নিয়ম কানুন ছাড়া চলছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

নিয়ম কানুন ছাড়া চলছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারমহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :: খুলনার পাইকগাছায় নিয়ম কানুন ছাড়া চলছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো। উপজেলার পৌরসদর, বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি ও বাঁকা বাজারে রয়েছে এক ডজনের বেশি ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টার।

আর এর মালিকগণ মানছে না কোনো আইন কানুন ও নিয়ম নীতি। অবাধে গড়ে উঠা অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নেই তেমন কোনো ডাক্তার, নার্স, কর্মচারী ও যন্ত্রপাতি। ফলে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ রোগীরা এক দিকে প্রতারিত হচ্ছে অপরদিকে সেবার নামে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। গত ২৫ জানুয়ারি স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা আকস্মিক বাঁকা বাজারের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো পরিদর্শন করলে এমন অনিয়ম ধরা পড়ে।

সূত্র মতে, বেসরকারি ক্লিনিক করার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী একটি ক্লিনিকে কমপক্ষে ৩জন মেডিকেল অফিসার, ৩ জন ডিগ্রিধারী নার্স, ৩ জন সহকারী সেবিকা, ৩ জন ওয়ার্ড বয়, ৩ জন সহকারী ওয়ার্ডবয়, ৩ জন ঝাঁড়–দার, ৩ জন আয়া, ২ জন সুইপার, রিসিপ্টশনালিস্ট, পর্যাপ্ত জনবল, স্বাস্থ্যসম্মত অপারেশন থিয়েটার, হাইড্রোলিক টেবিল, এ্যানেথেশিয়া মেশিন, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি, অটোকিলার মেশিন, ওয়াশ রুম, নরমাল ডেলিভারী টেবিল, জরুরী বাতি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ঔষধ রাখার ফ্রিজ, রোগীদের বসার সুব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকা বাধ্যতামূলক।

অনুরূপভাবে প্যাথলজি করার ক্ষেত্রে ডিপ্লোমাধারী প্যাথনোলজিস্ট, সহকারী প্যাথনোলজিস্ট, রক্ত সঞ্চালনের সুব্যবস্থা, রক্ত রাখার ফ্রিজ, জরুরী মেডিসিন রাখার ফ্রিজ, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ও আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতি থাকা বাধ্যতামূলক।

অথচ, এসব নিয়ম-কানুন তোয়াক্কা না করে অবাধে গড়ে উঠেছে বেশির ভাব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বাঁকা বাজারে এক প্রান্তে রয়েছে মনোয়ারা ক্লিনিক। যার পরিচালনায় রয়েছেন তৃপ্তি রাণী। এ ক্লিনিকে ডাক্তার, নার্স ও যন্ত্রপাতি বলতে কিছুই নাই। বাজারের মাঝে আশালতা ক্লিনিক এন্ড তুলি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় রয়েছেন, দেবাশীষ মন্ডল। অন্ধকার গলির মধ্যে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেবার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন।

একই বাজারে সার্জিক্যাল ক্লিনিকটি পরিচালনায় রয়েছে ডাঃ গৌতম সরকার। পর্যাপ্ত জনবল ছাড়াই ১০ বেডের স্থলে চলছে ২০ বেডের সেবা কার্যক্রম। একদিকে নেই বিশেষজ্ঞ কোনো ডাক্তার ও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি। একই অবস্থা কপিলমুনি স্বপ্ননীল ক্লিনিক, কপোতাক্ষ ক্লিনিককে।

জানাযায়-ডেপুটি সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা বাঁকা বাজারের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শনকালে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ধরা পড়ে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায় মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ও কাগজপত্র বিহীন প্রতিষ্ঠান। বাঁকা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের স্বত্ত্বাধিকারী ডাঃ গৌতম সরকার জানান-স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা আমার প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন কালে শুধুমাত্র ডাক্তারের উপস্থিতি পায়নি।

নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে আইনের প্রতি বৃদ্ধা অঙ্গুলী দেখিয়ে অবাধে চলা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গরম পানি পানে ১০ উপকার

নিউজ ডেস্ক :: পানি পানে অনেক উপকার তা আমরা সবাই জানি। তবে ...