দুর্দশায় মতলেব কাজি: সহায়তা কামনা

দুর্দশায় মতলেব কাজিএম শরীফ আহমেদ, ভোলা থেকে :: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ২নং সাচড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দেউলা শিবপুর গ্রামের মৃত আছমত আলী কাজির একমাত্র ছেলে আঃ মতলেব কাজি (৭০) ৷ স্ত্রী বিবি হাজেরা(৪২) ও একমাত্র মেয়ে কুলছুম (১১) কে নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন ৷ দেখার কেউ নেই ৷ নিজের সম্পত্তি বলতে নাই কিছুই ৷ আছে শুধু বাঁশ ও সুপারী গাছের খুটি দিয়ে তৈরি টিনের একটা ঝুপড়ি ঘর ৷ ঘরের ভিতরটি সম্পূর্ণ ফাকা একপাশে একটা চৌকি আরেক পাশে কিছু হাড়ি-পাতিল জগ-গ্লাস ছাড়া আর কিছুই নেই ৷ তাও আবার বেড়ীবাঁধে সরকারি খাস জমির উপর৷
জানাযায়, প্রায় ১৭ বছর আগে থাকার জন্য স্থানীয় তেতুলিয়া নদীর বেড়ীবাঁধে একটি কুড়ের ঘর নির্মান করেন ৷ কিন্তু ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে তছনছ হয়ে যায় সেটি ৷ তারপর এলাকার মানুষের সাহায্য সহযোগীতায় বানানো হয় দুই চালা টিনের ঘর ৷ কিন্তু পিছু ছাড়লো না তার দুর্দশা।
বেড়ীবাঁধের যে স্থানে ঘরটি নির্মাণ করা হয় সে স্থানটি ঘর সহ ঢলে পড়ে ৷ পরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় অন্য পাশে ৷ কয়েক বছর যেতে না যেতেই ২০১৭ সালে কালবৈশাখী ঝড়ে আবারও বিদ্ধস্ত হয়ে যায় বসত ঘরটি ৷পুনরায় প্রতিবেশীদের সাহায্য সহযোগীতায় বানানো হয় বর্তমান দুই চালা টিনের ঘরটি ৷ মাথা গোজাবার ঠাঁই হলেও এখনও হয়নি জীবন চালানোর মতো কোন উপার্জনের ঠাঁই ৷
সংসার কিভাবে চলে, জানতে চাইলে আঃ মতলেব দু’চোঁখ মুছে আর বলেন, বাবা আমার আত্মীয় স্বজন বলতে কোন কেউ নেই ৷ আগে যে বিবাহ করেছি সে ঘরে তিন মেয়ে ছিল তাদেরকে অনেক কষ্টে বড় করে বিয়ে দিয়েছি তারা আমার খোঁজ নেয় না ৷ গায়ে (শরীরে) যখন শক্তি ছিল তখন মানুষের কামলা দিয়ে সংসার চালাতাম ৷ এখন বয়স বেশি হয়ে গেছে, শরীর দুর্বল হয়ে গেছে, চোঁখের দৃষ্টি শক্তি কমে গেছে ৷ তাই কেউ ডাকে না কাজেও নেয় না ৷ উপায় না পেয়ে এখন গ্রামে গ্রামে গিয়ে ভিক্ষা করে যা পাই তা দিয়ে কষ্টে সংসার চালাই ৷
সংসারে একটা মেয়ে আছে সে ৫ম শ্রেণীতে পড়ে ৷ এবার সমাপনী পরীক্ষা দিবে ৷ তার পড়ার খরচ চালাতে হয় ৷ সরকারী/বেসরকারি কোন কিছুই পাইনা ৷ আমি অসহায় বলে কেউ আমার খোঁজ খবরও নেয়না ৷ একটা বয়স্ক ভাতাও পাইনা সবই আমার কপাল ৷ আমার বয়স ৭০ এর বেশি জানিনা বাকি জিবনটা এমন ভিক্ষা করেই কাটবে কিনা ৷ আমি মারা যাওয়ার পর স্ত্রী ও মেয়েটিকে কে দেখবে?
এদিকে ভিক্ষায় চলা অভাব অনটনের সংসারেও একমাত্র মেয়ে কুলছুমকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছেন না তার বাবা-মা ৷ সে এবার ৩০নং দেউলা শিবপুর সরকারি প্রাইমারী স্কুল থেকে সমাপনী পরীক্ষা দিবে ৷ মেয়েকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে ভালো একটা পাত্রের কাছে বিয়ে দিতে চান তারা ৷ তবে এমন পরিবারটির এই আশা পূরণ হবে কি? উচ্চ শিক্ষিত করতে হলে এখনো পারি দিতে হবে অনেক পথ ৷ কিন্তু সে পর্যন্ত কে থাকবে তাদের পাশে আর কিভাবেই বা তা সম্ভব এমনই নানা প্রশ্ন তাদের ৷
জানতে চাইলে, স্কুল ছাত্রী কুলছুম বলেন, আমি পড়তে চাই ৷ বড় হতে চাই ৷ কিন্তু দারিদ্রতার কারনে মনে হয় আমি ৫ম শ্রেনীর পর পড়তে পারবো না ৷ যদি কেউ আমার পড়ার খরচ চালায় তাহলে আমি পড়ব, শিক্ষিত হয়ে অনেক বড় হব৷ সে জন্য কি চান? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকার যাতে থাকার জন্য আমাকে একটি ঘর দেয় এবং আমার মেয়েটিকে পড়াশোনার ব্যাপারে সাহায্য করে সেজন্য আকুল আবেদন করছি ৷
স্ত্রী বিবি হাজেরাকে কিছু জিজ্ঞাস করতেই কেঁদে দিয়ে এক কথায় বললেন, আপনারা তো দেখতেই পাচ্ছেন আমরা কেমন আছি ৷ আপনাদেরকে আর কি বলব ৷ কান্না জড়িত কন্ঠে আর কিছু বলতে পারেনি সে ৷
পরিবারটি সম্পর্কে জানতে প্রতিবেশী কয়েক জনের সাথে কথা বললে তারা বলেন, তারা একটা অসহায় পরিবার ৷ অনেক কষ্টে তাদের দিন কাটছে ৷ সে গরীব পরিবারের এবং বাবার একমাত্র ছেলে ৷ তাকে ছোট রেখেই তার বাবা মারা যান ৷ তাই সে সময় থেকেই সবাই যেভাবে পারছেন সাহায্য করেছেন এবং এখনও মাঝে মাঝে করেন ৷ কিন্তু এভাবে তো কোন সংসার চালানো যায়না ৷ এজন্য আমরাও এই অসহায় লোকটির জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ৷ পাশাপাশি সমাজের কোন বিত্তবান ব্যক্তি যাতে তাদের পাশ দাড়ায় ৷
এব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান  মহিবুল্লাহ মৃধার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করতে চাইলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি ৷
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পুনর্বাসনের মাধ্যমে ভিক্ষুকমুক্ত

পুনর্বাসনের মাধ্যমে ভিক্ষুকমুক্ত

মোনাসিফ ফরাজী সজীব, মাদারীপুর প্রতিনিধি :: পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে আজ শনিবার থেকে ...