ধর্ষনের শিকার হয়ে অন্ত:সত্বা নারীর মামলা ৫ দিনও নথিভুক্ত করেনি পুলিশ

ধর্ষনের শিকার হয়ে অন্ত:সত্বা নারীর মামলা ৫ দিনও নথিভুক্ত করেনি পুলিশ   আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :: ভারতের কাটাতার ঘেষা সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ঠাংঝাড়া গ্রামের প্রভাশালী আপিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্ত এক অসহায় নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে এক সন্তানের ওই জননী অন্ত:সত্বা হয়ে পড়লে গ্রামবাসীরা ধর্ষক আপিজুলকে একাধিকবার সালিস বৈঠকের আহবান জানায়।

কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের সালিশ বৈঠকে সারা না দিয়ে থেকে প্রাকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই ধর্ষক। তাই নিরুপায় হয়ে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় অবশেষে থানা পুলিশের আশ্রয় নেয় অন্ত:স্বত্বা ওই নারী।

কিন্তু অদৃশ্য কারণে সেই লিখিত অভিযোগটি ৫ দিনেও নথিভুক্ত করেননি থানা পুলিশ। এতে করে ওই এলাকার মানুষের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম নিচ্ছে ।

ওই গ্রামের বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য মানুষ আক্ষেপের শুরু বলেন, প্রভাবশালী ধর্ষকের খুঁটির জোর বলে কথা! তাই অসহায় নারীর পেটের সন্তানের পিতৃত্বের পরিচয় দিতে নারাজ আপিজুল । তাই সবাইকে ম্যানাজ করে চলছে অপচেষ্ঠা।

তবে থানা পুলিশের দাবি, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দু‘একদিনের মধ্যে ওই নারীর অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হবে বলে জানান হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জাকির হোসেন।

গ্রামবাসী ও অভিযুক্ত নারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ওই গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্ত ওই নারী একটি টিনের চালা করে তার শিশু সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছে। অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবন-জীবিকা চালায় সে। কিন্তু সেই নারীর উপর ললুপ দৃষ্টি পড়ে প্রতিবেশী প্রভাবশালী ও তিন সন্তানের জনক আপিজুলের।

এই অবস্থায় গত বছর সেপ্টম্বরের ৭ তারিখে গভীর রাতে আপিজুল ওই নারীর ভাঙা বেড়া কেটে ঘরে প্রবেশ করে মুখ চেপে ধরে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় মেয়েটি চিৎকার চেঁচামেচি করতে চাইলে তাকে আপিজুলের হাতে থাকা ছুড়ি দিয়ে অবুঝ সন্তানসহ মেরে ফেলার হুমকি দেয়। শুধু তাই নয় তাকে বিয়ে করে জমি লিখে দিবে বলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পার দিন তাকে ধর্ষন করে আপিজুল।

এতে ওই নারী অন্ত:স্বত্ব হয়ে পড়লে বিষয়টি সমাধানে গ্রামবাসীরা আপিজুলকে একাধিবার সালিসে বসার প্রস্তাব দিলেও সে বৈঠকে হাজির হয়নি বলে সাংবাকিকে জানিয়েছেন ঠ্যাংঝাড়া ইউ,পি‘র মহিলা সদস্যা জোবাইদা গুলশান আরা বেলী।

হাতীবান্ধা আঁচল নারী সংস্থার নেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন ফেন্সি জানান, অসহায় নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার বিষয়টি গত ৫ দিনেও থানায় মামলা নথিভুক্ত না হাওয়ায় পুলিশের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ । এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে প্রয়োজনে হাতীবান্ধার নারীরা রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামবে।

তবে হাতীবান্ধা থানার ওসি আব্দুল মতিন প্রধান বলেন, অভিযোগপত্রে ওই নারীর টিপ সইটি অষ্পষ্ট। তাই তাকে থানা আসতে বলা হয়েছে। এলে অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হবে বলে দাবি ওসি আব্দুল মতিন প্রধানের।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

হাইকোর্ট

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট

স্টাফ রিপোর্টার :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট করা ...