প্রয়োজনে খালেদা ছাড়াই নির্বাচনে যাবে বিএনপি!

ষ্টাফ রিপোর্টার :: নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার সিদ্ধান্তসহ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামনে রেখে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে বৈঠক করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ সময় দুই নেতার মধ্যে আগামী নির্বাচনসহ বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, মির্জা ফখরুলকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডনে ডেকে নিয়ে তারেক রহমান যেকোনো মূল্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

নির্বাচনের আগে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে প্রয়োজনে তাঁকে কারাগারে রেখেই নির্বাচন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিএনপির লন্ডনের একটি সূত্র অবশ্য দাবি করেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি রাখার জন্যও ওই বৈঠকে ফখরুলকে নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।

আগামী ডিসেম্বরের শেষে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে নিজ দলের মহাসচিবের সঙ্গে তারেক রহমানের এটাই শেষ বৈঠক বলে অনেকে মনে করছে। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কারাগারে থাকায় তারেকের নির্দেশেই চলছে বিএনপি।

জানা গেছে, আলোচনাকালে ঢাকায় ২০ দলীয় জোটসহ উদারপন্থী দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের অগ্রগতি জানতে চান তারেক রহমান। যত দূর সম্ভব সমন্বয় করে তিনি ঐক্য গড়ার তাগিদ দেন।

তবে একান্ত ঐক্য না হলে ২০ দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে ৩০০ আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেন তিনি। তারেক এও জানান যে মনোনয়ন নিয়ে তিনিও কিছু কাজ করছেন, যা ঢাকার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছে ফখরুল বিশ্রামে ছিলেন বলে জানা যায়।

অবশ্য তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে নির্বাচনের প্রস্তুতি বা যাওয়া না যাওয়াসহ সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে।

এ ইস্যুতে অর্থাৎ খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে ঢাকায় বিএনপি যে আন্দোলন করছে এ বিষয়ও তারেককে জানান ফখরুল। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি যা-ই হোক, ন্যূনতম দাবি আদায় করে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয় বৈঠকে।

পাশাপাশি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত, বিশেষ করে তফসিল ঘোষণার পরও সরকারকে চাপের মুখে রাখার জন্য আন্দোলন করার নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়েও তারেককে অবহিত করেন ফখরুল।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ফখরুল। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির দুই নেতা তাবিথ আউয়াল ও লন্ডনপ্রবাসী হুমায়ুন কবীর।

গত ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন মির্জা ফখরুল। জাতিসংঘ থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে লন্ডনে তিনি যাত্রাবিরতি করেন। স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৮টায় লন্ডনে এসে পৌঁছেন মির্জা ফখরুল।

তারেকের সঙ্গে বৈঠক শেষে ওই দিনই রাত ৮টায় এমিরেটস বিমানের একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশের পথে রওনা দেন তিনি। বিমানবন্দরে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা ফখরুলকে বিদায় জানাতে উপস্থিত হয়েছিল।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভিজিডি প্রোগ্রামে ডব্লিউএফপি প্রশংসা

ভিজিডি প্রোগ্রামে ডব্লিউএফপি প্রশংসা

স্টাফ রিপোর্টার :: আজ মঙ্গলবার সকালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের ...