‘দেখলাম ঢাকা অ্যাটাক’

ঢাকা অ্যাটাকআফরোজা সোমা:: দেখলাম ঢাকা অ্যাটাক। ভালো লেগেছে।

আমার দেশের পুলিশের দক্ষ, চৌকস, বীরত্বপূর্ণ উপস্থাপন দেখতে সত্যিই ভালোলেগেছে। আমাদের পুলিশকে আমরা যেমন দেখার স্বপ্ন দেখি, তেমনি সম্মানজাগানিয়া চরিত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে এই চলচ্চিত্রের গল্প।

এই প্রথমশুভকে আমার সিনেমার নায়ক হিসেবে পছন্দ হলো। পছন্দ হলো বললে কম বলা হবে, খুব ভালো লাগলো, মনে ধরলো। মনে হলো, এই নায়কের পরের সিনেমাও দেখা যেতেপারে।

শুভর শারীরিক সৌন্দর্য, তার লম্বা গড়ন, চওড়া বুকের ছাতি, এমনকি তার থুৎনির উপরে ডান দিকের কাটা দাগটাও এই সিনেমায় ওকে খুবচমতকারিত্ব দিয়েছে। সত্যি বলতে কি ওকে গোঁফটাতেও সেক্সিই লেগেছে ;)।

সোয়াত টিমের আশফাকের কণ্ঠস্বরটা ভীষণ সেক্সি। আর সে-ও দেখতে দারুণআকর্ষণীয় এবং অভিনয় করেছে দূর্দান্ত। কিন্তু সিনেমা দেখতে দেখতে আমার মনেপ্রশ্ন জাগলো, এমন সুন্দর অভিনয় করে আর এমন সুন্দর কণ্ঠস্বর ওয়ালা যুবকেরসিনেমা বা অন্য কোনো কাজ আগে চোখে পরে নাই কেন? (আপনারা যদি কেউ তার কাজআগে দেখে থাকেন জানাবেন তো, প্লিজ।)

শতাব্দি ওয়াদুদের অভিনয়ের আমিএকজন মুগ্ধ দর্শক। বিশেষত, মঞ্চে তার কাজগুলো দেখেই তার প্রতি আমারমুগ্ধতা জন্মেছে। তাই, তার মান অনুযায়ী তার ক্যারেক্টারটায় অভিনয় বিশেষকিছু দেখানোর ছিল না। কিন্তু এরপরো তার সবল উপস্থিতি ভালো লেগেছে।

আর দূর্দান্ত লেগেছে গল্পের ম্যানিয়াক বা ভিলেনকে।

আফরোজা সোমা

লেখক- আফরোজা সোমা

কাহিনীর মার-প্যাঁচ বা ক্লু বলে দিয়ে আপনাদের সিনেমা দেখার আনন্দ স্পয়েলকরতে চাই না। তাই ওই দিকে যাচ্ছি না। তবে, এই সিনেমায় চাটগাঁয়ের মেজবান-কেযেভাবে রঙ্গলীলা হিসেবে দেখানো হয়েছে তা সিনেমার জন্য পয়সা-উসুল-টাইপফূর্তিরই বটে। কিন্তু বাস্তবে এই দৃশ্যায়নের সাথে মেজবানের মিল কতখানি তাহ্য়তো চট্ট্রগামের লোকেরাই ভালো বলতে পারবেন।

সিনেমার মেকিংটাও ভালো লেগেছে। ঢাকাই বানিজ্যিক সিনেমার যে একটা ছাপমারাব্যাপার থাকে সেসব ঢাকা অ্যাটাকে নেই।লোটাস স্কুলে অ্যাটাকের আগে-আগেহুট করে বাসের ভেতর বাচ্চাদের গানটা একটু কেমন খটকা-খটকা লাগছিলো। হয়তোগল্পের বাঁক বদল আরো স্মুদ হতে পারতো। কিন্তু ঢাকা অ্যাটাক দেখে মনেহলো, থাক, এইসব খুব একটা ধর্তব্যে না আনলেই ভালো।

ঢাকা অ্যাটকেবিশেষ চোখে পরেছে, সাংবাদিকের উপস্থাপন। বাস্তবের সাংবাদিকদের সাথেবাস্তবের পুলিশের যে একটা অম্লমধুর সম্পর্ক তাই মনে হয়েছে এই সিনেমা দেখে।আর বাস্তবের পুলিশ যে বাস্তবের সাংবাদিকদের নিয়ে প্রায় সময়ই একটা বিড়ম্বনারমধ্যেই থাকে তা-ও মনে হলো।

তবে, ভালো লেগেছে সিনেমায় সাংবাদিক আরপুলিশের প্রেম। বিশেষত, গল্পের যে মুহূর্তে যেভাবে পরস্পরের মনের ভাবপুলিশ আর সাংবাদিক বিনিময় করে তা তো আমার বেশ উপভোগ্যই লেগেছে। হাজারহোক, সিনেমা বলে কথা!

আশা করি, আমাদের বাস্তবের পুলিশ একদিনসিনেমার পুলিশের দক্ষতা, বীরত্ব ও সততাকে ছাড়িয়ে যাবে; আমাদের পুলিশদেরনিয়ে নিঃসংশয় হয়ে আমরা আরো গর্বিত হতে পারবো; আর পুলিশ শব্দটা শুনলেইআমাদের মনে আসবে নির্ভরতা, সততা, সহযোগিতা ও নিশ্চিন্তি।

 

 

লেখক: অনুষদ সদস্য, মিডিয়া ও গণযোগাযোগ বিভাগ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বুড়িগঙ্গা

সমস্যা ও সম্ভাবনার বুড়িগঙ্গা

সুলতান মাহমুদ আরিফ :: পুরান ঢাকা বলতেই সবার চোখের সামনে ভেসে উঠে “সদর ঘাট” এর ...