ফের নিষেধাজ্ঞার কবলে চরফ্যাশনের ৫০ হাজার জেলে

ফের নিষেধাজ্ঞার কবলে চরফ্যাশনের ৫০ হাজার জেলেশিপু ফরাজী, চরফ্যাশন প্রতিনিধি :: জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচী শুরু করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৮ মাস জাটকা নিধন, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাটকা পরিণত ইলিশে রুপান্তরিত হওয়ার জন্য মৎস্য বিভাগ এ ৮ মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করেছে। ফলে মাত্র ৯ দিনের মাথায় ফের বিধিনিষেধের কবলে পড়েছেন চরফ্যাশন উপজেলার ৫০ হাজার জেলে জেলে।

চরফ্যাশন মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) পলাশ হালদার জানান, ১০ ইঞ্চি কিম্বা তার কম সাইজের ইলিশকে জাটকা হিসাবে গণ্য করা হয়। জাটকা রক্ষা করে পরিণত ইলিশে রূপান্তরিত হওয়ার সুযোগ দিতে জাটকা নিধন পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সাইজের ইলিশ নিধন, ক্রয়-বিক্রয় এবং পরিবহন করা হলে ১ থেকে ২ বছর কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ হালদার জানান, জাটকা নিধন বন্ধে জেলে পল্লীগুলোতে সচেতনতামূলক সভা, মাইকিং ও লিফলেট বিতরন চলছে। জাটকা পরিবহন না করার জন্য বাস-ট্রাক মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সভা করা হবে। এছাড়াও সার্বক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

ফের বিধিনিষেধে জেলেদের জীবিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে (মার্চ থেকে জুন) ৪ মাস জেলেদের ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। জাটকা রক্ষা করলে বড় ইলিশ পাওয়া যাবে বিধায় এ বিধিনিষেধ। তাছাড়া জেলেরা চাইলে ইলিশ ধরতে পারবেন।

মৎস্য অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার । এর মধ্যে উপজেলা মৎস্য অফিসের নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৫ হাজার ৬০ জন। এর মধ্যেআবার সরকারের বিশেষ বরাদ্দের আওতাভুক্ত জেলের সংখ্যা ১৬ হাজার একজন।

কথা হয় চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ মাছ ঘাটের জেলে আইব আলি এর সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২২ দিন তারা নদীতে নামতেই পারেননি। মাঝে ৯দিন ইলিশ ধরায় কোনো বাধা ছিল না। এখন আবার টানা ৮ মাস জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সাধারণ জেলেরা এত বিধিনিষেধ বোঝে না। যে কারণে তাদের জীবিকা অর্জন করে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো নান্নু মিয়া এবং জাতীয় মৎস্য জীবী সমিতির উপজেলা শাখার সভাপতি খন্দকার নাছির আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিগত দিনে এ চাল বিতরণ কমিটিতে আমাদের সমিতির প্রতিনিধিদের অর্ন্তভুক্ত করা হলেও এবারের কমিটিতে আমাদের সমিতির প্রতিনিধিদের অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। বরাদ্দ আসলে এ জন্য তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যাবেন।

তিনি আর বলেন, জাটকা নিধন রোধে জেলেদের আরো বেশি সচেতন করা দরকার। কেননা গত নিষেধাজ্ঞায়ও ৮০ ভাগ জেলে ইলিশ ধরেছে। সরকারি চালও নিয়েছে। সরকারের তো অর্থ যায়। কিন্তু বিধিনিষিধ মানা হচ্ছে না। তিনি এজন্য কঠোর আইন এর পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলেদের পূনর্বাসেনর ব্যবস্থা করার ওপর তাগিদ দেন।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা ৮ মাস বলবত থাকলেও ইলিশ ধরা যাবে। জেলেদের মাঝে বিধি নিষেধ মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বক্সগঞ্জে এক্সিম ব্যাংকের ১১৯তম শাখা উদ্বোধন

বক্সগঞ্জে এক্সিম ব্যাংকের ১১৯তম শাখা উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার :: মৎস্য ও কৃষি অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ কুমিল্লার বক্সগঞ্জে এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক ...