ব্রেকিং নিউজ

দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে নিয়ে তারা কিভাবে দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করবেন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ডেস্ক নিউজ :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে নিয়ে তারা কিভাবে দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করবেন? খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমান দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন এবং তারা যে অর্থ বিদেশে পাচার করেছে তা আমরা ফিরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। এখন ড. কামাল হোসেন, বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং মাহমুদুর রহমান মান্না এই দুর্নীতিবাজদেরকেই সঙ্গে নিয়েই লড়াইয়ে নেমেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর সম্মানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন।

রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের মিডটাউনের হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ শাখার সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বলানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি এ সময় অন্যান্যের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে কামাল হোসেন এবং বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বের প্রতি সংশয় প্রকাশ করে বলেন, তারা ক্ষমতায় এলে দেশটি অর্থপাচারকারী এবং লুটেরাদের রাজত্বে পরিণত হবে।

‘জোটের আরেক নতুন মুখ মান্না’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ডাকসু সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন জেনারেল জিয়া এবং এরশাদের সুনজরে থাকার কারনে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতকিছুর পরেও আমি চাইব তারা একটি দল গঠন করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করুক। তারা যদি জনগণের ভোট পায় তাহলে তারা ক্ষমতায় আসবে, তারা যেহেতু একটি জায়গায় সমবেত হতে পেরেছে সেজন্যও আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।’
কিন্তু সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টায় বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অপরাধটা কী? দোষটা কী? সরকার উৎখাত করতে হবে কেন? কী কারণে? কোন কাজটা করিনি দেশের জন্য?’

সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় সকলেই এখন বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেন, যেমন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং ট্যাব এবং এসব প্রযুক্তির ভালো এবং খারাপ দু’টি দিকই রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করার জন্যই আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, সাংবাদিকদের একটি অংশ এই আইনের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণায় নেমেছেন কিন্তু আমি পরিস্কার বলে দিতে চাই তারা এসব করছে নিজস্ব স্বার্থে, এসব ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সমাজের যে ক্ষতি সাধিত হচ্ছে সেদিকে দৃষ্টিপাত করে নয়।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় এ ধরণের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় (নিরাপদ সড়কের দাবিতে) সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করায় এবং তাঁর সরকারের প্রদত্ত লাইসেন্স গ্রহণ করে দেশে এখন বিপুল পরিমান সংবাদ পত্র এবং নিউজ চ্যানেল আত্মপ্রকাশ করেছে এবং তারা অবাধে তাদের নিজস্ব মতামত প্রচার করে যাচ্ছে।

বিগত ১০ বছরে দেশের চমকপ্রদ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য জনগনের প্রতি আহবান জানান।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এলামনাই এসোসিয়েশন: নির্বাচনে ইফাত সভাপতি, শাকিল সাধারণ সম্পাদক

স্টাফ রিপোর্টার :: ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্ৰথম এলামনাই এসোসিয়েশন (স্কুল অফ বিজনেস) ...