দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী সংকল্প থাকা বাঞ্ছনীয়

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী সংকল্প থাকা বাঞ্ছনীয়বি এম সাজ্জাদ হোসেন :: পৃথিবীর বিভিন্নদেশে বাংলাদেশী কিনবা বাংলাদেশী বংশভুত বিদেশী নাগরিকগন বসবাসরত স্বস্ব-দেশগুলোতে উন্নয়নের জন্য অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা, প্রকৌশল, প্রযুক্তি বা দুযোর্গ-পুনু:বাসনের মত গুরুত্বপূর্ন কাজ সম্পাদন করে যাচ্ছেন সফলতার সাথে। তাহলে বাংলাদেশ কেন সফল হতে পারছে না। সমস্যা-টা কোথায়?

পৃথিবীর বিভিন্নদেশে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনার জন্য রেসকিউ টিম থাকে। এই টিম গঠিত হয় অনেক গুলো পেশাজীবি সংগঠনের সমন্নয়ে। বাংলাদেশে তেমন কোন সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। নেই সঠিক প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত জনবলও। অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অনেক দেশে যুবকদের ১৮ বছর পার হবার পর সামরিক বাহিনীতের তিন থেকে ছয় মাস-ব্যাপী বাধ্যতামুলক বিভিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়। দেশের প্রয়োজনে কঠিন সময়গুলোতে তারা রেসকিউ টিম গুলোকে সাহায্য করে থাকে।
বলা প্রয়োজন, যখন জিয়াদ নামে ছোট্ট শিশুটি পাইপের মধ্যে পরে যায়, তখন আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী একবার বলেছিলেন, শিশুটি জুস খাচ্ছে। তার কিছু সময় পরে বলেছিলেন, এই পাইপে কোন শিশুতো দুরে থাক, মশা-মাছি’রও অস্তিত্ব নেই। — অভিজান সমাপ্ত হবার পর, তিনজন বেকার যুবক (সামাজিকভাবে খুব বড়-কোন পেশায় তারা যুক্ত নয়) তাদের আবিষ্কার দিয়ে কমদামি ছো্ট্ট একটি ক্যামেরা দিয়ে শিশুর অস্তিত্ব খুজে পায় ও তাকে উদ্ধার করে।
বাংলাদেশে যারা সরকারী সংস্থায় কর্মরত তাদের বড় অংশই কাজের চেয়ে অকাজে বেশি মনযোগী। যারা সৎ ও কর্মঠ তারা যত দ্রুত পারে এইসব প্রতিষ্ঠান ছেড়ে পালায়। বিসিএস-এ নিয়োগ প্রাপ্ত ২৬ শতাংশ কর্মকর্তা তাদের কর্ম-জীবনের শুরুর দিকেই চাকুরী ছেড়ে দিয়ে চলে যায় (কোথায় যায়, নিজেরা ভাবতে থাকুন)। বাংলাদেশের সরকারী চাকুরীগুলো খুব-সহজ সরল মানুষগুলোর জন্য ভালো চাকুরী; মুলুত: যারা তাদের জীবনের তেমন কোন বড় রকমের ঝুকি নিতে প্রস্তুত নয়।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সৎ ও কর্মোঠ কর্মকর্তাদের মুখে শুনেছি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে তাদের ওয়াক-ফোর্সের শতকরা ৬০-৮০ ভাগ ব্যস্ত থাকতে হয়, সময় দিতে হয় তাদের রুটিন করা কাজের বাইরে। তাই তারা চাইলেও ভালো কিছু করতে পারেন না সময়, সুযোগ ও পরিবেশের কারণে।
কিছুদিন আগে জঙ্গি-আস্তানা ভাঙ্গার জন্য ফয়ার সার্ভিসের কর্মীদের ব্যবহার করা হয়েছিল তাদের পূর্ব প্রশিক্ষন ও জীবন রক্ষাকারী পোশাক প্রদান না করেই। ফলে ফায়ার সার্ভিস মত ছোট্ট একটি বাহিনীর জন্য অনেক ক্ষতি হয়েছে ছো্ট্ট একটু অব্যবস্থাপনার কারণে। প্রতি বছর যে-হারে পুলিশ-বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়, সে ভাবে ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ দেওয়া হয় না। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশেই পুলিশের চাইতে রেসকিউ টিমের গুরুত্ব অনেকবেশি এবং জনবলও অনেক বেশি থাকে, কেননা দুর্যোগকালীন সময়ে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত বে-সামরিক ব্যাক্তিগনও তাদের সাথে উর্দ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।
বাংলাদেশ প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক-ভাবে অনেক বেশি ঝুকিপুর্ন ও দুর্যোগপূন্ন। টর্নেডো, সিডর বা মানবসৃষ্ট-দুর্যোগ রানা প্লাজার ট্যাডেজি-সহ অনন্য অতীত অভিজ্ঞতাই বলে দেয়ে, বাংলাদেশে যত লোক দুর্ঘটনায় সাথে সাথে প্রাণ হারান, তার চেয়ে কয়েকগুলো বেশি মানুষ মারা যান দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধারে অধিক সময় ব্যায় হবার কারনে। লজিস্টিক্স ম্যানেজম্যান্টের ভাষায় এটাকে বলা হয় “লীড-টাইম-গ্যাপ”। যে কোন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়, লীড-টাইম-গ্যাপের পরিমান যত কম হবে, প্রানহানী বা অনান্য ক্ষয়-ক্ষতির পরিমানও তত কম হবে।
ইতিপুর্বে স্পার্টরাম ও রানা প্লাজা ধ্বসের পর হাজার হাজার মানুষের লাশের গন্ধ ও তাদের বিভৎস ছবি আমাদের হৃদয়ে তেমন কোন ক্ষত-চিহৃ স্থাপন করতে পেরেছে বলে মনে করতে পারছি না। আনুমানকরী, গত দু-দিনে পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় ধ্বসে প্রায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুও হয়তো আমাদের কাছে তেমন কোন নতুন বার্তা প্রদান করবে না। আর আমরা যারা দূর-প্রবাসে থাকি, তারা মনে মনে বলবো, ভালো থেকো বাংলাদেশ, অনেক অনেক ভালো।
লেখক: প্রবাসী বাংলাদেশী। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক টেলিকম প্রতিষ্ঠান ‘ডেলটাপাথ’-এর ইন্দো-এশিয়া অঞ্চলের সাপ্লাই চেইন এক্সর্পা্ট হিসাবে কর্মরত আছেন। Email: bmsajjad@gmail.com
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আরিফ চৌধুরী শুভ

বই পড়ার মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৬০ পয়সা!

আরিফ চৌধুরী শুভ :: একুশ শতকের গ্রন্থাগার এখন আর কেবল জ্ঞানের সংগ্রহশালাই নয়, ...