পানিতে ডুবে শিশুর মুত্যুর হার আশংকাজনক বাড়ছে

হাটহাজারীতে পানিতে ডুবে শিশুর মুত্যুর হার আশংকাজনক বাড়ছেমোহাম্মদ হোসেন, হাটহাজারী প্রতিনিধি :: হাটহাজারীতে বাড়ছে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা। অন্য যে কোনো কারণে শিশু মৃত্যুর চেয়ে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এসব দুর্ঘটনা ঘটে মূলত পরিবারের অসচেতনতার কারণে।

তবে তিন থেকে ৭ বছর বয়সীদের মৃত্যু হয় সাঁতার না জানার কারনে।

এ যাবত দেড় বছরে ২৫-৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যাওয়াদের বয়স দেড় থেকে ৫/৭ বছর। অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে এসব মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে বলে সচেতন মহলের অভিমত।

উপজেলার আওতাধীন ১৪ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা রয়েছে। ইউনিয়নগুলো হলো ফরহাদাবদ, ধলই, গুমানমর্দ্দন, মির্জাপুর, ছিপাতলী, নাঙ্গলমোড়া, মেখল, বুড়িশ্চর, উত্তর মাদার্শা, দক্ষিণ মাদার্শা গড়দুয়ারা, ফতেপুর, চিকনদন্ডী, শিকারপুর ও হাটহাজারী পৌরসভা। এসব এলাকায় শিশুরা পরিবারের লোকজনের অজানে- হামাগুড়ি, একটু একটু হাঁটাচলা শিখার পর খেলতে গিয়ে পুকুরের পানিতে নিজের ছায়া দেখে সমবয়সী মনে করে ছায়াকে ধরতে গিয়ে পুকুরের পানিতে পড়ে গিয়ে মারা যায়।

বিভিন্ন সুত্রে জানাগেছে, ৩ মে ২০১৫ পৌর এলাকার পশ্চিম দেওয়ান নগর দেড় বছরের শিশু নাদিয়া, উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নে এমরান(২), ২৯ আগষ্ট ধলই এনায়েতপুর গ্রামের আব্দুল মোতালেব এর শিশুপুত্র মো: ওয়হেদ(৪), ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে পৌর এলাকার ১১ মাইল কবির চেয়ারম্যানের বাড়ি এলাকায় নাদিয়া আক্তার(৫), ২৭ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ মেখল আইয়ান (২) ৫ ফেব্রয়ারী পৌর এলাকার আবা্বাছিয়াপুল এলাকায় জুয়েল(৩) মির্জাপুরে মমতাজ ১৮ মাস,

এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত পানিতে পড়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা জন্য আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক যেসব শিশুদের মৃত বলে ঘোষণা করেছে তাদের মধ্যে মো: মিজান (৪), মিষ্টি আচার্য (২), হামিদুল রহমান (দেড়), নাঈমা (৪), স্কুল শিক্ষার্থী মো: ইসমাইল প্রকাশ ঝিকু (১২), মো: নাছির (৪), মো: মোচ্চাফিজ (২), মো: জুয়েল (৩), ইসরাত জাহান আন্নি (দেড়), সজিব (৪), রুমা আকতার (১১), মো: জুবায়েত হোসেন (২), মো: এমরান (২), মো: ইমরান (দেড়) আসফাক (২), মুনতাহা (৬), রিশিতা দাশ (৫), আয়শা আকতার (১১) ও সজিব (৪) অন্যতম। বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাদেরকে আনা হয়েছে তারা ছাড়াও আরো অনেক শিশু পুকুরের পানি, খাল, বন্যার পানি ও নদীতে ডুবে মারা যায়।

অনেকে প্রশাসনিক হয়রানির কারণে কোন চিকিৎসা কেন্দ্রে না এনে স্থানীয়ভাবে মৃত শিশুদের দাফন কার্য সম্পাদন করেছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গণধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার :: পাবনা জেলার সুজানগরে গণধর্ষণের শিকার এক কলেজছাত্রী অপমান সইতে ...