ফ্লোরিডার মায়ামিতে শেষ হলো ‘বিতর্কিত ফোবানা’ সম্মেলন

fobana-conv-09.jpgবাংলা প্রেস, ফ্লোরিডার মায়ামি থেকে:: হারিকেন ইরমার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামিতে জমজামাট আয়োজন, ক্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা আর হযবরল উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিতর্কিত তিন দিনের ৩১তম ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোশিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) সম্মেলন।গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হায়াত রিজেন্সি হোটেলে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতে শুরু হওয়া এ সম্মেলন রবিবার মধ্যরাতে শেষ হয় উর্দু গানে।

হারিকেন ইরমার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ ফ্লোরিডার মায়ামিতে ফোবানা সম্মেলন সার্থক করাটা ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ।ভয়াবহ দুর্যোগের ফলে এ সম্মেলনটি প্রায় পিছিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত চলছিল। কিছু অতি উৎসাহী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। ‘মানবতার জন্য ঐক্য’ শ্লোগান দেওয়া হলেও দেশের বর্তমান রোহিঙ্গা সংকট কিংবা বন্যার্ত বিষয়ক কোন কর্মসূচি ছিল না।

এমনকি নির্বাহী কমিটির সভায় কোন ঐক্যও পরিলক্ষিত হয়নি। বার্ষিক সাধারন সভায় নতুন প্রজন্মের কাছে ফোবানার নেতৃত্ব ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি উঠলে তা উপেক্ষা করে পুরাতনদের হাতেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার প্রবল অচেষ্টা চালানো হয়।কার্য্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনেও অগণতান্ত্রিক পন্থায় সাধারন সদস্যদের ভোট প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে চলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া।

এবারের সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিতর্কিত সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদকে আমন্ত্রণ করায় বিতর্কিত হয়ে পড়েন ফোবানা কর্মকর্তারা।উদ্বোধনী দিনে শুক্রবার সন্ধ্যায় মায়ামির হায়াত রিজেন্সি হোটেলে কালো টাই (ব্লাক টাই) ডিনার নামের এ নৈশ্যভোজে দেখা যায় বর্তমান সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. জিয়াউদ্দিন, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ নেতা নিজাম চৌধুরী সঙ্গে একই টেবিলে বসে প্রকাশ্যেই রাতের খাবার খান সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ।

এ দৃশ্য দেখার পর উপস্থিত অতিথিদের মাঝে কানাঘুষা শুরু হয়। মইন ইউ আহমেদকে আমন্ত্রণের ঘটনা নিয়ে এক পর্যায়ে ফোবানা কমিটির মধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতারা এর প্রতিবাদ জানায়।ফলে নৈশ্যভোজের পরেই তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ঐদিন মূলমঞ্চে অতিথির আসনে থাকার কথা থাকলেও নৈশ্যভোজের পর থেকেই দর্শক সারিতেও তাঁকে আর দেখা যায়নি।

ফোবানা কর্মকর্তারা প্রবাসে নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা সংস্কৃতিরচর্চার কথা বারবার বললেও প্রায় প্রতিবছরই ঘটে এর উল্টো।এবারও অপসংস্কৃতি রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলা সংস্কৃতি চর্চার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেবার কথা বললেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলার বদলে ইংরেজিতে ভাষন দেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. জিয়াউদ্দিন।

গত রবিবার ফোবানার কার্য্যনির্বাহী কমিটির সভায় চেয়ারম্যান আজাদুল হক বলেন, ফোবানায় বাংলা সংস্কৃতির চর্চা হয়।এখানে কোন হিন্দি,উর্দু বা অন্য কোন সংস্কৃতিচর্চা হয় না। অথচ তিন দিনের এ সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্যসহ তিনি প্রায় সাতবার মঞ্চে এসে ইংরেজিতে কথা বলেছেন।একটি লাইনও তিনি বাংলায় উচ্চারন করেননি। তাঁর উপস্থিতিতে এবং ফোবানা কমিটির আপত্তি সত্বেও দেশের প্রখ্যাত শিল্পী রুনা লায়লা পরিবেশন করেন উর্দু গান।

চেয়ারম্যান হয়ে নিজেই বাংলা বলতে অপারগ ও বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ধরে রাখতে ব্যর্থ আজাদুল হকের প্রকৃত রুপ প্রকাশ পাওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তোলেন তাঁকে কিসের যোগ্যতায় ফোবানার চেয়ারম্যান করা হয়েছিল? তাঁর দ্বৈত ভূমিকার বিষয়টিও নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবারের ফোবানা সম্মেলনে।তবে এবারে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় ফোবানার নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন হয়েছেন ফ্লোরিডার পরিচিত মুখ ও সাংস্কৃতিককর্মি আতিকুর রহমান।

শত প্রতিকূলতা আর বাধা বিপত্তি পেরিয়ে এবারে ফোবানার জমজামাট আয়োজন করেছিল স্বাগতিক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোশিয়েশন অব ফ্লোরিডা।প্রায় এক বছর আগে ৩১তম ফোবানা সম্মেলনের জন্য ‘মানবতার জন্য ঐক্য’ যে শ্লোগান নির্ধারন করা হয়েছিল তা বর্তমান সময়ে দেশের পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফোবানার কর্মকর্তারা এটিকে একটি বড় সার্থকতা মনে করলেও মানবতা সংক্রান্ত যেমন রোহিঙ্গা সংকট বা বন্যার্তদের জন্য আলাদাভাবে কোন কর্মসূচি নির্ধারন করা হয়নি। আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর অ্যাওয়ার্ড বিতরণ নিয়ে তিনদিনেই ব্যস্ত ছিলেন স্বাগতিক কমিটি ও ফোবানা কমিটির কর্মকর্তারা।ফলে ‘মানবতা’ বিসর্জিত হয়ে পড়েছে তাদের সেই শ্লোগান থেকে।

শুধু তাই নয়, গত রবিবার অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায়ও কোন ঐক্যমত দেখা যায়নি।নতুন প্রজন্ম বা নেতৃত্বের হাতে ফোবানার দায়িত্বভার তুলে দেওয়ার দাবি উঠলে পুরাতন কর্মকর্তারা সেই দাবিকে উপেক্ষা করে নিজেদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা চালান।পুরাতনদের সেই চিন্তাচেতনার বাস্তবায়ন ঘটেছে এবারও। গুটিকয়েক ব্যক্তি এই ফোবানাকে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।যা সম্পূর্ণভাবে অগণতান্ত্রিক ও সংবিধান বহির্ভূত।নতুন প্রজন্ম বা নেতৃত্বের হাতে ফোবানার দায়িত্বভার না আসা পর্যন্ত ফোবানার বার্ষিক সম্মেলনের যে সমস্ত ভূলভ্রান্তি ও অনিয়ম বারবার ঘটছে তা কখনই প্রতিরোধ সম্ভব হবে না বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

প্রতিবছরের মতো এবারো ফোবানা সম্মেলনে নানা অনিয়ম দেখা গেছে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতাকর্মিদের সমন্বয়ে স্বাগতিক কমিটি একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাগতিক কমিটি গঠন করা হয় ফোবানাকে আরও সুন্দর ও সার্থক করার জন্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সকলেই নিজেদের দলীয় প্রভাব বিস্তার করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেন। নিজেদের ইচ্ছেমত ফ্রি ভিআইপি টিকেট ও খাবারের ফ্রি কূপন বিতরণ করেছেন।

ফ্লোরিডার বাইরের অঙ্গরাজ্য ও বাংলাদেশ থেকে আসা বেশিরভাগ দর্শকশ্রোতারা দূর্ভোগের শিকার হন। দু’টি মাত্র খাবারের দোকানে ৫/৬ ডলার মূল্যের সামান্য ভাত তরকারি কিনে খেতে হয়েছে ১৫ ডলারে। ঢাকা থেকে শিল্পীদের সঙ্গে আসা নামিদামি সহযোগি শিল্পীদের কূপনের অভাবে নিজেদের অর্থেই খাবার কিনে খেতে হয়েছে।

ঢাকা ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা শিল্পী, সহশিল্পী ও মিডিয়াকর্মিদের দেখাশোনার দায়িত্বে কে ছিলেন তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সামান্য খাবারের কূপনের জন্য এদেরকে ধরনা দিতে হয়েছে ৩১তম ফোবানা সম্মেলনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান, আহবায়ক এম রহমান জহির, সদস্য সচিব আরিফ আহমেদ আশরাফ ও প্রধান সমন্বয়কারী আতিকুর রহমানের কাছে।

ফ্লোরিডার মায়ামিতে শেষ হলো ‘বিতর্কিত ফোবানা’ সম্মেলনঅনেকেই এদের পেছেনে ঘুরেও নিরাশ হয়েছেন।নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক অন্য অঙ্গরাজের একজন মিডিয়াকর্মি সভাপতি মোহাম্মদ ইমরানের কাছে একটি খাব্রের কূপন চাইলে তিনি তাঁকে চিনেন না বলে উত্তর দেন। কূপন পেতে হলে ফোবানার অন্য একজন কার্যকরী কমিটির সদস্যের সুপারিশ লাগবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি মিডিয়াকর্মি হিসেবে কর্তৃপক্ষের একটি পাশ দেখান কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। পরে একজন কর্মকর্তার সুপারিশে খাবারের কূপন তিনি পেয়েছেন।

সংবাদ সংগ্রহের জন্য মিডিয়া কর্মিদের প্রতিবছর ভেতরে ঢোকার জন্য ফোবানা কর্তৃপক্ষ একটি পাশ সরবরাহ করে থাকেন কিন্তু ভেতরে সাংবাদিকদের জন্য কোথাও কোন বসার জায়গা থাকে না। এ বিষয়টি প্রতিবছরেই তাদেরকে জানানো হয় কিন্তু ফোবানা কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের এ দাবির কোন গুরুত্বই দেন না। ফলে ফোবানা সম্মেলনে যুগযুগ ধরে সাংবাদিকরা চরমভাবে অবহেলিত ও উপেক্ষিত।অথচ এ সকল মিডিয়াকর্মিরাই পুরো বছরে ধরে ফোবানার সকল প্রকার সংবাদ পরিবেশন করে থাকেন।

এদিকে, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মূলমঞ্চের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন ফোবানার সাংস্কৃতিক চেয়ারম্যান এবিএম মুস্তাফা।উপস্থানার জন্য অন্যান্যরা উপস্থিত থাকলেও সাংস্কৃতিক চেয়ারম্যান হয়ে তিনি নিজেই উপস্থাপনা করতে গিয়ে পুরো অনুষ্ঠানটি হযবরল হয়ে পড়ে। ফোবানা সম্মেলনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান ও আহবায়ক এম রহমান জহিরও নিজেদেরকে জাহির করতে মঞ্চে উঠে নির্বিগ্নে উপস্থাপনা করেছেন।

সম্মেলনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান সম্মেলনের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক কেপিসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ডা. কালি প্রদিপ চৌধুরীকে কয়েকটি অ্যাওয়ার্ড প্রদানের জন্য মঞ্চে ডেকে নেন। তাঁর অতিরিক্ত প্রসংশা করতে গিয়ে প্রায় ২০ বার তাঁর নাম উচ্চারন করেন কিন্তু ১৯ বারই ভুল বলেছেন। এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রধানের নামের সামনে সচরাচর দেওয়া অলংকার তাঁর নামে জুড়ে দিয়ে বলেন, কালি প্রদিপ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আবার যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিনের নাম ঘোষনাকালে উপস্থাপক বলে ফেলেন জিয়াউর রহমান আরেকবার বলেন জিয়াউদ্দিন ভাই।

সাংস্কৃতিক চেয়ারম্যান এবিএম মুস্তাফা হাজারো দর্শকের সামনে দেশের বরেণ্য শিল্পী রুনা লায়লার নামের সামনে অলংকার দিয়ে গিয়ে ‘মক্ষীরানী’ শব্দটি ব্যবহার করলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পৃথক পৃথকভাবে কিছু মানুষের কাছে তিনি ভুলের কথা স্বীকার করলেও মঞ্চে উঠে এ বিষয়ে দর্শকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেননি।বাংলাদেশ থেকে আসা আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফকে চেনেন না ফোবানার একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। নাসির উদ্দীন ইউসুফ মঞ্চে উঠলে ওই কর্মকর্তা পাশের লোককে জিজ্ঞেস করেন উনি কে?

তিনদিনের ফোবানা সম্মেলনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, কুমার বিশ্বজিৎ, তাহসান, ও ফকির আলমগীর।এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা সংগঠনের কলাকুশলীরা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

সম্মেলনের শেষ দিন ফেডারেশন অব বাংলাদশি এসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) ২০১৭-১৮ সালের মেয়াদে চেয়ারম্যান হিসাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ফ্লোরিডার পরিচিত মুখ ও সাংস্কৃতিককর্মি আতিকুর রহমান। নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে ছিলেন ফোবানা নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদুল হক। সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসাবে ছিলেন ফোবানার অন্যতম সদস্য মাহবুব রেজা রহিম ও একে এম আযাদ।

নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্বিতায় নির্বাহী সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন শাহ মোহাম্মদ হালিম এবং যুগ্ম নির্বাহী সম্পাদক পদে জাকারিয়া চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ভোটাভুটির মাধ্যমে বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয় লাভ করেন মোহাম্মদ আলমগীর এবং ট্রেজারার পদে মাসুদ রব চৌধুরী। এছাড়াও পদাধিকার বলে ফোবানা নির্বাহী পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজাদুল হক, এম মাওলা দিলু, ৩১তম ফোবানা সম্মেলনের আহবায়ক এম রহমান জহির, সদস্য সচিব আরিফ আহমেদ আশরাফ, নিউ ইয়র্কেও বেদারুল ইসলাম বাবলা, ক্যানসাসের রেহান রেজা এবং নিউ জার্সীর নাহিদ চৌধুরী মামুন নির্বাহী সদস্য হিসাবে জয়ী হন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও কার্যকরী কমিটির সভা চলাকালীন মিডিয়াকর্মিদের উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি।সবাইকে বের করে দেন ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান আজাদুল হক।যা সংবিধান পরিপন্থি বলে অনেকেই মনে করেন।

ভোটাভুটির মাধ্যমে সদস্য সংগঠন হিসাবে কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত হয় আমেরিকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন আমেরিকা ইন্ক (বাই), বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি (বাগডিসি), মিড কন্টিনেন্ট বাংলাদেশ এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নিউজার্সী, বৈশাখী মেলা, বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অ্যাঞ্জেলেস, বেঙ্গলী বয়েজ কালচারাল এন্ড স্পোর্টস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ আমেরিকান ওমেন এসোসিয়েশন অব টেক্সাস, ও ইউএসএ বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার।উত্তর আমেরিকার অর্ধশতাধিক সংগঠন রেজিষ্টার করেন এর মধ্যে ৪৫টি সংগঠনের কর্মকর্তারা তাদের ভোটাধিকার লাভ করেন।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বালা) থেকে মুখ অভিনয় করতে এসেছিলেন কাজী মাশরুর হুদা। তিনি জানান, গত শনিবার বলা হয়েছিল রবিবার সন্ধ্যায় তাঁকে শ্লট দেওয়া হবে। তিনি ৭টা থেকেই মঞ্চের পেছেন অপেক্ষার পর রাত ১০টায় বলা হয় তাঁকে আর শ্লট দেওয়া সম্ভব হবে না। পর্দার পেছেন মঞ্চে উঠে থাকা কাজী মাশরুর হুদাকে এক পর্যায়ে সেখান থেকে নামিয়ে দেন সম্মেলনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান। অর্থ ব্যয় করে এতদূর থেকে এসে পারফর্ম করতে পারার দুঃখ প্রকাশ করে তিনি ক্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন এবং নিজেকে বড় অসহায় মনে করছেন।

একই অবস্থা দেখা গেছে মঞ্চের পেছেন গ্রিন রুমের কাছাকাছি। অ্যাওয়ার্ড গ্রহন ও প্রদানে মহড়া চলছিল সেখানে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে থেকে আসা বিভিন্ন পারফর্মারদের অভিভাবকরা শ্লটের বিলম্বের কারন ও তাদের স্ত্রী-সন্তানের খবর নিতে ভেতরে (গ্রিন রুমের) কাছে গেলে তাদের অনেকেরই সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন আহবায়ক এম রহমান জহির। তিনি নিজেই অনুষ্ঠানের কিছুকিছু অংশ উপস্থাপনা করে আহবায়ক পদের রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।

আগামী ২০১৯ সালে ৩৩তম ফোবানা সম্মেলন আয়োজন করার জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে নিউ ইয়র্কের ড্রামা সার্কেল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আজাদুল হক কর্তৃক ২০১৯ সালের স্বাগতিক সংগঠন হিসাবে ড্রামা সার্কেলের নাম ঘোষনা দেন। এ সময় ড্রামা সার্কেলের নার্গিস আহমেদ, আবীর আলমগী, সুধা কান্তা সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কে ৩৩তম ফোবানার স্বাগতিক সংগঠন হবার গৌরব অর্জন করায় ড্রামা সার্কেল কর্মকর্তা নার্গিস আহমেদ ও আবীর আলমগীর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। সম্মেলনে অংশগ্রহন করার জন্য উপস্থিত সবাইকে সাদর আমন্ত্রন জানান।

জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠতব্য ৩২তম ফোবানার সভাপতি ডিউক খান, কনভেনার জসিম উদ্দীন, সদস্য সচিব নাহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আরিফ আহমেদ ও প্রধান সমন্বয়কারী এম মাওলা দিলু ফোবানার পতাকা বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার কর্মকর্তাদের হাত থেকে গ্রহন করেন।তারা উপস্থিত অতিথিদেরকে আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য ফোবানা সম্মেলনে অংশগ্রহন করার জন্য আগাম আমন্ত্রন জানান। ফ্লোরিডার মায়ামিতে ৩১তম ফোবানা সম্মেলনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল অ্যাওয়ার্ডের বন্যা।

গত তিন দিনে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন কর্মকান্ডের জন্য অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য সুদুর বাংলাদেশ থেকেও এসেছেন অনেকেই। তবে গত ৩১ বছর ধরে বেশিরভাগ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তরাই অর্থের বিনিময়ে তা কিনে নেন বলে শোনা যায়।বিশেষ করে পৃষ্ঠপোষকদেরকে খুশি করতে এ ধরনের অ্যাওয়ার্ড প্রদানের প্রবণতা রয়েছে। আবার পাসপোর্টে ভিসা বা সিল সংযুক্ত করতেও এই অজুহাতে অনেকেই আসেন বাংলাদেশ থেকে।

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতে শুরু হওয়া এ সম্মেলন রবিবার মধ্যরাতে শেষ হয় রুনা লায়লার উর্দু গানে। এ সময় উর্দু গান পরিবেশন থেকে শিল্পীকে অনুরোধ করেন ফোবানা কর্মকর্তারা। কিন্তু রুনা লায়লা ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি দেখান। তিনি বলেন, শিল্পীদের কোন জাত ধর্ম বা দেশ নেই। এ যুক্তি দিয়েই তিনি শুরু করেন-‘ ও হো, হো হো হো- হো লাল মেরি পাত, রাখিও বালা ঝুলে লালান, সিন্দাদি দা সিভান দা, সাখি শাহ বাজ কালান্দার, দামাদাম মাস্ত কালান্দার, আলি দামদাম দি আন্দার, দামাদাম মাস্ত কালান্দার, আলি দা পয়লা নাম্বার, হো লাল মেরি—-। এ সময় ফোবানার অনেক কর্মকর্তাই নিজেদের শরীর হেলেদুলে রুনা লায়লার গানে তাল দেন।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আমরা নির্বাচন বয়কট করবো না: ড. কামাল

স্টাফ রিপোর্টার :: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ...