পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ সাইড লাইনের রমরমা ব্যবসা

বেডপশিপু ফরাজী, চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি:: চরফ্যাশনে পল্লী বিদ্যুৎতের অবৈধ সাইড লাইনের রমরমা ব্যবসা চলছে। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, চরফ্যাশন অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী ইঞ্জিনিয়ার মুক্তার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, উত্তম, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদ্যুৎ স’াপন করার জন্য তারা তাদের ইচ্ছেমত কিছু জায়গায় বেআইনীভাবে বিদ্যুৎ লাইন চালু করে এবং ডিজাইনের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, চরফ্যাশন উপজেলার কিছু কর্মকর্তার যোগসাজসে নিম্ন লিখিত অবৈধ লাইনগুলো মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে স্থাপন করা হয়।

১.    হাজারীগঞ্জ ৩নং ওয়ার্ডে তেলের দোকান ফরহাদ মিয়ার বাড়ির দক্ষিণ পার্শ্বে কালাম মাঝি বাড়িতে ১টি খুটি স্থাপন;
২.    চেয়ারম্যান হাটের পূর্ব পার্শ্বে বড় বাড়ি ১টি খুটি স্থাপন;
৩.    সিএফডি ১০২/১০ এক স্পান লাইন অবৈধ স্থাপন;
৪.    খাসের হাটের চৌমুহনী ছমিলের উপর ১ স্পান লাইন স্থাপন;
৫.    চেয়ারম্যান হাটের উত্তর পাশে লোকমান মিয়ার বোনের বাড়ি ১টি খুটি স্থাপন;
৬.    চেয়ারম্যান হাটের পশ্চিম পাশে যাহার লট নং ১৪৩৩৩ সাজির বাড়ির দরজার সামনে জাহাঙ্গীর ডুবাই ওরপে গুজা মুন্সী বাড়ির ১টি খুটি স্থাপন;
৭.    চেয়ারম্যান হাটের উত্তর পশ্চিম পাশে যাহার লট নং ১৪১৫৩ কোম্পানীর দোকানের উত্তর পাশে ইউনুছ মাওঃ বাড়ি ১টি খুটি স্থাপন; কোম্পানীর দোকানের পূর্ব পাশে জালু মুন্সী বাড়ী ১টি খুটি স্থাপন; ছিদ্দিকের দোকানের উত্তর পশ্চিম পাশে যার লট নং ১৪১৫১৪, এখানে ৪টি খুটি স্থাপন; চেয়ারম্যান হাটের দক্ষিণ মাথায় মাপু আলম নামে ১টি মিটার ১৫০ ফুটের মাথায় স্থাপন করা; এ ছাড়া টাকার বিনিময়ে চেয়ারম্যান বাজার নামে বেনামে অসংখ্য মিটার স্থাপন করা হয়। চেয়ারম্যান হাট বাজারের পূর্ব মাথায় বিমল নামে অন্যের ঘরে ১টি মিটার স্থাপন করা হয়।
৮.  জাহানপুর ইউনিয়নে অত্রাফিসের ১. নুর ইসলাম ২. নাজিম ৩. মিজান ৪. ছালাউদ্দিন মেম্বার ৫. আলী আকবর ফরাজী ৬. নাজিম বিভিন্ন ডিজাইনের মাধ্যমে লাইন পাস ও মিটার পাস।

এভাবেই প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড গুলোতে চলছে সাইড লাইনের রমরমা ব্যবসা। এতে করে জনসাধারন এবং প্রকৃত গ্রাহকরা বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের চরম দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে বিদ্যুৎ কোম্পানিদের। সরকার বঞ্চিত হচ্ছে মোটা অংকের আয় কর লাভের অংশ থেকে। দেখা দিচ্ছে বিদ্যুৎ ঘাটতি, বাড়ছে প্রতি দিন লোডশেডিং।

এই সংযোগ গুলির বিরুদ্ধে কয়েকবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করার জন্য আসলেও, ওই তিন কর্মচারির সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সব কিছু সঠিক আছে রিপোর্ট প্রদান করে চলে যায়।

চরফ্যাশন অফিসে দালালের মাধ্যমে মিটার পাস করানো হয় এবং কোন ইলেকট্রিশিয়ানের নাম ছাড়াই গ্রাহকের অনুপসি’তিতে তাদের নাম স্বাক্ষর করে। মাঝে মধ্যে দেখা যায় ইলেকট্রিশিয়ান জসিম উদ্দিন, জাবেদ অফিসে আসে না কিন্তু দালালের মাধ্যমে মিটার পাস করে এবং তাহরা চেয়ারম্যান বাজার অফিস খুলে সেখান থেকে অবৈধ কাজ পরিচালনা করে আসছে।

চরফ্যাশনে মোট পল্লী বিদ্যুৎতের গ্রাহক সংখ্যা ১৫ হাজার প্রায়। অবৈধ সাইড লাইন সংযোগকারীরা সংবাদকর্মীর কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রতিটি সংযোগ লাইনের জন্য মিটার রিডিং ম্যান নিচ্ছেন ৩০০/৪০০ টাকা করে, আর লাইন ম্যান নিচ্ছেন ১০০/১৫০ টাকা করে। যার কারনে আমরাও সুযোগ পাচ্ছি অবৈধ লাইন সংযোগ দিতে।

চরফ্যাশন উপজেলার দায়িত্বরত পল্লী বিদ্যুৎতের কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান কাছ থেকে অবৈধ লাইন সংযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ভোলা জিএম এর বরাত দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি আরো বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিতে বল্লে, আমরা অবৈধ লাইন সংযোগ কাটার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

অভিযোগকারীরা বলেন, অবৈধ সাইড লাইনের সাথে আনোয়ার হোসেন জড়িত আছেন। কারন তিনিও প্রতিমাসে অবৈধ লাইন সংযোগকারীদের কাছ থেকে মাশোয়ারা পাচ্ছেন। তা না হলে তিনি অবৈধ লাইন সংযোগ কাটার ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন?

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বুলেট ট্রেনে

বাংলাদেশ হয়ে কলকাতা পর্যন্ত বুলেট ট্রেনের পরিকল্পনা চীনের

ডেস্ক নিউজ :: সড়ক, রেল ও জলপথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে ...