ব্রেকিং নিউজ

পাহাড়ে অস্থিরতায় দায়ভার কার?

পাহাড়ে অস্থিরতায় দায়ভার কারআল-মামুন ::

পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান সহিংসতা আর অস্থিরতার দায়ভার কার এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্তই শুনা যাচ্ছে লোকের মুখে মুখে। সরকার যেমন পারছেনা পার্বত্য চুক্তি (শান্তি চুক্তি) নামের আপোষ চুক্তির পূর্ণবাস্তবায়ন করে পাহাড়ের মানুষের আশার প্রদীপ জ্বালাতে। অন্যদিকে বিরোধী দলের কালোচুক্তি নামের আখ্যায়িত চুক্তি এখন পাহাড়ী জনপদে আতংক বলে অভিযোগ উঠছে বার বার।

 

থেমে নেই শান্ত পাহাড় অশান্ত করতে একাধিক ইস্যু। সরকার পক্ষের দাবী চুক্তির অধিকাংশ ধারায় বাস্তবায়িত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরে পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা পাহাড়ী (ক্ষুদ্র নিগোষ্ঠি)র নেতৃবৃন্দরা বলছে সরকার জুম্ম জনগণের সাথে চুক্তি বাস্তবায়নের নামে প্রতারণা করছে। এ অবস্থায় পাহাড়ে ধীরে ধীরে জেঁকে বসছে ভূমি বিরোধ ইস্যু।

 

সরকার পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর কর্মকান্ডের বিষয়ে অনেকটা প্রতিবাদমূখী হলেও কি কারনে নেওয়া যাচ্ছে এমন প্রশ্ন এখন সাধারন জনগণ থেকে শুরু করে ভূক্তভোগিদের পর্যন্ত। কিন্তু পাহাড়ের আঞ্চলিক আন্দোলনের পক্ষে স্বশস্ত্র সংঘাতে জড়িত একটি সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (সন্তু গ্রুপের) সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও বর্তমানে সংগঠন বেড়ে দাড়িয়েছে প্রকাশ্যে ৩টি।

 

যার প্রকাশ অনুসারে: চুক্তির পক্ষের (সন্তু গ্রুপের) পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, এমএন লারমা সমর্থিত (বর্তমান সুধাসিন্ধু খীসার নেতৃত্বধীন) পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, প্রসীত খীসার নেতৃতাধীন ইউনাইটেড পিপলস্‌ ডেমক্রেটিড ফ্রন্ড (ইউপিডিএফ) এর বাহিরেও রয়েছে বিভিন্ন উপদল।

 

পাহাড়ে সামপ্রদায়িক সমপ্রতি রক্ষাসহ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার ও সেনা প্রশাসন আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করলে ফলাফল শুন্য। এদিকে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে কাজ করলেও ব্যানারে এক। সবার দাবী চুক্তি বাস্তবায়ন।

 

এদিকে ক্ষুদ্র নিগোষ্ঠিগুলো পিচিয়ে অনেক পিছিয়ে এমন দাবী দীর্ঘ দিনের তার পরও বর্তমান সরকার পাহাড়ীদের উন্নয়নে কাজ করছে না এমন অভিযোগ সংগঠনগুলোর তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের এমপি-মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই উপজাতীয় হওয়ার পরও কেন এ অভিযোগ তা নিয়ে অসন’ষ্ট পাহাড়ে বসবাসরত বাঙ্গালীরা। কারন উন্নয়ন কর্মকান্ড এখন পাহাড়ের প্রত্যান্ত জনপদেও ছাড়িয়ে।

 

তার পরও কেন এ অসি’রতা এ প্রশ্ন আন্দোলনরত বাঙ্গালী সংগঠনগুলোর। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের নেতা পেয়ারুল আলম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ নেতা আব্দুল মজিদ বলেন, পাহাড়কে সব সময় অশান্ত করতে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো তৎপর হয়ে উঠেছে ফলে বিদ্যমান শান্তি অশান্তির হাতছানি।

 

অন্যদিকে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস্‌ ডেমক্রেটিড ফ্রন্ড (ইউপিডিএফ) এর দাবী চুক্তি বাস্তবায়ন হলেও পাহাড়ের স্থায়ী শান্তি সম্ভব। সাধারন মানুষের প্রশ্ন তবে কি পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতীদের নিয়ন্ত্রনে পরিচালিত হতে যাচ্ছে কি না। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেলও উদ্বেগ্ন পাহাড়ের বাঙ্গালীরা। কারন সরকার বনাম চুক্তি বাস্তবায়ন ইস্যু কি পার্বত্য চট্টগ্রামের বড় অপ্রীতিকর ঘটনা হতে যাচ্ছে কিনা তা এখন অজানা আতংক।

 

লেখক: ইউনাইটেড নিউজ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, ইমেইল: mamunkht@gmail.com

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Tahmina Shilpi 01

আশ্রয় নয় নির্ভরতা চাই

আশ্রয় নয় নির্ভরতা চাই। না মানে ঠিক নির্ভরতা নয়, ভরসা চাই। না, ...