বর্ষা না আসতেই ধরলা ভাঙ্গন

বর্ষা না আসতেই ধরলা ভাঙ্গনআসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :: আবদার আলী। গত ২ বছর আগে ধরলা নদীর ভাঙ্গনের শিকার হয়ে নিজের শেষ জমি টুকুতে বাড়ি করে নতুন ভাবে আবার সংসার জীবন শুরু করে ছিলো। কিন্তু শনিবার রাতে আশ্রয়ের সেই শেষ জমিটিও বসত বাড়িসহ ধরলা নদীর ভাঙ্গণে বিলীন হয়ে গেছে। ধরলা নদীর ভাঙ্গনে ৫ বার বসত ভিটা হায়িয়ে এখন অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করছে।

এ অবস্থা ধরলা নদী পাড়ের অনেকের। বর্ষা মৌসুম না আসতেই লালমনিরহাটে ধরলা নদীর ডান তীরে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার মোঘলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর ব্যাপারীটারী ও ইটাপোতা গ্রামে গত ৭ দিনে ১৯ টি বসত বাড়িসহ বেশ কিছু আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

ধরলা পাড়ের বাসিন্দা সোলেমান আলী, সমসের আলী ও জমির উদ্দিন জানান, ১০ দিন আগে ধরলা নদীর ভাঙ্গন হঠাৎ হিংস্্র আকার ধারন করে। বর্ষা না আসতেই আতংকিত হয়ে পড়েছে ধরলা পাড়ের লোকজন নদীর এ ভাঙ্গন দেখে। দিনে ভাঙ্গন কিছুটা থেমে থাকলেও রাতে তা বৃদ্ধি পায়। যে কারণে নির্ঘুম রাত পার করছে ধরলা পাড়ের মানুষ জন।

গত দুই দিনে ব্যাপারীটারী গ্রামের নসরুদ্দিন, আবদার আলী, সাইদুল ইসলামের বসত বাড়িসহ ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। বিলিন হয়েছে ইটাপো বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের কিছু অংশও। ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে ব্যাপারীটারী বে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক বসত বাড়ি। বর্ষা আসার আগে ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে ইটাপোতা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ, শীবেরকুটি বাজার, বডার গার্ড (বিজিবি) ক্যাম্প, মোঘলহাট বাজার, মোঘলহাট রেলস্টেশন, লালমনিরহাট মোঘলহাট সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে বলে আশংকা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয়রা।

জরুরী ভাবে সিসি ব্লোক তৈরী করে ভাঙ্গন রোধ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আপদন কালিন সময়ের জন্য একটি প্রকল্প চেয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছেন। যা পরিকল্পনা বিভাগে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবার গুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কেউ কেউ রাস্তার ধারে ঘরসহ মালামাল রাখছেন। আবার কেউ অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে তলেছেন ঘরবাড়ি। সব মিলে কান্নার রোল পড়েছে ধরলা পাড়ের মানুষের।

ঘরবাড়ি সড়ায়ে রাস্তার পাশ্বে আশ্রয় নেয়া আবদার আলী জানান, ধরলার কড়াল গ্রাসে ৫ বার বসত বাড়ি সড়াতে হয়েছে। গত বছর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ভাড়ায় নেয়া চার শতাংশ জমিতে ঘর করে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনমজুরী করে সংসার চালিয়েছেন। তার সেই বসত বাড়িও গত রাতে নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে।

ভাঙ্গনের মুখে পড়া হাড্ডু মিয়া জানান, গত বছর ভাঙ্গনের কবলে পড়লেও কোনরুপ সহযোগিতা পান নি। এ বছরও যে কোন সময় নদী গর্ভে বিলিন হবে তার বসত ভিটা। তাই দ্রুত নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

খেয়াঘাটের মাঝি আবুল কাশেম বলেন, গত সপ্তাহে নদীটি অনেক দুরে ছিল। তীব্র ভাঙ্গনে সব কিছুই গিলে খাচ্ছে ধরলা নদী। ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তিনিও জোর দাবি জানান।

মোঘলহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, বর্ষা না আসতে এমন ভাঙ্গনে আতংকিত হয়ে পড়েছে ধরলার পাড়ের মানুষ। কয়েক দিনের বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে ইটাপোতা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পাউবোসহ সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণকমল চন্দ্র সরকার জানান, ব্যাপারীটারী এলাকায় চলতি অর্থ বছরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যায়ে দেড় লাখ সিসি ব্লোক দিয়ে অর্ধ কিলোমিটার বাঁধ দেয়া হয়েছে। ওই বাঁধের ভাটিতে প্রায় সাড়ে ৪শত মিটার এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন রোধকল্পে এরই মধ্যে আপদকালিন সময়ের একটি প্রকল্প চেয়ে উর্দ্ধতন মহলে পত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ এলেই দ্রুত কাজ করা হবে।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মালয়েশিয়ায় ৫৫ বাংলাদেশি আটক

ডেস্ক রিপোর্ট :: মালয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিটের নিয়ম লঙ্ঘন করে কাজ করার অভিযোগে ...