পাহাড়ে পাল্টে যেতে পারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল

খাগড়াছড়ি: নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার পরপরই ৩ পার্বত্য জেলায় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ শুরু করেছেন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো। শুক্রবার পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলার নির্বাচনী অফিসের তথ্য অনুযায়ী ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।

খাগড়াছড়ির ২৯৮নং আসনের জন্য ইউপিডিএফ ও জেএসএস সহ আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির ৯ জন প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছে।

মনোনয়ন পত্র সংগ্রহকারীরা হলেন, যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা,বর্তমান এমপি (খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি) ও শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স এর চেয়ারম্যান। কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা,জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

এদিকে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতি রম্নপায়ন দেওয়ান (জেএসএস-সংস্কার গ্রম্নপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক।

ইউনাইটেড পিপিলস্‌ ডেমক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রসীত বিকাশ খীসা । ইউপিডিএফ এর খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মার্মা । ইউপিডিএফ এর খাগড়াছড়ি জেলা সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উজ্জল স্মৃতি চাকমা। জেএসএস (সংস্কার) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য সুধা সিন্ধু খীসা। জেএসএস (সংস্কার) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মৃনাল কানিত্ম ত্রিপুরা ফরম গ্রহন করেছে বলে জানা গেছে ।

অন্যদিকে- জাতীয় পার্টি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সমন্বয়কারী ও চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠ। একই ভাবে ফরম সংগ্রহ করেছে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানেও। বিএনপি নির্বাচনে গেলে বড় দুই দল প্রার্থী দেওয়ায় ভুল করলে ফলাফল পাহাড়ের আঞ্চলিক দলের পক্ষে সতন্ত্র প্রার্থীর অনুকূলে চলে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নতুন কৌশল আর পাহাড়ের রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো।

ঘটনাবহুল ও আলোচিত ২৯৮নং খাগড়াছড়ি আসন পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক দলগুলো পাহাড়ের ভোটারদের নিয়ে কসছে নতুন হিসাব নিকাশ। পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে বিগত সরকারগুলি শানিত্ম সমপ্রীতি, স্থীতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আনত্মরিক প্রতিশ্রম্নতির ফুল ঝুড়ি শুনিয়ে আসলেও এখানকার ভূ-রাজনীতি এবং অধিকারের প্রশ্নে সৃষ্ট আঞ্চলিক দলগুলির আধিপত্যের অভ্যনত্মরীণ মতবিরোধের চরম দ্বন্ধ সংঘাতে ও সরকারের এক পেশী মনভাবের কারনে এখনো পিছিয়ে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ মানুষ।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শামনে রেখে খবর নিয়ে জানা যায়, খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে এবার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯শ ৭৪ জন। এর মধ্যে পুরম্নষ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯’শ ৫৯ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩’শ ১৫ জন।

এবারের নির্বাচনে এই আসনের নির্বাচনী ফলাফল হতে পারে অতীতের ধারাবাহিকতার চেয়ে ভিন্ন। গত নির্বাচনগুলিতে বড় দু’দল আওয়ামীলীগ বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসলেও এবারের ফলাফল হতে পারে ভিন্ন। তবে এক্ষেত্রে বড় দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের একাদিক নেতাকর্মীদের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও দলের মধ্যে মাঝে পাওয়া না পাওয়া নিয়ে দ্বন্ধ ও দলের নেতাকর্মীদের বিরোধের ঘটনায় এভারের নির্বাচনের ফলাফল কোন দিকে যাবে না নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে সব কটি দলেই নিজ নিজ দলের পক্ষে জয়ের আশা করে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছ ।

অপরদিকে বিএনপি আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে তৃণমুল পর্যায়ে দলের সাংঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে পাড়ায় পাড়ায় সভা-সমাবেশ ও কমিটি গঠন করে এ এলাকার উন্নয়নে বিএনপি’র পক্ষে জনসমর্থন পাওয়ার জন্য কাজ করে চলেছে প্রতি-নিয়ত। খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র সভাপতি, সাবেক সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন ওয়াদুদ ভুঁইয়া এ অঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম ব্যক্তিত্ব উল্লেখ করে বিএনপি নেতারা বলছেন- বিগত জোট সরকারের তিনি খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলার যে উন্নয়ন করেছে তা সকলেরই জানা। তাই উন্নয়ন ও শান্তির ধারা অব্যাহত রাখতে অসামপ্রদায়িক এ নেতার বিকল্প নেই।

এদিকে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাচ্ছে কিনা তা এখনো স্পষ্ট না হলেও এ আসনের বিএনপির দু-সময়ের কান্ডারী খাগড়াছড়ি জেলা  বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক সাংসদ ওয়াদুদ ভুইয়া বলেন, আওয়ামীলীগ বিএনপির দাবী মেনে নিলে দলীয় নেত্রী যদি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে তবে দল থেকে মনোনয়ন পেলে অবশ্যয় নির্বাচিত হব। কারন আমি সারা জীবন মানুষের পাশে থেকে কাজ করে গেছি। পার্বত্য এলাকার সকল সমপ্রদায়ের স্থায়ীত্বশীল শান্তি, সমপ্রীতি রক্ষা, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচনে শিক্ষিত বেকারদের উপযোগী আত্মকর্মসংস্থান তৈরি ও পর্যায়ক্রমে র্দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ এলাকার জনগনের ভাগ্য উন্নয়নে উপযুক্ত পরিকল্পনা আনত্মরিকতার সহিত দলমত নির্বিশেষে সমান দৃষ্টিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

খাগড়াছড়ি আসনে জাতীয় পাটির সম্ভাব্য প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠও হচ্ছে এবারের এ আসনের প্রার্থী। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি একক ভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন,আমি মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে এ আসনের সকল জনসাধারনের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যত নতুন কর্মপরিকল্পানার মাধ্যমে কাজ করে যাবো। পাশাপাশি স্থায়ী শানিত্ম- সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবো। আশারাখি এ আসনের ভোটারেরা এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে বিজয়ী করবে।

অন্যদিকে, গত নির্বাচনে ফলাফলে তৃতীয় স্থান অধিকারী পূর্ণ সায়ত্বশাসনের দাবীতে আন্দোলনরত পার্বত্য চুক্তি বিরোধী আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ এবারের নির্বাচনে বড় প্রতিদ্বদ্ধীতা করবে প্রতিবারের মত। ইউপিডিএফের দাবী আওয়ামীলীগ সরকার তাদের স্বার্থ উদ্ধার করতে পাহাড়ের অস্ত্রধারী  একটি সংগঠন জেএসএস। এ সংগঠনের সাথে চুক্তি করে পাহড়েরর জুম্ম জনগণের সাথে বেইমানী করেছে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দরা বলেন, ইউপিডিএফ পাহাড়ের বসবাসরত আধিকার হারা হাপাড়ীদের জন্য কাজ করে। এটি কোন অস্ত্রধারী সংগঠন নয়। ইউপিডিএফ এর খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মার্মা বলেন, আমাদের সংগ্রাম অন্যায় এর বিরুদ্ধে। আমরা পাহাড়ে অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই। আর আমাদের এ অধিকার ক্ষমতাসীন দল জেএসএসের সাথে চুক্তির নামে প্রতারণা আর মিথ্যার ফুলঝুড়ি দিয়ে” হরন করেছে। সবুজ পাহাড়ে আমাদের আন্দোলন চলছে চলবে।

আল-মামুন/

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার :: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবপুর উপজেলার শিবনগর গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি ...