নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী: বিমানবন্দরে আ.লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীবাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক থেকে: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে  ৬৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে স্থানীয় সময় সকালে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছলে  স্থানীয় শত শত আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মিরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়।

অপর দিকে বিএনপি কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

গত সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীসহ সফরসঙ্গী বহনকারী এমিরেটসের ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২০ মিনিটে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সকাল ৭টা থেকে সেখানে শত শত আওয়ামীলীগের কর্মিরা বিমানবন্দর সংলগ্ন সর্ব সাধারনের গাড়ি রাখার স্থানে জড়ো হতে থাকে।

একই স্থানের অন্য প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা কর্মিরা  কালো পতাকা হাতে প্রদর্শন বিক্ষোভ করে হাসিনা বিরোধী নানা শ্লোগান দেয়। তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জিয়াউদ্দিন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের নেতারা এবং বিপুল প্রবাসী বাংলাদেশি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে গাড়ি পার্কিংস্থলের সামনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিক্ষোভ ও কালো পতাকা প্রদর্শন করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিভিন্ন শ্লোগান দেন এবং শ্লোগান লেখা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন তুলে ধরে। বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমেদ, শরাফাত হোসেন বাবু, জিল্লুর রহমান জিল্লু, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, গিয়াস উদ্দিন, আব্দুল বাতিন, আতাউর রহমান আতা প্রমুখ।

বিএনপির বিক্ষোভের কাছে দাঁড়িয়েই প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে শ্লোগান দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ অভ্যর্থনায় নেতাকর্মিদের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, আব্দুর রহিম সাইফুল, দেওয়ান মহিউদ্দিন, আব্দুর রহিম বাদশাএর নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ সভাপতি জেড এ জয়, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া প্রমুখ।

অপর দিকে নিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট, শরাফত হোসেন বাবু, গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান প্রমুখ। পরে আনুষ্ঠানিক মোটরযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে নিয়ে যাওয়া যায়। আট দিনের এ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এখানে অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরে ৬৯তম সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। তিনি আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ডড্রফ অ্যাস্ট্ররিয়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের দেওয়া সংবর্ধনা ও মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু সম্মেলন ২০১৪-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগদান করবেন এবং সম্মেলনের ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন অ্যান্ড এম্বিশন অ্যানাউন্সমেন্ট’ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ‘গ্লোবাল এডুকেশন ফার্স্ট ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনায় সভায় যোগদান করবেন।

শেখ হাসিনা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রান্ড হায়াত হোটেলে আমেরিকান চেম্বার ও আমেরিকান বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত এক ভোজ সভায় অংশ নেবেন। তিনি একই দিন কমনওয়েলথের সরকার প্রধানদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ‘দ্যা ইন্টারন্যাশনাল পিসকিপিং অপারেশন’ শীর্ষক এক সম্মেলনে অংশ নেবেন। একই দিন তিনি বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

২৭ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা সেন্ট্রাল পার্কের গ্রেট লনে আয়োজিত ‘গ্লোবাল সিটিজেন ফ্যাস্টিভ্যাল’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। জাতিসংঘ সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এ ছাড়া তিনি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ, বেলারুশের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল ভি মায়াসনিকোভিচ, কাতারের আমির শেখ তামীম বিন হামাদ আল থানি ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলন করবেন। এ ছাড়া ২৭ সেপ্টেম্বর প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

৩২ ধারা বহাল রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

ষ্টাফ রিপোর্টার :: সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তি সত্ত্বেও বহুল ...