‘পার্বত্য আদিবাসী নারীদের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে’

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)ঢাকা :: আজ শুক্রবার (২২ জুন) বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস), কাপেং ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক, উইমেন হেডম্যান কারবারী নেটওয়ার্ক, ছিএইচটিউইমেন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম, প্রগেসিভ, অনন্যা কল্যাণ সংগঠন, খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির যৌথউদ্যোগে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে আদিবাসী নারীর অংশগ্রহণ: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যত করণীয়’ শীর্ষক এক জাতীয় পরামর্শ সভা ঢাকাস্থ সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপিএস-এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভানেত্রীত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা।

উক্ত পরামর্শ সভায় সম্মান্বিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ( প্রশাসন) রমা রাণী রায়, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মং সার্কেল চিফ রাজা সাচিং প্রু চৌধুরী এবং প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় ।

আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বাঞ্ছিতা চাকমা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. আইনুন নাহার, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান।

উক্ত পরামর্শ সভায় বক্তব্য রাখেন সিএইচটি নেটওর্য়াকেরসদস্য থুয়াইইয়ং মারমা, অনন্যা কল্যাণ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ড নই প্রু নেলী, খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরা, সিএইচটিনারী হেডম্যান কারবারীর আহ্বায়ক জয়া ত্রিপুরা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি সোমা দত্ত, কারবারী সান্তনা খিসা চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক এর সচিব শান্তি বিজয় চাকমা, কাপেং ফাউন্ডেশনের সোহেল হাজং প্রমুখ।

রোকেয়া কবীর বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে নারীদের অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা দুর করতে আমাদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শুধু মুখে নয় কাজের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধুমাত্র প্রথাগত প্রতিষ্ঠানেই নয় বরং সকল প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে আদিবাসী নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এ্যডভোকেট সুস্মিতা চাকমা বলেন, অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নারীসমাজের মতো আদিবাসী সমাজেও নারীদের অধস্তন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ অধস্তনতার বেড়াজাল ছিন্ন করে এ সময়ে যেসব নারী হেডম্যান ও কারবারী পদে অধিষ্ঠিত হতে পেরেছেন, পুরুষতান্ত্রিক বলয়ে তাদের প্রতিনিয়ত নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

চাকমা সার্কেল প্রধান রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, প্রথাগত সকল আইনই সংবিধান অনুযায়ী তৈরী করা। প্রথাগত প্রতিষ্ঠানের সাথে নির্বাচনি প্রতিষ্ঠানের চিন্তাধারা এক নয়। কিছু নারী মূল দ্বায়িত্বে আসলেই নারীর ক্ষমতায়ন হয়না। আদিবাসী নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করতে তুলতে আইন করতে হবে। ক্ষমতা কাঠামোতে আদিবাসীদেও জন্য কোটা ব্যবস্থা প্রনয়ন করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি ব্যতীত বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারবেনা। ভূমি বন্টন নীতি এবং কেনাবেচার ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন)রমা রানী রায় বলেন, সব প্রথাগত আইনই যুগোপযোগী করতে হবে। নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলেকেই প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা ক্ষেত্রে সকল প্রতিবন্ধকতা দুর করতে হবে। বিভিন্ন সার্কেলের প্রধানদের প্রতি অনুরোধ তারা যেন দাবীসমূহ বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত মন্ত্রণালয়ে প্রেরণকরে।

রাজা সাচিংপ্রু চৌধুরী, মং সার্কেল প্রধান বলেন, অন্যান্য সার্কেলের তুলনায় মং সার্কেলে নারী হেডম্যান-কারবারী নিয়োগ বেশী। তবে তাদের জন্য প্রর্যাপ্ত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের সক্ষমতা বাড়ছেনা। মহামান্য হাইর্কোট রায় দিয়েছে যে মারমাদের প্রথাগত প্রতিষ্ঠান প্রথাগত আইনেই চলবে। মারমা বিবাহের রেজিষ্ট্রেশনের কার্যক্রম চলছে। বিচার প্রক্রিয়ায় মং সার্কেলে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আইনুন নাহার বলেন, প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র নারীর অংশগ্রহন নয়, গুনগতভাবে বাড়াতে হবে। নারীদেও আনুপাতিক হার আশাব্যঞ্জক নয়। দক্ষিন এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নারী নেতৃত্ব বিকাশে বংশপরম্পরা গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে। প্রান্তিক পর্যায়ে আদিবাসী নারীদের প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহনের ক্ষেত্রে কত শতাংশ বংশপরম্পরা গুরুত্ব রাখছে এর হিসাব করা প্রয়োজন। নারীর যোগ্যতা নিরুপনে নারীদের দৃষ্টিকোন থেকেই দেখতে হবে। প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে।

মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বাঞ্চিতা চাকমা বলেন, আদিবাসী ব্যবস্থায় পিতৃতাস্ত্রিক ব্যবস্থা আরোও কঠোর। প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে হেডম্যানদের কাছে বিবাহের রেজিষ্ট্রেশনের নথি থাকা নউচিত। মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান বলেন, পার্বত্য এলাকায় প্রথাগত প্রতিষ্ঠান নারীদের অংশগ্রহন সন্তোষজনক নয়। বিগত সময়ে আদিবাসী নারীরা শিক্ষা ক্ষেত্রেপিছিয়ে থাকার কারনে প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে নারীর অংশগ্রহণ কম ছিল। তবে গত পাঁচ বছরে নারী হেডম্যান কারবারী সংখ্যা বেড়েছে।

পার্বত্য নারী নেত্রী ডনাইপ্রু নেলী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের রাজ পরিবারগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। যোগ্য নারীদেরকে হেডম্যান-কারবারী করতে হবে। সরকারী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ যেন হেডম্যান-কারবারীদেরকে নিয়ন্ত্রন করতে না পারে সে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

হরিণাকুডুতে বিনামূল্যে জিংক ধানের বীজ বিতরণ

হরিণাকুডুতে বিনামূল্যে জিংক ধানের বীজ বিতরণ

ঝিনাইদহ :: বুধবার (১৮জুলাই) বিকালে হরিণাকুডু উপজেলার জোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরে জিংক ...