পারস্পরিক ভালোবাসার অনুপম দৃষ্টান্ত হয়ে রইল ‌‘রামগতি উৎসব’

‘রামগতি উৎসব’ সুলতান মাহমুদ আরিফ :: উৎসাহ, উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হল রামগতি উপজেলা কল্যাণ সমিতি আয়োজিত “রামগতি উৎসব -২০১৮” ।এটা শুধু উৎসব আর আনন্দের নাম ছিলো না । এটি ছিলো পারস্পরিক ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের অনুপম দৃষ্টান্ত।

দল-মতের উর্ধ্বে উঠে একে অপরের প্রতি ভালোবাসার চূড়ান্ত রুপ প্রকাশ পেয়েছে অত্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। রামগতি উৎসবে বক্তব্য রাখেন রামগতির বয়োজ্যেষ্ঠ কৃতি সন্তানরা সহকারে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কিয়দাংশ ব্যক্তিবর্গ। তাদের বক্তব্য এবং জ্ঞানগর্ব আলোকপাতের মাঝে ফুটে উঠে রামগতির সোনালী ভবিষ্যৎ। দিনব্যাপী বিভিণ্ন আয়োজনে রামগতি ্উৎসব পরিনত হয় সবার উৎসবে।

রাজধানীর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে দুই হাজার রামগতিবাসীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত উৎসবে মিডিয়া পাটনার হিসাবে ছিলেন, নোয়াখালী প্রতিদিন ও ইউনাইটেড নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম। সহযোগিতায় ছিলেন, হিমাচল এক্সপ্রেস, গ্রীন ঢাকা, অনিক ক্যাটারিং। মুনির চৌধুরী শামিম, আ হ ম ফযসল ও জোবায়ের তালুকদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রামগতির বিশিষ্টজনরা।

 ‌‘রামগতি উৎসব’ রামগতির কৃতি সন্তান, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ.স.ম আব্দুর রব বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে ৬০-৭০ ভাগ যুবক দিয়ে ভরপুর। আগামী নেতৃত্বে যুবকদের অবদানে সামনের সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাবে রামগতি। আজ বাংলাদেশের রাজনীতি আশংকা, সংশয় এবং আতংকে ভরা। এই রুপ ভয়াবহ রুপ থেকে একমাত্র যুবকদের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি রামগতির কল্যানকে দু’ভাগে ভাগ করেন। একটি হল “রামগতির কল্যাণ” এবং অন্যটি ” রামগতির মানুষের কল্যাণ”।

তিনি রামগতি সমিতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রামগতি সমিতির উদ্দেশ্য হওয়া চাই এই দু’উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়া।

আ.স.ম আব্দুর রব আরো বলেন, “বাংলাদেশের পতাকা যতদিন থাকবে, ততদিন বাংলাদেশের জমিনে এই রামগতি নামক ভূখন্ডটিও চির ভাস্কর হয়ে থাকবে”। এ ছাড়া ও তিনি বর্তমানে রামগতির নেতৃত্ব দানকারী নেতৃবৃন্দের প্রতি বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড সম্পাদন করার জোর দাবী জানান। রামগতিকে তিনি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ একটি উপজেলা বলেও বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন রামগতিতে যদি কিছু দিন আগে ২০০ বছরের ধ্বংসযজ্ঞ জাহাজ পাওয়া যায়! এতে বিষ্ময়ের কিছু নাই যে, রামগতির মাটির নিচে আছে প্রচুর তৈল আর গ্যাস।

সর্বশেষ তিনি বলেন, ভালোবাসার প্রিয় জায়গা রামগতি। অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ রেখে এসে এই মহতী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনে তিনি একটুও বিচলিত নন। যদিও তিনার এক ঘন্টা থাকার কথা ছিলো! শুধু রামগতির মানুষের ভালোবাসায় পুরো চার – পাঁচ ঘন্টা কাটিয়ে দেন রামগতি উৎসবে।

 ‌‘রামগতি উৎসব’ অনুষ্ঠানে রামগতি এবং কমলনগরের সংসদ সদস্য মো: আবদুল্লাহ বলেন- এটি শুধু উৎসবের নাম নয়! এটি একটি রামগতির মিলন মেলা। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয় লাভ করার পর থেকে পিঁছিয়ে পড়া রামগতির উন্নতির জন্য কাজ করেন অবিশ্রান্ত ভাবে। তিনি তাঁর কৃতিত্ব স্বরুপ সর্বনাশা মেঘনা নদীর করাল গ্রাস থেকে রামগতি বাসীকে রক্ষার নিমিত্তে বেড়ি বাঁধের কথা ও উল্লেখ করেন৷ এ ছাড়াও তিনি রাস্তার কাজ সহকারে তাঁর আমলের বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সর্বশেষ তিনি “রামগতি উপজেলা কল্যাণ সমিতি” কে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার অনুরোধ জানান। লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির গত ৮ মাস ধরে কমিটি জটিলতার দন্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রামগতি উপজেলা কল্যাণ সমিতিতে এমনটি হবে না বলে আমার বিশ্বাস।

সাবেক সংসদ সদস্য  এবিএম আশ্রাফ উদ্দিন নিজান বলেন, আজকের এই প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে পুরো রামগতিকে ধন্যবাদ। রামগতির মানুষ এগিয়ে যাবে তাদের উজ্জ্বল চিন্তা -চেতনার দিকে। সর্বদা সমিতির সাথে থাকবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

 ‌‘রামগতি উৎসব’ রামগতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, প্রতিটা সংগঠনের প্রথম পর্যায়ের মন মানসিকতা আর শেষ পর্যায়ের মন মানসিকতা এক থাকে না। সব ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব বাদ দিয়ে রামগতির উন্নয়নে কাজ করে যেতে হবে।

রামগতি উপজেলা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক একেএম জসিম উদ্দিন বলেন, এ অনুষ্ঠানের প্রতি রামগতির মানুষের ভালোবাসা আমাকে অভিভূত করেছে। ঢাকায় রামগতি মানুষের বসবাসই শুধু বাড়েনি, দেশের বিভিন্ন যায়গায় রামগতির সন্তানরা গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব পালন করছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একেএম শরীফ উদ্দিন বলেন, রামগতি সমিতির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র রামগতির রাস্তা ঘাট এবং অন্যান্য কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে রামগতির ছাত্রদের নিয়ে মাঝে নিরলস কাজ করা উচিত। রামগতির বেকারত্ব দুর করতে সর্বদা চেষ্টা করে যাওয়াকে প্রধান লক্ষ্য করা উচিত।

 ‌‘রামগতি উৎসব’ বাংলাদেশ গার্মেন্টস সমিতি চট্টগ্রামের সহ সভাপতি, আবুল কালাম আজাদ বলেন, রামগতির প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির শুধু ঢাকাতে মানুষের মন জয় করলে হবে না। তাদেরকে রামগতির গ্রাম্য এলাকার মানুষের খুব কাছে গিয়ে তাদের মন জয় করার ও চেষ্টা করতে হবে।

রামগতি আহমদিয়া কলেজের অধ্যাপক জামসেদা জাং বেগম বলেন, ১৯৮৫ এবং ৮৬ সালে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করি তখন আমার সাথে রামগতির আর কেউ ছিলো না। আজ এতগুলো রামগতির মানুষ দেখে সত্যি খুবই গর্বিত মনে হচ্ছে । এই একত্বতা ধরে রাখার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি (বিএনপি) শফিউল বারী বাবুর সহধর্মিণী ও অর্পন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বিথীকা বিনতে হোসাইন বলেন, রামগতি এবং কমলনগরের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। যে কোন উন্নয়নমূলক কাজে রামগতির জনগণকে এক্যবদ্ধ্য থাকা এবং গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।

 ‌‘রামগতি উৎসব’ “রামগতি উৎসব -২০১৮” উদযাপন কমিটির আহবায়ক এবিএম জসিম উদ্দিন বলেন, রামগতি সমিতির মুলত উদ্দেশ্য হলো রামগতির উন্নয়নমুলক কার্যক্রমের পাশাপাশি রামগতির মানুষ একই প্লাটফর্মে আবদ্ধ থাকা। বিশেষ করে ঢাকাস্থ রামগতির সবাই যেন বিপদে -আপদে একে অপরের ভ্রাতৃত্ববোধের জায়গা থেকে কাছে থাকতে পারে সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে যাওয়া।

এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন, ড. আশ্রাফ আলী চৌধুরীর সহধর্মিণী এবং ইসাবেল ইনডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান সৈয়দা সাজেদা পারভীন জলি প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে সবার একটাই চাওয়া রামগতির মানুষের সহানুভূতির জায়গা পরিস্ফুটিত হওয়া। রামগতির উন্নয়নে কাঁধে-কাঁধ রেখে এগিয়ে যাওয়া। রামগতিকে দেশ হতে দেশান্তরে পরিচিত করে তোলা। রামগতির উন্নয়নে নিরলস কাজ করা। সহমর্মিতা আর সহানুভূতি মনোভাবে একে অপরের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধের জাগ্রত করার আহবানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

স্টাফ রিপোর্টার :: জামালপুরে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ২০ হাজার কোটি টাকার ...