প্রশ্ন ফাঁসে ফেসবুক রাজত্ব

মন্ত্রীদের কাছে নাকি প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসে না। প্রশ্ন নাকি ফাঁসও হয় না তাদের দাবি। যেদেশে ফেসবুকে ঢুঁ মারলেই পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পাওয়া যায়, সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশ্ন ফাঁসের প্রমান পেতে গলগর্ধম ত্রাহি অবস্থা। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের অপেক্ষা!

 

ফেসবুকে প্রশ্ন ফাঁসসারোয়ার মিরন ::

বাড়ি থেকে ফোন দিলেন এক জেঠাত বোন। অপ্রত্যাশিত ভাবে ফোনটি পেয়ে মনের ভেতর আচমকা খপ করে মোচড় দিয়ে উঠলো। কোন বিপদ নয়তো!!! হঠাত করে ফোন—-।

আসলে উনি ফোন দিয়েছেন প্রশ্নের জন্য। উনার বড় মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুল থেকে পিএসসি দিচ্ছে। তো উনি কার কাছে থেকে শুনেছেন পরীক্ষার আগের রাতে নাকি ইন্টারনেটে প্রশ্ন আউট হয়। আর এ প্রশ্নের জন্যই আমাকে স্মরণ। গ্রামের কেউ একজনের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন আমি ইন্টারনেট ফেসবুক চালাই। অফিসে কম্পিউটার আছে।

আমার মতো সাধারন একজন নেট ব্যবহারকারী যদি গত-তিন চার বছর ধরে ফেসবুকে ক্লাস ওয়ান থেকে বিসিএস পর্যন্ত প্রশ্ন আউট দেখে আসছি। বিষয়টা আমার কাছে বেশ স্বাভাবিক ও গা সয়া হয়ে গেছে। কিন্ত অস্বাভাবিক ঠেকেছে আমার কাজিনের প্রশ্ন চেয়ে পাওয়া ফোনটা। আমি না জানার ভান করে তার কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলাম। তার জবাব শুনে আমি পুরাই থ!!! বলে কি??

প্রশ্ন ফাঁস হবার খবর শুনে তিনি নাকি বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন ফেসবুকে প্রশ্ন পাওয়া গেছে। বেশ কয়েকজনের কাছে তিনি হুবহু প্রশ্নপত্রও দেখেছেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রশ্নের জন্য নেট বিশেষজ্ঞ ছোট ভাইয়ের কাছে অসময়ে ফোন। নেট না বোঝা সহজ সরল কাজিন আমার প্রশ্ন ফাঁসের সাথে সাথে ফেসবুকও চিনে ফেলেছে!! দেশটা তাহলে কি ডিজিটাল হয়েই গেল?

ফেসবুকে প্রশ্ন ফাঁসপ্রতিবারই প্রশ্ন ফাঁস হবার খোঁজ পেলে বিস্তারিত জানার সমূহ চেষ্টা করি। এটা আমার একটা রোগও বটে। ফেসবুকে হর হামেশায়ই প্রশ্নপত্র দেখতে পাই। বহু পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের সাথে আলাপ করেছি। ফটোকপি দোকানে পাওয়া প্রশ্নের সাথে মিলিয়ে দেখেছি। সর্বত্রই ফাঁসকৃত প্রশ্নের সাথে মিল। এবারকার পিএসসির বেলায়ও এমনটি দেখেছি।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের জরিনা খাতুন পরীক্ষার পুর্ব রাতে তার শিশুর জন্য ফাঁসকৃত প্রশ্ন হাতে পেলেও মন্ত্রীরা প্রযুক্তির শিখরে থেকেও তা পান না। পরীক্ষার পরে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন বোধ করেন না! মন্ত্রীদের কাছে নাকি প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসে না। প্রশ্ন নাকি ফাঁসও হয় না তাদের দাবি। যেদেশে ফেসবুকে ঢুঁ মারলেই পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পাওয়া যায়, সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশ্ন ফাঁসের প্রমান পেতে গলগর্ধম ত্রাহি অবস্থা। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের অপেক্ষা!

ফেসবুকে পরিচালিত শত শত পেজ সরকার বন্ধ করে দিলেও প্রশ্ন ফাঁসকারী এসকল আইডি বা পেজ গুলোর ব্যাপারে কোন উদ্যোগই নেই। যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাইলেও মুহুর্তে পেজ বা আইডির মালিককে ধরা যায়, সেখানে গত তিন বছর ধরেও এসব চক্র ধরা ছোঁয়া বাহিরে।

প্রশ্ন ফাঁসের প্রক্রিয়ায় হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে। প্রশ্ন ফাঁসকারীদের উপর গজব পড়বে। উপরের বাক্য দুটি শিক্ষামন্ত্রীর অতি সাম্প্রতিক মন্তব্য। কথা গুলো হতাসাগ্রস্থ ব্যক্তির কথা বই কি? কোন কিছু করার না থাকলে কিংবা নিজে অসহায় হলেই কেবল এমন বাক্য মুখ দিয়ে বেরোয়।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী হয়তো জানেন অথবা না জানেন প্রশ্ন কিন্তু ফাঁস হচ্ছেই। যদি ফাঁসকারী চক্র এত ধুর্ত হয় বা আপনার নাগালের বাহিরে হয় তবে খুব দ্রুতই আমাদের মুক্তি দিন। কোমলমতি শিশুদের বাঁচান। বড় শিক্ষার্থীরা গোল্লায় যাচ্ছে যাক, ছোটদের ভবিষ্যত রক্ষা করুন। নীতি নৈতিকতাহীন ভীবত্স আগামী আমরা কোনকালেই চাইনা।

আমার এ লেখা লেখাকালীন সময়ে পিএসসির রোববারে অনুষ্ঠেয় গনিতের প্রশ্নটি দেখতে পেলাম এক আইডিতে। জানিনা হুবহু মিলে যাবে কিনা? তবে পাওয়া তো যাচ্ছে। বিগত গুলোতে তো অনেকেই মিল পেয়েছেন।

সারোয়ার-মিরনপ্লীজ! মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আমাদের বাঁচান। নয়তো নিজে বাঁচুন। পরীক্ষাকালীন সময়ে ফেসবুক বন্ধ রাখা মানে হলো, মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার মতো ব্যাপার। তাছাড়া সারা বছরই তো কোন না কোন পরীক্ষা থাকেই। তাহলে সারা বছরই ফেসবুক তথা ইন্টারনেট বন্ধ রাখবেন?

২৭.১১.১৪ইং

লেখক : sarwarmiran87@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Tahmina Shilpi 01

আশ্রয় নয় নির্ভরতা চাই

আশ্রয় নয় নির্ভরতা চাই। না মানে ঠিক নির্ভরতা নয়, ভরসা চাই। না, ...