প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয়ে অর্থমন্ত্রী

চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে  সংশয়ে রয়েছেন খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিনিয়োগ আশানুরূপ না হওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না বলে মনে করেছেন তিনি।

বুধবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে দক্ষিণ এশিয়া নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সানি) ১১তম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সম্মেলনের আয়োজন করে সানি এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের হার খুবই কম। গত এক দশক ধরেই দেশে বিনিয়োগের হার ২৪ শতাংশের কাছাকাছি। কোনো দেশ যখন তার জিডিপির হার সাত কিংবা আট শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা করে, তখন বিনিয়োগের এই চিত্র মোটেও সুখকর নয়।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কটে, যেখানে মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী সেখানে এটা (জিডিপি) কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নয়।’

মুহিত মনে করেন, আন্তর্জাতিক মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। যার ফলে সরকারকে ব্যাংক থেকে অনেক বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। এটি আবার মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে সরকারি ব্যয় খুবই কম। নেপালের সরকারি ব্যয়ও আমাদের চেয়ে বেশি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সরকারি ব্যয় কখনোই ১৫ শতাংশের বেশি হয়নি। গত ৪০ বছর ধরে এই ব্যয় সাত থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে ছিল।’

বেশি দামে সরকারের বিদ্যুৎ উত্পাদনের প্রসংশা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মিডিয়াগুলোতে বেশি দামে বিদ্যুৎ উত্পাদনের সমালোচনা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদেরাও একই কথা বলছেন। কিন্তু আমি এই বিষয়ে চিন্তিত নই। কারণ, বিদ্যুতের উত্পাদন বাড়ার কারণেই গত বছর দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪১ শতাংশ।’

তবে বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে সুরক্ষার উপায় খুঁজতে গবেষকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মুহিত বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে, আমরা সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে পাচ্ছি না। আমাদের আসলে কিছু উপায় দরকার যার মাধ্যমে আমরা এসব সমস্যার উত্তরণ করতে পারবো।’

সানির গবেষণা প্যানেলের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক টি এন শ্রীনিবাসনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সানির সমন্বয়ক ও বিআইডিএসের মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি এবং গ্লোভাল ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রামোনা মার্গারেটা নাকভি বক্তব্য দেন।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/ঢাকা

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আগামী বছর কারওয়ান বাজার স্থানান্তর করা হবে

ষ্টাফ রিপোর্টার :: রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজারসহ তিনটি চিকেন ...