বিচার করা প্রসঙ্গ এলে তারা বলেন সকল প্রকার অন্যায় অত্যাচার ও  নিপীড়নের বিরুদ্ধে সব ধরনের পদক্ষেপের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আমরা মনে করি যারা যুদ্ধপরাধী তাদের বিচার অবশ্যই হতে হবে এবং অপরাধের জন্য শাস্তি পেতে হবে। তবে আমরা ফাসির রায়কে কোনদিন সমর্থন করতে পারি না। আমাদের দৃষ্টিতে যাবত জীবন কারাদন্ডই হলো সবচেয়ে বড় শাস্তি। এপ্রসঙ্গে আমি বাংলাদেশের আইন অনুসারে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক যাবত জীবন কারাদন্ডকারীদের এমনিস্টি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে জানালে তারা বলেন এটা বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়। এই আইনের বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনে বাংলাদেশ তাদের সংসদে আলোচনা করতে পারে। তবে আমরা কখনই ফাসির রায়কে সমর্থন করি না।

বাংলাদেশের সামপ্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা বলেন আমরা আশা করি বাংলাদেশ দেশটির গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রেখে সকল দলের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। প্রসঙ্গক্রমে আমি বাংলাদেশের বর্তমান সরকার কর্তৃক জঙ্গিবাদ বিরোধী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরলে তারা বলেন আমরা সবসময়ই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। এই সময় সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তারা। একটি সংখাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি তাদের সমর্থনের কথা বেক্ত করেন।

আসছে নির্বাচনে বিরোধী দলের বয়কট প্রসঙ্গ এলে তারা বলেন আমরা আশাকরি বিরোধী দল যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহন করার সুযোগ পায় সে বেপারে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ তাদের দিকে দৃষ্টি রাখবে। নির্বাচন হতে হবে সকল দলের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে। তাছাড়া নির্বাচন সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি হচ্ছে না তা পর্যবেক্ষণের জন্য ইতিমধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর স্বিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সুতরাং আমরা আশা করব বিরোধী দল যেন নির্বাচনে অংশগ্রহন করে। আলোচনাকালে আমি সুইডিশ এই দুই এম পিকে বাংলাদেশ ভ্রমনে আমন্ত্রণ জানালে জেনস হলম এম পি ও ইয়াকব জনসন এম পি আগামীতে বাংলাদেশ ভ্রমনের আশা বেক্ত করেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার :: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবপুর উপজেলার শিবনগর গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি ...