পুনর্বাসন নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ: পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কর্মশালা

PBRLPস্টাফ রিপোর্টার :: অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের পুনর্বাসন নীতিমালায় নয়; নিজস্ব নীতিমালায় ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবী জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে পুনর্বাসন কার্যক্রমে যথাযথ ক্ষতিপূরণ বাড়ানোর কথাও বলেছেন তারা।

শনিবার (২৬ আগষ্ট) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের (পিবিআরএলপি) উদ্যোগে ‘উন্নয়ন প্রকল্প : পুনর্বাসন পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট (সিএসসি) ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সহযোগীতায় বেসরকারী সংস্থা ডরপ দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করে।

পিবিআরএলপি প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব প্রকৌশলী গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএসসি’র প্রধান সমন্বয়ক মেজর জেনারেল আবু সাঈদ মো. মাসুদ।

ডরপ এর প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশের প্রথম গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এএইচএম নোমান ‘পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে এনজিও’র ভূমিকা’ উপস্থাপন ও সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আব্দুল মুকিম সরকার। আলোচনায় অংশ নেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মোঃ ফজলুল কাদের, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আবুল কালাম আজাদ, কর্নেল নূর-ই-আলম মোঃ যোবায়ের সারোয়ার, কর্মশালার সার উপস্থাপন করেন রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নাজনীন আরা কেয়া, বিষয় ভিত্তিক- প্রকল্প তথ্য ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা- প্রকল্পের চীফ রিসেটেলমেন্ট কর্মকর্তা এএম সালাহ উদ্দীন, পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও সমন্বয়- কর্নেল সাঈদ আহমেদ, কমিটির কার্যক্রম- উপপরিচালক (পরিবেশ) মো. শাহীদুল ইসলাম, পুনর্বাসন প্রাপ্যতা- ডরপ’র টিম লিডার মোঃ আফতাব উল আলম। এ ছাড়া দোহাজারী- কক্সবাজার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ মফিজুর রহমান, আখাউড়া-লাকসাম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোজাম্মেল হকসহ বিশিষ্টজনরা আলোচনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সরকার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে খুব কমসংখ্যক মানুষই আছে যারা আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থসামাজিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। সঠিকভাবে পুনর্বাসন করতে পারলে এসডিজি অর্জনও সহজ হবে।

PBRLPরেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, উন্নয়নের জন্য কারো জীবন মানের অবনতি করা যাবে না। চেস্টা করতে হবে তাদেরকে কমপক্ষে পূর্বের স্থানে যাতে থাকেই। ভূমি হারানো মানুষদের যদি আমরা সঠিকভাবে চিহ্নিত ও পুনর্বাসন করতে না পারি তাহলে তারা আরো দরিদ্র হবে। প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে কোন ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি গ্রহণযোগ্য হবে না।

সিএসসির প্রধান সমন্বয়ক ও হাতিরঝিল প্রকল্প খ্যাত মেজর জেনারেল আবু সাঈদ মো. মাসুদ বলেন, সমন্বিত ভাবে কাজ করে পূনর্বাসন কার্যক্রমকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহজে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং জীবনমান উন্নয়নে সংযোগ তৈরী করার পাশাপাশি একটি দেশীয় সমন্বিত পুনর্বাসন নীতিমালা করার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করে।

ডরপ’র সিইও এএইচএম নোমান বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারী প্রতিশ্রুতি ত্বরান্বিত করতে দেশজ পরিকল্পনায় পাবলিক পূয়র প্রাইভেট পার্টনারশীপের (পিপিপিপি) মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্থদের স্বপ্ন পূরণে পদ্মা সেতু নিজের টাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক দৃড়তাকে ধারক ও বাহকের চেতনা নিয়ে আমাদের উন্নয়ন ও পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে সমতালে এগিয়ে নিতে হবে। তাদের মধ্যে সরাসরি মালিকার অংশীদার সম্পদ হস্তান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলেই এসডিজি বাস্তবায়নে সমাজ ব্যবস্থায় বৈষম্যহীন পথ রচনা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি দেশের প্রথম উদ্ভোবনী উদ্যোগ ডরপ-পিবিআরএলপি অনলাইন ডাটাবেস ও সফটওয়্যারের উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য, সিএসসির তত্ত্বাবধান ডরপ পিবিঅঅরএলপি পূনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ঢাকা হতে মাওয়া হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রথম ধাপে প্রকল্পে ৮২.৩৫ কিলোমিটার রেলপথে ক্ষতিগস্ত ৩৫৪৮ পরিবার রয়েছে। প্রকল্পটিতে ৩৫৮.৪১ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। ডরপ প্রকল্প এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা জরিপসহ, জেলা প্রশাসন কর্র্তৃক প্রদত্ত নগদ ক্ষতিপুরণ প্রাপ্তিতে সহায়তা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং দুস্থ ও দরিদ্রদের জীবিকায়ন পুনস্থাপন প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদান করছে। প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তরা ১৯৮২ সালে ভূমি অধিগ্রহণ আইনের আওতায় ক্ষতিপূরণ পাবেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘রামগতি উৎসব’

পারস্পরিক ভালোবাসার অনুপম দৃষ্টান্ত হয়ে রইল ‌‘রামগতি উৎসব’

সুলতান মাহমুদ আরিফ :: উৎসাহ, উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) সফলতার সাথে ...