ফের আইএসের হামলায় সিরিয়ায় নিহত ১৩৫ জন

নারী-শিশুসহ সিরিয়ায় নিহত ১৩৫ জনষ্টাফ রিপোর্টার :: সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দেইর এজ-জোরের কাছে আল-বুঘাইলিয়েতে গণহত্যা চালিয়েছে জঙ্গি সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট)। তাদের হাতে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১৩৫ জন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু, মহিলা এবং বৃদ্ধ। এই তা-ব চালানোর পর সেখানকার ৪০০ সাধারণ নাগরিককে অপহরণও করেছে জঙ্গিরা। গত শনিবার হত্যাকা-ের ওই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সিরিয়ার সরকারপক্ষের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এবং ব্রিটিশভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরা
জানা গেছে, গত শনিবার সকালে বেশ কয়েকজন আত্মঘাতী বোমারু সিরীয় সেনাবাহিনীর ঘাঁটিতে ঢুকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। পরপর ওই বিস্ফোরণে ১৩৫ জন নিহত হয়। ঘটনার পর সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘সানা’য় খবরটি প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য, ‘সানা’য় এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সিরিয়ায় পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটেনের মানবাধিকারের একটি দল জানিয়েছিল, শনিবার সকালে সিরিয়ার ৭৫ জন সেনাকে হত্যা করেছে আইএস। তারপর রোববার সকালে ৪০০ জনকে অপহরণ করে। অপহৃতদের মধ্যে অধিকাংশই ইরাক সরকারের সেনাদের আত্মীয় বলে পর্যবেক্ষকদলের দাবি।

তবে সরকারপক্ষের সূত্রটি জানিয়েছে, শহরের বেগায়লিয়া ও আয়াশ আবাসিক এলাকায় হামলা চালানোর পর আইএস জঙ্গিরা অন্তত ১৩০ জনকে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে সরকারপন্থী যোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছে। নিহতদের অনেককে শিরশ্ছেদও করা হয়েছে। অপরদিকে অবজারভেটরি জানিয়েছে, জঙ্গিরা বহু মানুষকে হত্যা করেছে। সিরিয়ার একটি সূত্র বলেছে, জঙ্গিগোষ্ঠীটি বেসামরিক লোকজনের মধ্যে নির্বিচার হত্যাকা- চালিয়েছে।’
জানা গেছে, সেনাবাহিনী আইএসের হামলা প্রতিহত করে বহু হামলাকারীকে হত্যা করেছে।

অবজারভেটরিপ্রধান রামি আবদেল রহমান জানিয়েছেন, ‘প্রথমে ছয়জন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী পাঠিয়ে তারা সামরিক বাহিনীর অবস্থান ভাঙতে চেয়েছিল। কিন্তু তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’ তিনি জানান, আইএস জঙ্গিরা শহরের উত্তর-পশ্চিম পাশ দিয়ে ঢুকে বেশ কয়েকটি হামলা চালায়। অবজারভেটরি আরো জানায়, আইএসের রাজধানী হিসেবে কথিত রাকায় অজ্ঞাত যুদ্ধবিমান আটবার হামলা চালিয়ে অন্তত ১৬ জনকে হত্যা এবং ৩০ জনকে আহত করেছে।
সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় এই প্রদেশটির অধিকাংশ এলাকাই আইএসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারি বাহিনী শুধু দেইর এজ-জোরের শহরের কিছু অংশ এবং একটি সামরিক বিমানবন্দরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পেরেছে। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে শহরটির সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো অবরোধ করে রেখেছে আইএস জঙ্গিরা। এসব এলাকার প্রায় দুই লাখ বাসিন্দা খাদ্য এবং ওষুধের অভাবে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন। অবরোধকারীরা প্রায় প্রতিদিনই শহরটিতে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে এবং শনিবার বেশ কয়েকটি হামলা চালাতে পেরেছে বলে জানিয়েছে ওই সিরীয় সূত্র।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইএসের সমর্থকরা জানায়, গোষ্ঠীটি সেনাবাহিনীর একটি অস্ত্রগুদাম এবং কয়েকটি ট্যাংকের দখল নিয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ব্রিটিশদের মধ্যে বাড়ছে আইএসপ্রীতি!
ব্রিটেনের নাগরিকদের মধ্যে জঙ্গি সংগঠন আইএসের প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। সরকারি তথ্যে মিলছে তেমনই ইঙ্গিত। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আইএস এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ সংগঠনে যোগ দিতে গিয়ে গত তিন বছরে ধরা পড়েছে ৬০০ ব্রিটিশ।
সিরিয়া এবং তুরস্কে গিয়ে তারা আইএসসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর থেকেও বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হ্যামন্ড জানিয়েছেন, তুরস্ক প্রশাসনও বেশ কয়েকজন ব্রিটিশকে গ্রেপ্তার করেছে। সিরিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করার সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যমতে, গত তিন বছরে এমনই ১ হাজার ৪০০ ব্রিটিশ সিরিয়ায় পাড়ি দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশ নাগরিককে সিরিয়া যাওয়া থেকে আটকানো হয়েছে। তুরস্কে গ্রেপ্তার হওয়া নাগরিকদেরও দেশে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। এভাবে জঙ্গি সংগঠনের প্রতি নাগরিকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় যথেষ্ট উদ্বেগ বেড়েছে ব্রিটিশ সরকারের।
আমেরিকার নাগরিক গ্রেপ্তার এদিকে, জঙ্গি সংগঠন আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়ার উদ্যোগ নেয়ায় একজন আমেরিকান গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার পাশাপাশি সিরিয়ায় যাওয়ার উদ্যোগকে সমর্থন দেয়ায় একজন অনুচরকেও আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুজনের একজন জোসেফ হাসান ফারুক (২৮) এবং অপরজন মাহমুদ আমিন মোহামেদ আল-হাসান (২৫)। দুজনই ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা।
বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে শনিবার বলা হয়েছে, গত শুক্রবার এফবিআইর এজেন্টরা ফারুককে স্থানীয় বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি শিকাগো যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। শিকাগো থেকে তিনি জর্ডানের রাজধানী আম্মানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার মূল লক্ষ্যই ছিল সিরিয়ায় যাওয়া।
আল-হাসানকেও উডব্রিজ থেকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি গাড়ি চালিয়ে ফারুককে বিমানবন্দরে পেঁৗছে দেয়া শেষে ফেরার পথে আটক হন। সুদান থেকে আসা আল-হাসান আমেরিকায় বৈধ এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তার বিরুদ্ধে ফারুকের পরিকল্পনায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার :: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবপুর উপজেলার শিবনগর গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি ...