নারীদের ৪০ শতাংশ কাজের কোনো মূল্যায়ন হয় না

নারীদের কাজের কোনো মূল্যায়ন হয় নাষ্টাফ রিপোর্টার :: নারীদের দিনের কাজে অন্তত ৪০ শতাংশ কাজ পরিবার এবং স্বজনদের পেছনে ব্যয় করেন, কিন্তু তার এসব কাজের কোনো মূল্যায়ন হয় না।
নারী অধিকার রক্ষা এবং নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে এ ধরনের কাজের মূল্যায়ন করা জরুরি বলে বলছে বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইড।

সম্প্রতি দুটি জেলায় চালানো একটি গবেষণা বলছে, অমূল্যায়িত সেবা খাতে পুরুষদের তুলনায় নারী অন্তত ৪০ ভাগ সময় বেশি ব্যয় করেন। কিন্তু তাদের এই কাজের কোনো স্বীকৃতি নেই।
গ্রামাঞ্চলে নারী ও পুরুষ দিনের কতটা সময় কাজ করেন এ বিষয়ে তুলনামূলক এক গবেষণায় এই তথ্য তুলে এনেছে বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইড।

রান্নাবান্না ও সন্তান লালন-পালন থেকে শুরু করে গৃহের যেসব কাজ নারীরা করেন সেগুলোকে অমূল্যায়িত সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় দুটো জেলা লালমনিরহাট এবং গাইবান্ধায় এই সমীক্ষা চালানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা সমন্বয়ক হেলাল উদ্দিন জানান, এই দুটি জেলার এখানকার নারীরা প্রতিদিন প্রায় ছয় ঘণ্টার বেশি সময় এ ধরনের সেবায় সময় ব্যয় করেন। একই কাজে পুরুষরা সময় ব্যয় করেন একঘণ্টার মতো। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে শিশুদের লালন পালন করা, রান্না করা, গৃহস্থালি কাজে সময় ব্যয়, বয়স্কদের সেবা করা। হেলাল উদ্দিন বলেন, কিন্তু এসব কাজে পরিবারে বা সমাজে স্বীকৃতি পায় না। এমনকি রাষ্ট্রেও এই সেবা বা কাজ মূল্যায়িত হয় না।
তিনি বলেন, অনেক দেশে এসব কাজ বিবেচনা করে একটি হিসাব বের করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ রকম কোনো পদ্ধতি চালু হয়নি। তবে কর্মক্ষেত্রে যেভাবে দক্ষ, স্বল্প দক্ষ, অদক্ষ ইত্যাদি বিভাগে ভাগ করে মজুরি নির্ধারণ করা হয়। সেভাবে যদি এই ধরনের কাজের মূল্যায়ন করা হতো, তাহলে প্রত্যেক নারীকে প্রতিদিন অন্তত ৮০০ থেকে ১০০০ মজুরি দিতে হতো।
অ্যাকশন এইড কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন আরো বলেন, এখন নারীরা বাইরেও কাজ করেন। কিন্তু তাই বলে তার ঘরের কাজ কমেনি। বাইরের কাজের সঙ্গে ঘরের কাজও যোগ হয়ে বরং তার কাজ এখন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। একজন নারীর সারাদিনের কাজের অন্তত ৪০ শতাংশ এই কাজে ব্যয় হয়, কিন্তু তার কোনো মূল্যায়ন হয় না। কিন্তু নারীর অধিকার রক্ষায় এ ধরনের কাজের মূল্যায়ন করা জরুরি।’
হেলাল উদ্দীন আরো বলেন, আমরা তিন ধরনের কাজকে বড় আকারে ভাগ করেছি। একটাকে বলছি আমরা অমূল্যায়িত সেবামূলক কাজ, অন্য একটা হচ্ছে উৎপাদনমূলক কাজ এবং আরেকটা হচ্ছে সামাজিক ও ব্যাক্তিগত সেবাখাত। আমরা গাইবান্ধাতে দেখেছি পুরুষের চেয়ে নারীরা দৈনিক প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট বেশি কাজ করে। লালমনিরহাটে অমূল্যায়িত সেবাখাতে নারীরা কাজ করে ৭ ঘণ্টা, যেখানে পুরুষরা কাজ করে ১ ঘণ্টা ১৮ মিনিট।
অমূল্যায়িত সেবাখাত বলতে কোন কোন কাজকে এখানে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে এর উত্তরে হেলাল উদ্দীন বলেন, এ কাজগুলোর মধ্যে আছে শিশুদের লালন-পালন করা, গৃস্থালির যে সমস্ত কাজ রয়েছে যেমন-ঘর পরিষ্কার করা, রান্না করা, বয়স্কদের সেবা করা এ ধরনের কাজগুলোকে আমরা অমূল্যায়িত সেবামূলক কাজ বলছি।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার :: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবপুর উপজেলার শিবনগর গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি ...