না’গঞ্জ জেলা আ’লীগের নয়া কমিটি

এম আর কামাল।

নারায়ণগঞ্জ: সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পূর্বেই ঘোষিত হয়ে গেলো বহুল প্রতীক্ষিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি। তবে পূর্ণাঙ্গ নয়, এখন শুধুমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

narayanganj-al-photoরোববার নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। আর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর ঘোষণা করা হবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। সভাপতি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক ও আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল হাই ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো: বাদল প্রায় দেড় যুগ পরে গঠিত হওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের নতুন কমিটির নেতৃত্বে এসেছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের নব গঠিত কমিটির সভাপতি আবদুল হাই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিছুক্ষণ আগে মুঠোফোনে আমাকে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করার স্বীকৃতি মিললো। একইভাবে নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো: বাদল তার সেক্রেটারী হওয়ার সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে আল্লাহর কাছে সুক্রিয়া আদায় করে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাংসদ শামীম ওসমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

আওয়ামীলীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ২০ তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথা অনুযায়ী দলীয় কাউন্সিলের সময় সভানেত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন এবং জেলা ও মহানগরের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক গন দলীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। সে অনুযায়ী সারা দেশের সব জেলা মহানগরের সভাপতি-সম্পাদকের নাম ঘোষনা হয়েছে। কিন্তু নারায়নগঞ্জ সহ ৫ টি জেলা বাকি আছে। তাই কাউন্সিলের পূর্বেই বাকি থাকা ৫টি জেলার সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নাম ঘোষনা করা হয়।

উলেস্নখ্য, সর্বশেষ ’৭৫এর পট পরিবর্তনের দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে। ১৯৯৭ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওইসময় নাজমা রহমান সভাপতি ও শামীম ওসমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ দেড় যুগেও সম্মেলন হয়নি দলটিতে। ২০০২ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে ৬৩ সদস্যবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সাবেক এমপি এসএম আকরামকে আহবায়ক ও মফিজুল ইসলামকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়। ওই আহবায়ক কমিটির ৩ মাসের মধ্যে সম্মেলন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও প্রায় ১৪ বছরেও তা পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে শামীম ওসমানকে আওয়ামীলীগ সমর্থন দিলেও বিদ্রোহী প্রার্থী আ’লীগ নেত্রী ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে কাজ করেন জেলা আওয়ামীগের আহবায়ক এস এম আকরাম। নির্বাচনে আইভী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে গলায় ফুলের মালা পরিয়ে আওয়ামীলীগের আহবায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করে সাবেক এমপি এসএম আকরাম। তারপর আকরাম যোগ দেন নাগরিক ঐক্যে। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন যুগ্ম আহবায়ক মফিজুল ইসলাম। ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রম্নয়ারী ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মফিজুল ইসলাম চলে যান না ফেরার দেশে। এরপর থেকে জেলা আওয়ামী লীগ মূলত নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে এখানে দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। সমপ্রতি মহানগর আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়েছে। এ কমিটিতে বর্তমান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামীলীগ থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আসা আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি এবং এড.খোকন সাহাকে সাধারন সম্পাদক করা হয়।

দলীয় সূত্র আরো জানিয়েছে, আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রে কোন সংসদ সদস্য জেলা কমিটির সভাপতি হতে না পারলেও এ পদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের নাম প্রস্তাব করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। কিন্তু শামীম ওসমান নিজে সেই পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার অনিচ্ছা প্রকাশ করে বয়োজেষ্ঠ্য হিসেবে জেলা পরিষদ প্রশাসক ও আওয়ামীলীগের প্রবীণ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে সভাপতি পদ দেয়ার সম্মতি প্রকাশ করেন। ফলে আব্দুল হাই জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদ প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আমরা নির্বাচন বয়কট করবো না: ড. কামাল

স্টাফ রিপোর্টার :: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ...